৭ই মার্চ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন
৭ই মার্চ আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। সমগ্রজাতি পরবর্তি করণীয় ঠিক করতে মহানায়কের নির্দেশের প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছিল। ১৯৭১ সালের ৭ইমার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে কৌসল অবলম্বন করে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ছিলেন আর এটি ছিল স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা। এমন্তব্য অমর একুশে গানের রচয়িতা জীবন্ত কিংবদন্তি প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর।
৭ই মার্চ লন্ডন সময় সন্ধ্যা  সাড়ে ৭টায়  গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ৪৬তম বার্ষিকীতে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এমন্তব্য করেন।
আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ই মার্চ থেকে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তূতি নিতে শুরু করে। জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ইমার্চের ভাষণে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। শত্রুকে পরাস্থ করতে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা। ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষনা করলেন  ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি তোমাদের যার যা কিছু তা নিয়ে রুখে দাড়াও, শত্রুর মোকাবেলা কর।’’  আর বাস্তবে তাই ঘটেছিল। বঙ্গবন্ধু অবশ্য ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে বন্ধি হওয়ার পূর্বমুহুর্থে তৎকালীন ইপিআরের ওয়ার্লেস মারফত স্বাধীনতার লিখিত ঘোষনা চট্রগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা এম এ হান্নানের কছে পাঠিয়েছিলেন, এম এ হান্নান প্রথম কালুরঘাট বেতারে বঙ্গবন্ধুর ঘোষনা পাঠ করেন, পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে অনেকেই তা পাঠ করেন। গাফ্ফার চৌধুরী বলেন ঐতিহাসিক সাতই মার্চকে জাতীয় দিবস এবং দিনটিকে সরকারী ছুটির দিন ঘোষনার দাবী যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষন পৃথিবীর শ্রেষ্ট ভাষন গুলির অন্যতম। তিনি রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষনের স্মৃতিফলক নির্মানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন যে স্থানে দাড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীনতার ঘোষনা দেন সেই স্থানে ৭ই মার্চের ভাষনের স্মৃতিফলক তৈরী করা উচিত। তিনি আরো বলেন এটি কোন লিখিত ভাষন ছিলনা, বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে অনর্গল ভাবে তা বেরিয়ে এসছিল, তিনি বলেন এর পেছনে বেগম মুজিবের অবদান রয়েছে। আব্দুল গাফফার চৌধুরী বেগম জিয়ার প্রসঙ্গ এনে বলেন জিয়ার রহমান চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে ডিভোর্স করতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জিয়া খালেদাকে গ্রহন করে, আজকে এই খালেদা জিয়া জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকীতে ৫২ কেজি ওজনের কেক কেটে তার ভূয়া জন্ম দিন পালন করে। এর চেয়ে অকৃতজ্ঞ আর পৃথিবীতে নেই।  
গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন সময় সন্ধ্যে সাড়ে সাত ঘটিকায় ইষ্ট লন্ডনের ১০১ খৃষ্টান ষ্ট্রীটের হারকনেস হাউজ কমিউনিটি সেন্টারে  গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্উান্সিলার গবেষক নুরুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং জামাল আহমদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মি আনসার আহমেদ উল্লাহ, সাংবাদিক গবেষক মতিয়ার চৌধুরী সাংবাদিক সৈয়দ আনাছ পাশা, সাবেক প্রেস মিনিষ্টার সাংবাদিক সৈয়দ আবু মুসা হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা ফয়েজুল ইসলাম লস্কর, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, কয়েছ চৌধুরী, সাংবাদিক মকিছ মনসুর। সেমিনারে ৭ই মােের্চর উপর কবিতা আবৃত্তি করেন এডভোকেট মুজিবুল হক মনি, রুবি হক। সেমিনারে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষনের ভিডিও প্রদর্শন করা হয় । এখানে উল্লেখ্য যে দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে সাতই মার্চ নিয়ে গবেষনা করে আসছেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা নুরুদ্দিন আহমদ। তিনি কয়েকজন সহযোদ্ধাকে সাথে নিয়ে বৃটেনের রাজধানী লন্ডনে প্রতিষ্টা করেন ‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’’  এই সংস্থার মাধ্যমে নুরুদ্দিন আহমদ লন্ডন সহ ইউরোপ এবং বালাদেশে প্রতিবছর ৭ই মার্চে সেমিনার  করে আসছে সেই সাথে প্রতিষ্টানটি বড় ধরনের একটি প্রকাশনা ও ডকুমেন্টারী তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছে। গবেষনা প্রতিষ্ঠান ‘‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’’ সাতই মার্চকে জাতীয় দিবস ও সরকারী ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনা করার দাবী জানিয়ে আসছে। অনুষ্টানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আবু সাঈদ,মোস্তফা কামাল মিলন, আলিমুজ্জামান, সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু, আলী আহমদ, শারমিন ফারিহা, জুলিয়া বাসার,  হাসিনা হোনাইন তুহিন, রীনা মোর্শারফ, সৈয়দ নিয়াজ আহমদ, সাংবাদিক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল. অজয়ন্তা দেব রায়, শাহ সাফি কাদির, হেলাল আহমদ, রহমত আলী প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে সাবেক কাউন্সিলার গবেষক নুরুদ্দিন আহমদ ঐতিহাসিক ৭ইমার্চকে সরকারী ছুটি  জাতীয় দিবস ঘোষনার পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।