স্মৃতিচারণ ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, নয় বন্ধন ছিন্ন করা…..’

অ্যাড. মাহবুবুল হাছান শাহীন

নব্বই দশকের জুড়ে ফিডব্যাকের গানের সঙ্গে অনেক কিছুই মেলানো যায়। ৩৩ বছরের এক তরুণের চলে যাওয়া শহর জুড়েই হাহাকার উঠছে। খুব দু:খের বিষয় প্রিয় অনুজ শাহাবউদ্দিনের মৃত্যু সংবাদ যখন পেলাম তখন শহর থেকে অনেক দূরে। তার জানাযায়ও শরীক হতে পারলাম না। এ দু:খবোধ আমার সারাজীবনই কুড়ে কুড়ে খাবে। তার বিদেহী আত্মার প্রতি রইল বিন¤্র শ্রদ্ধা।

সাহাবউদ্দিনের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ছিল খুব মজার। আমি তাকে জয়নাল চাচার ছেলে হিসেবে চিনতাম। রাজনীতির মাঠের কর্মী হিসেবে জানতান। প্রথম পরিচয়ে যখন বললাম আমি ছালাম উকিল সাহেবের ছেলে, সে চেয়ার ছেড়ে উঠে বলল- আপনি আমার বড় ভাই। আমার বাবা এবং আপনার বাবার পরিচয় এবং পথ চলা অনেক দিনের। চমৎকৃত হলাম বয়স ২৫ এর তরুণ হঠাৎ করেই ছোট ভাই হয়ে গেল।

যখনই দেখা হত আমি তার রাজনীতির ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে বললাম। কেন জানি আমার মনে হত রাজনীতি তার জন্য নয়। প্রায়ই এ কথা বললে প্রতিবাদ ছাড়াই হেসে উড়িয়ে দিত। এমন কর্মী বান্ধব রাজনীতিক বর্তমানে আমাদের রাজনীতিতে বিরল। মানুষের সঙ্গে মানুষের সুসম্পর্ক, মমত্ববোধ তাকে অনন্য করে ছিল। দূর থেকেই তা অনুভব করতাম।

প্রতিটা মৃত্যুই কষ্টের। আর তা যদি হয় শাহাবউদ্দিনের মত অকাল প্রয়াণ, তাহলে তার বন্ধু আত্মীয় স্বজন সুহৃদ সবাইকে মনে করিয়ে দেয় সেই চিরন্তন কথা ‘জন্মিলে মরিতে হয়’। তবুও কথা থেকে যায়। থেকে যায় মানুষের  আশা স্বপ্ন। বর্তমান এই সংকটাপন্ন রাজনীতির মাঠে সাহাবউদ্দিনের মত  তরুণের বড়ই প্রয়োজন ছিল। ছিল তার তার কর্মীদের বড়ভাই।

তবুও জীবন চলবে, তার স্বাভাবিক নিয়মে। মহান সৃষ্টিকর্তা তার পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য্য ধরার শক্তি দিন এই কামনা করি।

লেখক: সহকারী সম্পাদক, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর।