দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারের সীমান্ত এলাকা নরসিংপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রাম থেকে পাচারের সময় ছাতকের দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় পাচারকারী দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়খাল গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে শফিক মিয়া (৩০) কে আটক করলেও ছাড়িয়ে নেয় তার স্বজনরা। উদ্ধারকৃত দুই শিশু হলো ছাতকের লেবারপাড়ার আব্দুল কাদিরের ছেলে নাসির মিয়া (৮) ও সমসের আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৯)।
শফিককে আটক করা নিয়ে পুলিশ, বিজিবি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন শফিককে আটক করেছিল। তবে পুলিশ ও বিজিবির দাবি শফিককে কেউ আটক করেনি।
স্থানীয় অনেকেরই অভিযোগ, আটক শিশু পাচারকারী শফিক মিয়াকে জিম্মায় দেয়া, ছাড়া ও পুনরায় আটক করা আবার ছেড়ে দেয়া নিয়ে রীতিমত নাটক করা হয়েছে। তাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ না করে নিরাপদে ছেড়ে দেয়ার জন্য কিছু লোক তৎপর ছিল।
অভিযুক্ত শফিক মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তাকে শিশুপাচারকারী সন্দেহে আটক করার পর তিনি দাবি করেন, তার ভ্যানগাড়ি ঠেলানোর জন্য ওই শিশুদের বলেছিলেন। তবে শিশুরা জানিয়েছে, তাদেরকে টাকা দিয়েছে এবং সুন্দর পাহাড় দেখানোর কথা বলে ছাতক থেকে নিয়ে এসেছিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে শফিক মিয়া ছাতকের লেবার পাড়ার আব্দুল কাদিরের ছেলে নাসির মিয়া (৮) ও সমসের আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৯) কে সীমান্তের সুন্দর পাহাড় দেখানোর লোভ দেখিয়ে একজনকে ৭০ ও অন্যজনকে ১০০ টাকা দিয়ে তার ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে আসে। পরে সন্ধ্যায় পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় নিলে ওই শিশু ভয়ে ও বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী শফিক মিয়া পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকার লোকজন বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ঘিলাতলী নদীর তীর থেকে শফিককে ধরে বাংলাবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা জমির হোসেনের কাছে জিম্মা দেন। বুধবার রাতেই শফিককে তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় দেন জমির হোসেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় শফিককে এনে দেয়ার জন্য জমির হোসেনকে চাপ দেন স্থানীয় তিনটি বিজিবি ক্যাম্পের লোকজন। বেলা ১১ টায় জমির হোসেন ও তার স্বজনরা শফিককে বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিজিবির লোকজনের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে শফিক মিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে এখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বিজিবির সিলেট ৪৮ ব্যাটলিয়নের লাফার্জ ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রবিউল ইসলাম বলেন,‘আমরা কাউকে আটক করি নাই। শফিককে এনে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করিনি। এলাকার লোকজনও পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এলাকার লোকজন নরসিংপুর বাজারে দুই শিশুকে উদ্ধার করেছিল। পরে ইউপি বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান দুই শিশুকে তাদের অভিভাবকদের কাছে দিয়ে দেন।’
বাংলাবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘিলাতলী গ্রামের জমির হোসেন বলেন,‘বুধবার সন্ধ্যায় এলাকার লোকজন ঘিলাতলী নদী থেকে শিশু পাচারকারী সন্দেহে শফিক মিয়াকে আটক করেছিল। স্থানীয়রা তাকে আমার কাছে জিম্মা দিয়েছিল, আমি তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় দিয়ে দেই। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় সোনালী চেলা, বাংলাবাজার, লাফার্জ ক্যাম্পের বিজিবির লোকজন শফিককে এনে দেয়ার জন্য আমাকে চাপ দেয়। আমি শফিককে ডেকে এনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে নিয়ে বিজিবি ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হাজির করে দেই। কিন্তু পরে জানতে পারি কি কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’
বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রানা বলেন,‘শফিকের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। স্থানীয় লোকজন শিশু অপহরণকারী সন্দেহে তাকে আটক করেছিল। পরে বিজিবির লোকজন আমার কাছে তার সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, আমি এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে বলেছি তার সম্পর্কে অতীতে এধরনের কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। পরে বিজিবির লোকজনই তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ’
দোয়ারাবাজার থানার ওসি এনামুল হক বলেন,‘এলাকার লোকজন শিশু পাচারকারীর হাত থেকে দুই শিশু উদ্ধার করেছে খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পাচারকারীকে পায় নি। ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান উদ্ধারকৃত দুই শিশুকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করেছে। এঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।’
- ছাতকে হোটেল মালিক পিটিয়ে মারলেন কাস্টমারকে
- জারুলিয়ায় তিন নিহতের ঘটনায় দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য- মিছিল-সমাবেশে উত্তপ্ত দিরাই


