শহীদ নূর আহমেদ
ভর্তি হওয়ার পর থেকে মসজিদ উন্নয়নের জন্য বছরে কয়েক বার চাঁদা দিয়ে আসছি কিন্তু কই মসজিদের উন্নয়ন তো দেখছি না। আমি বর্তমানে অনার্স বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র। ভর্তি হওয়ার পর থেকে একাধিকবার রশিদ বইয়ের মাধ্যমে ৫০ টাকা করে কলেজ কর্র্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দিয়ে আসছি। আমার মত প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্র মসজিদ উন্নয়নে চাঁদা দিচ্ছে। কিন্তু টিনসেডের পুরাতন মসজিদটির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং অবহেলা অযতেœ মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে পুকুর পাড়ে।
মসজিদ উন্নয়নের নামে এত এত টাকা উত্তোলন করা হয়, অথচ মসজিদের উন্নয়ন হচ্ছে না তাহলে এই টাকা যায় কই?
কলেজ মসজিদ বিষয়ে আলোচনা হলে প্রতিবেদককে এমন প্রশ্ন করেন অনার্স বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের এক ছাত্র
এ বিষয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবুল বাসার ইমন, আবু সালেহ, আল আমীন, নার্গিস আক্তার, মাসুম আহমেদ, সুমন আহমদ,
শরিফুল ইসলামসহ একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, কয়েক ধাপে আমরা মসজিদের জন্যে টাকা দেই। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা হচ্ছে। অথচ মসজিদের ভবন নির্মাণ সম্পর্কে কথা হলে স্যাররা বলেন, ফান্ডে টাকা স্বল্প । স্বল্প টাকা দিয়ে নাকি মসজিদের জন্যে ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আমাদের কথা হচ্ছে যে টাকা আছে তা দিয়ে কেন মসজিদের কাজ শুরু করা হচ্ছে না। এত বড় কলেজে একটি পুরাতন মসজিদ, তাও খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। মসজিদের টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এ নিয়ে আমরা সন্দেহে রয়েছি।
অচিরেই মসজিদ ফান্ডের টাকা দিয়ে একটি মানসম্মত ভবন তেরী করার দাবী কলেজ শিক্ষার্থীদের।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজে বর্তমান অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার । এদের মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি। ২০১৪ সাল থেকে মসজিদ উন্নয়নে কলেজের মুসলিম শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়ে থাকে। একাদশ, দ্বাদশ, অনার্স, ডিগ্রি, মাস্টার্স এর ভর্তি, সেশন পরিবর্তন, পরীক্ষার ফরম পূরণ কালে এই চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এ পযর্ন্ত উত্তোলিত টাকার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। যা ব্যাংকে জমা রয়েছে। একটি মানসম্মত ভবন নির্মাণে এই টাকা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির উপর গুরুত্ব রেখে এই টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণে কাজ শুরু করতে স্থান নির্বাচনে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুস সত্তার।
তিনি বলেন, মসজিদ উন্নয়নের টাকা অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। মানসম্মত ভবন নির্মাণে মোটা অঙ্কের টাকা প্রয়োজন বিধায় কাজ শুরু করতে আমরা বিলম্ব করছি।
উল্লেখ্য, মুসলিম শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নামাজ আদায়ে কলেজের পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে একটি টিন সেডের পাঞ্জেগানা মসজিদ রয়েছে। যা পুরাতন ও অধিকতর দুর্বল। টিনসেডের মসজিদের সামনে একটি নলকূপ থাকলেও তা অকেজো অবস্থায় রয়েছে।
- সম্মেলন হচ্ছে না আজ- জেলা ছাত্রলীগের কমিটি হবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ মানববন্ধন


