শহীদ নূর আহমেদ
দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থায় রয়েছে ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের জুগলনগর-কামারগাঁও সড়ক। সড়কের ডাওকা নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় নদী পারাপারে জন দুর্ভোগের শেষ নেই । এলজিইডির বাস্তবায়নে দুই পর্যায়ে সড়ক সংস্কার ও ব্রীজ নির্মাণে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার বরাদ্দ হলেও সংস্কার কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে । চলতি বছরের জুন মাসে সংস্কার কাজ শেষ করার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে নাম মাত্র। সংস্কার কাজে নিয়োজিত রয়েছে দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের মেয়াদের সময় সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মাস বাকি থাকলেও নানা তালবাহানা দেখিয়ে কাজের গতি ধীর করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি।
এখনও আসেনি রাস্তা সংস্কারের বালি-পাথর। সংস্কার কাজের তথ্য চাইলে তথ্য দিতে খেয়ালিপনা আচরণ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। সংস্কার কাজ পিপঁড়া গতিতে চললেও জুন মাসের মধ্যে সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণ কাজ শেষ করা যাবে বলে বিশ্বাস করে এলজিইডি।
সরেজমিনে জানা জায়, ভাতগাঁও ইউনিয়নের প্রায় প্রায় ৮ কিঃমিঃ যুগলনগর-কামারগাঁও সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পুরনো সিসি ঢালাইকৃত রাস্তাটি এখন যান চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। সড়কের শ্রীমতিপুর থেকে হায়দারপুর বাজার পর্যন্ত এলাকা জুরে সড়কের ঢালাইয়ের অস্থিত্ব নেই। শুধু ধূলা আর ধূলা। এই সড়ক দিয়ে দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন ইউনিয়নের যুগলনগর, শ্রীমতিপুর, হায়দরপুর, মরলপুর, আসামপুর, কামারগাঁও সহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সড়কের পাশে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কিছু মসজিদ-মন্দির। ভাঙ্গা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে শত বিড়ম্বনা সইছেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে রাস্তাটি সংস্কারে গত বছরের শুরুতে দুই পর্যায়ে দুইটি টেন্ডার হয়। ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে যুগলনগর থেকে শ্রীমতিপুর পর্যন্ত দুইটি ব্রীজ ও ১ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কার এবং সাড়ে ৭ কোটি টাকায় শ্রীমতিপুর থেকে কামারগাওঁ পর্যন্ত ৭ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। ২টি ব্রীজ ও ১ কিঃমিঃ সড়কের টেন্ডার নেয় মেসার্স নরুল ইসলাম ও ৭ কিঃ মিঃ সড়কের টেন্ডার নেয় টাওয়ার এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু টেন্ডারের ১ বছর পার হয়ে গেলেও সংস্কার কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ৭ কিঃ মিঃ সড়কের মধ্যে মাত্র ২ কিঃমিঃ সড়কের সাব ঢালাই হয়েছে । এদিকে দুইটি ব্রীজের কেবল বেইজ বসানো হয়েছে। শুরু হয়নি ১ কিঃমিঃ সড়কের কাজ। চলতি বছরের জুনে সংস্কার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের সময়সীমা বাড়ানোর তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। এদিকে সংস্কার কাজের এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। জনর্দুভোগ নিরসনে তড়িৎ গতিতে কাজ সম্পন্ন করার দাবী তাদের।
জহুর মিয়া নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, যুগলনগর-কামারগাঁও সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। শুনেছি নির্মাণ কাজে প্রচুর বরাদ্দও এসেছে। কিছু কাজও শুরু হয়েছে। কাজের যে গতি, কবে যে সংস্কার কাজ শেষ হবে তা বলা যায় না। তাড়াতাড়ি সংস্কার কাজ শেষ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে।
ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, যুগলনগর-কামারগাঁও সড়কটি এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান একটি সড়ক। কিন্তু সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। যান চলাচলে অনুপযোগি। রাস্তাটি সংস্কারে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু কাজের গতি নেই বললেই চলে।
ছাতক উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সমেরেন্দ্র দাস তালুকদার,বলেন, যুগলনগর-কামারগাঁও সড়কের উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ চলছে। পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় সময়মত কাজ শুরু করা যায়নি। ব্রীজ ও সড়কের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা আশাবাদি তড়িৎ গতিতে বাকি সময়ের মধ্যে সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করা যাবে । না হলে সময় বাড়ানো হবে।
- ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগ বিশ বছর পর কমিটি ঘোষণা পূর্ণাঙ্গ হয়নি এখনো
- ঝিমিয়ে পড়া অলির বাজার হারিয়ে যাওয়ার পথে- সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি


