এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে প্রেরণা মুক্তিযুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যগড়ার শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে জাতি আজ ৪৭ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করবে। ১৯৭১ সালের এই দিনটিতেই আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ডাক এসেছিল দেশকে হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করার। পাকিস্তানি শোষকের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ মাস বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছিল বিজয়। আজ আবার আমরা ফিরে তাকিয়েছি ৪৬ বছর আগের ১৯৭১ এর সেই আগুনঝরা দিনগুলোর দিকে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ।
শত বছরের স্বাধীনতা-উন্মুখ জাতি ১৯৪৭-এ ইংরেজদের বিদায়পবের্র মধ্য দিয়ে নিজেদের স্বাধীন ভাবতে শুরু করলেও ভাষার     
 প্রশ্নে বছর না ঘুরতেই বুঝে যায়, তখনও স্বাধীনতা অনেক দূরের পথ। ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি সেটা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। একদিকে শোষণ-নির্যাতন-বঞ্চনা, অন্যদিকে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সবশেষে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং নানা ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশের মতো ব্যবহার পুরো জাতিকে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই। রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে যখন বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে পুরো জাতির কাঙ্ক্ষিত সেই ধ্বনিই প্রতিধ্বনিত হয়; শেষ নির্দেশ শোনার অপেক্ষায় কেউ আর বসে থাকেনি। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে হিং¯্র পাকিস্তানি বাহিনী তার শ্বাপদ দাঁত-নখের পুরোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। রক্তে লেখা একটি দেশের আত্মপ্রকাশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় তার পরপরই।
২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকল সরকারি/বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণ, সকাল সাড়ে ৯টায় শরীরচর্চা প্রদর্শনী, সকাল ১০টায় শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন সময়ের স্থিরচিত্র নিয়ে ছবি প্রদর্শনী, বেলা সাড়ে ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা, দুপুর ১.৩০ মি. হাসপাতাল, জেলখানা ু শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিকাল সাড়ে ৩টায় সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও ক্রীড়ানুষ্ঠান, বিকাল ৪টায় সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ও কাবাডি প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৬টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরকারি ও সেরকারি ভবনে আলোকসজ্জা।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, যুব, নারী, শিশু ও পেশাজীবী সংগঠন দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।