স্টাফ রিপোর্টার
দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ছাতকের জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়কাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ। বিদ্যালয়ের তালা ভেঙ্গে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির।
অফিস কক্ষের ভেতরে ৫ লিটারের একটি প্রেট্্েরালের কন্টেইনার পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতের কোন এক সময় এই নাশকতামূলক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শনিবার বিকালে ছাতক থানায় অভিযোগ করেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয়রা
জানিয়েছেন, এই বিদ্যালয়ের ভূমি বিরোধ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। পরিচালনা কমিটি নিয়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একই সাথে বিদ্যালয়ের সামনের ভূমি স্থানীয় লেগুনা-সিএনজি স্ট্যান্ড করতে চায় মালিক-শ্রমিকরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহর আলীর দাবি জোর করে গাড়ির স্ট্যান্ড স্থাপন করতে না পেরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বড়কাপন লেগুনা-সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ওলাস মিয়া ও শ্রমিকরা।
স্থানীয়দের আশংকা বিদ্যালয়ের ভূমি বিরোধ নিয়ে আদালতের চলমান মামলা ও পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই অগ্নিকান্ড সংগঠিত হতে পারে বলে। আবার লেগুনা মালিক-শ্রমিকরাও জোর করে বিদ্যালয়ের ভূমিতে স্ট্যান্ড করতে চায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাফতান মিজানুর রহমান জানান, কারা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এভাবে জ্বালিয়ে দিল তা আমি নিশ্চিত নই। বিদ্যালয়ের ভূমির মালিকানা ও কমিটি নিয়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ধারনা করছি শুক্রবার গভীর রাতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে প্রেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। অফিস কক্ষের ভেতরে প্রেট্রোলের খালি কন্টেইনার পাওয়া গেছে। ভোরে বিদ্যালয়ের আশপাশের লোকজন আগুন দেখতে পেয়ে পানি ঢেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।’ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহর আলী বলেন,‘ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে কোন বিরোধ নেই। গ্রামের পঞ্চায়েত আামাকেই সভাপতি থাকার জন্য বলছেন। বিদ্যালয়ের ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। আমাদের ধারণা জোর করে গাড়ির স্ট্যান্ড স্থাপন করতে না পেরে গাড়ির মালিক ও ড্রাইভাররাই প্রধান শিক্ষককে হয়রানী করার জন্য আগুন দিয়েছে। কারণ গত সোমবার জোর করেই গাড়ির স্ট্যান্ড করতে চেয়েছিল, প্রধান শিক্ষক বাধা দিয়েছেন। এসময় প্রধান শিক্ষককে তারা চাকরি খাওয়া ও দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল। এখনও বিদ্যালয়ের কিছু ভূমিতে গাড়ির স্ট্যান্ড রয়েছে।’
অভিযুক্ত সিএনজি গাড়ি চালক আব্দুল মালিক বলেন,‘স্কুল কমিটির সভাপতি নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমরা প্রধান শিক্ষককে কোন ধরনের হুমকি দেইনি। এসব অভিযোগ সঠিক নয়, দুই একদিনের মধেই আমরা গাড়ির স্ট্যান্ড অন্যত্র নিয়ে যাব।’
বড়কাপন লেগুনা-সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ওলাস মিয়া বলেন,‘আমরা সড়কের কিছু অংশ ও স্কুলের কিছু অংশ নিয়ে স্ট্যান্ড তৈরি করেছি। প্রধান শিক্ষক দেয়াল তৈরির জন্য বললে আমরা জানিয়েছি কাজ শুরু হলে স্ট্যান্ড সরিয়ে নেব। আমাদের কেউ প্রধান শিক্ষকে কোন কথা বলেনি। স্কুলের সভাপতি নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রধান শিক্ষক একেক সময় একেক পক্ষের সাথে থাকেন। স্কুলে আমাদের ছেলে মেয়ে পড়ে আমরা কেন আগুন দিয়ে পুড়তে যাব। যারা এসব কাজ করেছে তারা সবার দুষমন।’
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন বলেন,‘ বিদ্যালয়ের ভূমিতে জোর করে গাড়ির স্ট্যান্ড তৈরির বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের আগুন দেয়ার ঘটনাটি খুবই রহস্যজনক। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
- টাঙ্গুয়ার হাওরে দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন বিষয়ক সভা
- নিখোঁজ স্বামীকে খোঁজে হয়রান গৃহবঁধু রেশমা


