সু.খবর ডেস্ক
৪৬ বলে ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংস দিয়ে শুরু করেছিলেন এবারের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। তবে পরের তিন ম্যাচে একটু যেন মিইয়ে গেছেন তামিম ইকবাল। পরের দুই ম্যাচে ৪ ও ১৬ রানের পর আজ পেশোয়ার জালমির বাংলাদেশি ওপেনার করলেন ৩ বলে ৫ রান। খরা? এখনই বলাটা হয়তো বাড়াবাড়ি, তবে পরপর তিন ম্যাচে আর দেখা মেলেনি প্রথম ম্যাচের তামিমের।
তবে তামিম জ্বলে উঠতে না পারলেও আজ দুর্দান্ত খেলেছেন পেশোয়ারেই তামিমের সঙ্গী সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে ২৪ বলে করেছেন ৩০ রান। পরে বল হাতেও ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। পিএসএলে আজ লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে পেশোয়ার যে ১৭ রানে জিতেছে, তাতে অনেক বড় অবদান তো সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেরই।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে পেশোয়ার। প্রথম বলেই চার মেরে ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তামিম। পরের বলে সিঙ্গেল। কিন্তু ওয়াইড দিয়ে শুরু দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ‘বৈধ’ বলেই ক্যাচ তুলে দেন বোলার আমের ইয়ামিনের হাতে। তামিম আউট হলেও তাঁর ওপেনিং সঙ্গী কামরান আকমল খেলেছেন দুর্দান্ত। ৪০ বলে ৯ চারে করেছেন ৫৬ রান। আকমলের পাশাপাশি সাকিবের ৩০ ও আফ্রিদি-স্যামি-হাফিজ-স্যামুয়েলসদের দশের ঘরের ইনিংসে পেশোয়ার করে ১৬৬ রান।
সাকিবের ইনিংসে অবশ্য চার-ছক্কা খুব বেশি ছিল না। চার ২টি, ছক্কা ১টি। প্রথম ১০ বলে একটু দেখেশুনে নিয়েছিলেন, এক-দুই করে তাতে রান করেন ৬। আমের ইয়ামিনকে চার মেরে প্রথম বাউন্ডারির স্বাদ পাওয়া, পরের ওভারে গুলাম মুদাসসরের পরপর দুই বলে মারেন একটি চার ও ছক্কা। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে যখন আউট হলেন সাকিব, পেশোয়ারের রান হয়ে গেছে ১৫০। শেষ পাঁচ বলে যেটিকে ১৬৬-তে নিয়ে যান ড্যারেন সামি।
বোলিংয়ে অবশ্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সাকিব। চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে আসেন। ইনিংসের প্রথম ১৭ বলেই ৩৮ রান করে ফেলা লাহোর তখন শূন্য রানেই পরপর ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে (৩৮/৩)। তাতে আরও বড় ধাক্কা দিলেন সাকিব। প্রথম বলেই এলবিডব্লু করে দেন উমর আকমলকে। দুই বল পর আবার উইকেট, এবার এলবিডব্লু গ্র্যান্ট এলিয়ট। ৩৯ রানেই ৫ উইকেট নেই লাহোরের! পরের বলেও উইকেট প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন সাকিব, তবে অল্পের জন্য স্টাম্পিং থেকে বেঁচে যান সুনীল নারাইন। প্রথম ওভার শেষে সাকিবের বোলিং বিশ্লেষণ ছিল: ১-১-০-২! পরের ওভারটা অবশ্য ভালো হয়নি, ১৪ রান দিয়েছেন।
সাকিব পরে আর বোলিংই করেননি। লাহোরও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে করেছে ১৪৯ রান।


