স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
প্রভাবশালীদের দখলে তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী। লাউড়েরগড় বালি পাথর সমিতি কর্তৃক বাদাঘাট ইউনিয়নের লোকজনদের কাছে যাদুকাটা নদীতে পাথর উত্তোলনের জন্য কোয়ারী বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সর্বস্তরের লোকজনের অংশগ্রহণে যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী, আদিবাসী নেতা দানিয়েল, শাহাব উদ্দিন,বালি পাথর শ্রমিক আবু বক্কর, রহিম মিয়া প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী নদী যাদুকাটা নদীতে বহু কাল ধরে পাথর ও বালি উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে তাহিরপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার ২০ হাজারের বেশী বালি পাথর শ্রমিক। দীর্ঘ দিন ধরে বালি পাথর উত্তোলনের ফলে যাদুকাটা নদীর তলদেশে বর্তমানে বালি পাথর কম থাকার কারণে গত দু’বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন নদীতে কোয়ারী তৈরী করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে। গত বছর উপজেলার ব্রাহ্মনগাঁও গ্রামে এক বালু পাথর শ্রমিক কোয়ারীতে পরে নিহত হওয়ায় জেলা প্রশাসন যাদুকাটা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী চক্র আবারো নদীতে কোয়ারী করে ড্রেজারের মাধ্যমে পাথর উত্তোলনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। লাউড়েরগড় বালি পাথর সমিতি নাম দিয়ে যাদুকাটা নদীতে প্রায় ২ শতাধিক কোয়ারী তৈরী করে শুধুমাত্র বাদাঘাট ইউনিয়নের লোকজনের কাছে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক একটি কোয়ারী বিক্রি করে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা টাকার বিনিময়ে কোয়ারী কিনতে চাইলেও তাদেরকে দেয়া হয় না বরং তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এতে করে গত সপ্তাহ খানেক ধরে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে উত্তর বড়দল ইউনিয়নবাসী। এ অবস্থায় বিষয়টি স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্প ও পুলিশ প্রশাসন হস্তক্ষেপ না করলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আশংকা ব্যক্ত করেন।
অভিযোগ রয়েছে লাউড়েরগড় গ্রামের উসমান মিয়া, বকুল মিয়া,জসিম উদ্দিন ও জামাল মিয়া যাদুকাটা নদীতে ৫ হাজার টাকার বিনিমিয়ে কোয়ারী বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের দখল পজিশন দিচ্ছেন। উত্তর বড়দল ই্উনিয়নের লোকজন টাকার বিনিময়ে পাথর কোয়ারী কিনতে চাইলে তাদের দেয়া হচ্ছে না বরং তাদেরকে মারধর করে নদী ছাড়া করা হচ্ছে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়গুফ টিলা গ্রামের ফরিদ মিয়া জানান, তিনি যাদুকাটা নদীতে গিয়েছিলেন কোয়ারী ক্রয় করে পাথর উত্তোলন করতে কিন্তু লাউড়েরগড় সমিতির সভাপতি উসমান মিয়া তাকে জানান বাদাঘাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের বাইরে অন্য কারও নিকট কোয়ারী বিক্রি করা হবে না। একই অভিযোগের কথা জানান, উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী, সম্্রাট মিয়া, আবু তাহের।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন,‘যাদুকাটা নদীর অবস্থান আমার ইউনিয়নে কিন্তু আমার ইউনিয়নের লোকজন নদীতে ব্যবসা করতে গেলে তাদেরকে ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে না লাউড়েরগড় বালি পাথর সমিতির লোকজন। এতে করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।’
লাউড়ের গড় বালি পাথর সমিতির সভাপতি উসমান মিয়া বলেন,‘নদীতে শুধুমাত্র বাদাঘাট ইউনিয়নের ব্যাবসায়ীরা পাথর উত্তোলন করছে এই বিষয়টি সত্য নয়।’
- মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল শিক্ষা ট্রাস্টের বৃত্তি প্রদান
- জেলা আ.লীগের কার্যক্রম চলছে দায়সারা গোছের- সভাপতি ও সম্পাদক দিয়েই বছর পার


