আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
নদী ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদসহ দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের ভয়াবহতায় উপজেলা সদরসহ আশপাশের গ্রামের অস্তিত্ব টিকে থাকবে কি-না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবীতে রাজপথে নেমেছেন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের জনতা। রোববার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নদী ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবীতে মানববন্ধন হয়েছে। নদীর ভাঙন প্রতিরোধে নানা প্রকল্প কাগজে-ফাইলে নেওয়া হলেও এর কোন অগ্রগতি নেই।
রোববার দুপুরে নদী ভাঙন রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নেবার দাবীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখার সময় দোয়ারাবাজার নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো.তাজুল ইসলাম বলেন,‘নদী ভাঙন রক্ষায় পাউবোসহ সংশ্লিষ্টরা যেভাবে ঢিমেতালে এগুচ্ছেন, প্রকল্পের অনুমোদন হয়ে কাজ শুরু হতে-হতেই হয়তো দোয়ারাবাজারের অস্তিত্ব থাকবে না’।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, গত প্রায় ৫০ বছর ধরে সুরমা নদীর দোয়ারাবাজার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। সদর ইউনিয়নের মুরাদপুর, মাছিমপুর, মংলারগাঁও ও মাজেরগাঁও গ্রাম একে একে গ্রাস করে নিয়েছে সুরমা। ৫০ বছর আগে এই গ্রামগুলো যারা দেখেছেন, এখন দেখলে চিনতেই পারবেন না। গ্রামগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে গেছে। এসব গ্রাম গ্রাস করতে করতে সুরমা নদীর দিক পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ইতিপূর্বে ৭০ টি দোকান, দুটি মসজিদ, ১ টি মাদ্রাসা, দোহালিয়া সরকারী খাদ্য গোদাম, উপজেলা পরিষদের সামনের ছাতক – দোয়ারা সড়কের মির্জাপুর অংশ, হাসপাতালের সামনের মাস্টারপাড়া অংশের সড়ক, সুরমা নদী পাড়ের খেওয়াঘাটের সিড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদী এগুচ্ছে উপজেলা পরিষদ ভবনের দিকে। ২৫ থেকে ৩০ গজ দূরেই উপজেলা পরিষদ ভবন। উপজেলাবাসী নদী ভাঙন ঠেকাতে মিছিল-সমাবেশ স্মারকলিপি-মানবন্ধন বার বার করলেও কোন কর্তৃপক্ষই দোয়ারাবাজারবাসীর এই সংকটের বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। 
দোয়ারাবাজারের মুরাদপুরের বাসিন্দা শামছুল ইসলাম বলেন,‘নদী ভাঙনে আমার দোকানটি বিলীন হয়ে গেছে, আমার ১০-১২ লাখ টাকা ক্রেতাদের নিকট বাকী-ই রয়েছে, আমি এখন পর্যন্ত দোকান নিয়ে বসতে পারিনি, আমার পাওনা বাকী টাকাই উঠবে কীভাবে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচবো কীভাবে?’
ভয়াবহ এই নদী ভাঙন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক সংসদে কথা বললেও কোন সুরাহা হয়নি দাবী করে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বললেন, ‘উপজেলা পরিষদের ভবনগুলো রক্ষা করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছি আমরা। উপজেলা পরিষদের সামান্য বরাদ্দ দিয়ে এমন ভয়াবহ ভাঙন ঠেকানো কোনভাবেই সম্ভব নয়’।
দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা আব্দুল হালিম বীরপ্রতীক বলেন,‘বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধে দোয়ারাবাজারের প্রায় ৮৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিয়েছেন। অনেকে শহীদ হয়েছেন। ৪ জন বীরপ্রতীক এখনো জীবিত আছেন। অথচ. এই জনপদটি এভাবে বিলীন হয়ে যাবে। এটি ভাবতেও কষ্ট হয় আমাদের। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, এই মহান নেতার কন্যা শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী, তিনি নিশ্চয়ই আমাদের আবদার গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন’।
দোয়ারাবাজার সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, ‘দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদসহ দোয়ারাবাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রকল্প হচ্ছে বা কাজ হবে, এমন কথা আমরা আর শুনতে চাই না, আমরা কাজ দেখতে চাই’।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছর উদ্দীন বলেন, ‘২০১৪ সনের সেপ্টেম্বর মাসে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠালেও এর কোন অগ্রগতি না হওয়ায় পাউবো’র পক্ষ থেকে একটি এবং সড়ক ও জনপথের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিছু অংশের কাজ করবে। পাউবো করবে কিছু অংশ। পাউবো’র কাছেই সড়ক ও জনপথ কিছু অংশের ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরি করে দেবার জন্য চিঠি দিয়েছে। আমরা সেভাবেই কাজ করছি’।
- বিদ্যালয়ে বই বিক্রি করছেন সরকারি এসসি বালিকার প্রধান শিক্ষক
- আইনজীবী পরিবর্তনের জের বিচার প্রার্থীকে মারধর


