বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ

সু.খবর ডেস্ক
বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ। এবার নবমবারের মতো পালিত হচ্ছে দিবসটি। দিবসটি উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনগুলোও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বেলা সাড়ে ১০ টায় নীল বাতি জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্তদের অংশ গ্রহণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকলকে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন অটিস্টিক শিশু কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে পরিবারের স্নেহ, ভালবাসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রী “বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম লক্ষ্য ২০৩০ : স্নায়ু বিকাশের ভিন্নতার একীভূত সমাধান’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিগত ৭ বছরে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। ’
‘আমরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান, সরকারি চাকুরিতে কোটা সংরক্ষণ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল স্থাপন, জাতীয় বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন, প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং অটিজম রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করেছি। আমরা অটিস্টিক ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় আইন ও বিধি প্রণয়ন করেছি।’
অটিস্টিক শিশুর শনাক্তকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদানে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিনাক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় অটিস্টিক শিশুদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক ধারণা ছিল। বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী কর্মসূচি গ্রহণের ফলে অটিস্টিক শিশু ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে।