জামালগঞ্জ হাসপাতাল- কাজ না করেই ঠিকাদার উধাও

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ হাসপাতালে কোন ধরনের কাজ না করেই বিল তুলে উধাও হয়েছে ঠিকাদার। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কাজের চলতি বিল উঠিয়ে নিয়েছে ঠিকাদার। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
এর পরও কোন ধরনের প্রতিকার বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জানা যায়। এদিকে কাজ না করার কারণে হাসপাতালের পরিবেশও দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে। হাসপাতালের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীরা সুস্থ্য হওয়ার পরিবর্তে আরো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। পুরো হাসপাতালের স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে।  
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বদরুল ইসলাম গত বছরের ৩ মে সিলেটের জিন্দাবাজারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নর্থ সুরমাকে জামালগঞ্জ হাসপাতালের মেরামত, স্যানিটেশন ও রিপিয়ারিংয়ের জন্য ১৩ লক্ষ ৬২ হাজার ২৩৫ টাকার কার্যাদেশ প্রদান করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ দিনের মেয়াদ বেঁধে দিয়ে কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি শুধু মাত্র কয়েকটা জানালা আর কিছু স্যানিটেশন ও দুইটি রুমের বিদুৎতের ওয়ারিংয়ের কাজ করে কাউকে না জানিয়ে কোন ধরনের প্রত্যায়ন না নিয়েই সিলেটে চলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বার বার চেষ্টা করেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।        
পুরো বিষয়টি জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জেলা সিভিল সার্জন ও সিলেটের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে সিলেটের নর্থ সুরমা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আব্দুল আজিজের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের পর মোবাইল ফোনের সংযোগ পাওয়া গেলেও গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেয়ার পর সংযোগটি তিনি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেননি।  
জামালগঞ্জের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন,‘হাসপাতালের স্যানিটেশন ও মেরামতের জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিলো। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটা জানালা, আর ২ রুমের বিদ্যুৎতের ওয়ারিং ও সামান্য কিছু স্যানিটেশন কাজ করে কাউকে না জানিয়েই চলে যায়। আমরা বার বার তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। প্রয়োজনীয় মেরামত না করার ফলে হাসপাতালের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে গেছে। ঠিকাদারের কাজ না করার বিষয়টি সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় প্রধানকেও লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।  
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাকিম বলেন,‘ বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।