আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ঢাকায় ৩, সিলেটে ৬ মার্চ থেকে

সু.খবর ডেস্ক
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে শুরু হচ্ছে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭। আগামী ৩ মার্চ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবটির উদ্বোধন হবে। পরে ৬ মার্চ সিলেট অংশের উদ্বোধন হবে। সিলেট নগরীর আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ২ দিনব্যাপী এ উৎসবে থাকবে সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে প্রবাসীদের মিলনমেলায় নানা আয়োজন। শনিবার দুপুর ১২ টায় সিলেট স্টেশন ক্লাবে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন তথ্য জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসবের আহবায়ক আবু হোসেন চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়- ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সম্প্রীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের সামাজিক সংগঠন হিসেবে ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭’ শীর্ষক সম্মেলন ও মিলনমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ০৩ থেকে ০৪ মার্চ ঢাকায় এবং ০৬ থেকে ০৭ মার্চ সিলেটে এই উৎসব অনুষ্টিত হবে। ঢাকার মিরপুরে-১৪ নাম্বারের নেভী কলোনীর শহীদ মোয়াজ্জেম হলে উদ্বোধন হবে উৎসবের ঢাকার অংশ।
উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। প্রধান পৃষ্টপোষক গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স এর প্রধান উপদেষ্টা নাসির এ চৌধুরী ও প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার।
সিলেট কর্মসূচীর যুগ্ম সমন্বয়কারী জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এম মোমেন ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি এম কয়েস সামি। আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব আয়োজনে সিলেটে প্রায় তিনশত সদস্য বিশিষ্ট আয়োজক ও বাস্তবায়ন কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
মরমী সাধক হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শিতালং শাহ, সৈয়দ শাহনূর, আরকুম শাহ, বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের সংগীত ধারায় ¯œাত শ্রীচৈতন্যের পিতৃভূমি সিলেট। সিলেটের অনিন্দ্যসুন্দর নৈসর্গিক শ্যামলিমায় মুগ্ধ হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
এই জনপদের রয়েছে আরো অনেক বর্ণাঢ্য ইতিহাস। জাতীয় উন্নয়ন ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশের যে কয়েকটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা তার মধ্যে অন্যতম। ব্রিটিশ ভারতে সিলেটের গুনীজনদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘শ্রীহট্ট সম্মিলনী’। তারই ধারাবাহিকতায় দেশ-ভাগের পর সিলেট বিভাগের জনগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্রীয় সংগঠন ও মিলনকেন্দ্র হিসেবে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্টিত হয় ‘জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা’।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- এর আগে এই জালালাবাদ এসোসিয়েশন ও দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করেছিল ইন্দো বাংলা সিলেট উৎসব। ওই উৎসবে ভারত ও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার সিলেটবাসী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপরে আয়োজনকবৃন্দ প্রিয়ভূমি সিলেটেই এ আয়োজন অনেক বেশী তাৎপর্যবহ ও নন্দিত হবে মনে করেন। এ অনুধাবনের প্রতিফলনই হচ্ছে আন্তজার্তিক সিলেট উৎসব ২০১৭।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- উৎসবের স্মারক হিসেবে সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-সাহিত্য, ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, পর্যটন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেটের নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে একটি বস্তুনিষ্ট ও বর্ণাঢ্য স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। উৎসবে খ্যাতিমান শিল্পীদের গান, মরমী সাধকদের গান বই প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচী অন্তর্ভূক্ত থাকবে। বিদেশ থেকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীসহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারীর সমাবেশ ঘটবে।
এই উৎসবের মধ্যদিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিনোয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকবৃন্দ।
এই উৎসবের ঢাকা ও সিলেট দু’টি অংশেরই উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। এসময় আরো উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন, সিলেট বিভাগের অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি সিএম তোফায়েল সামি’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জগলুল পাশার পরিচালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করেপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বহিস্কৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, গোলাম মেহেদী চৌধুরী, সিএম কয়েস সামী, মঞ্জুরুল ইসলাম চৌধুরী, ফাহিমা চৌধুরী মনি, তাহমিনা আক্তার রুমি, প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ চৌধুরী প্রমুখ।