বাঁধ ভেঙে দিরাইয়ের টাংনির হাওরে পানি ঢুকছে

আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
দিরাই উপজেলার টাংনির হাওরের বাদালিয়ার বাঁধ ভেঙ্গে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পানি ঢুকছে। হাওরের ৩৩ শ’ হেক্টরের মধ্যে অধিকাংশ ফসল তলিয়ে গেছে। অপর দিকে বরাম হাওরের তুফানকালী বাঁধ দিয়ে শুক্রবার ভোর থেকে পানি ঢুকে ৪৪ শ’ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে যায়। এ বাঁধে দুইদিন   
কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রাণপণ চেষ্টা করেও তা রক্ষা করতে পারেনি। তাদের অভিযোগ দুর্বল বাঁধের কারণে বাঁধগুলো ভেঙ্গে গেলেও যথাসময়ে সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় বাঁধটি রক্ষা করা গেল না। এ ছাড়া অসময়ে হাওরে পানি প্রবেশের ঘটনায় পাউবো’র মৌসুমী বাণিজ্যকেই দায়ী করছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। একে একে হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসলী জমি ডুবলেও ফসল রক্ষা বাঁধের দায়িত্বে নিয়োজিত পাউবো’র কর্মকর্তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। চোখের সামনে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায়  হাওর পাড়ের কৃষকরা বিলাপ করছেন।  স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রাণপণ চেষ্টা করেও উপজেলার বাদালিয়া, বৈশাখী বাধ ও তুফানখালী বাঁধ রক্ষা করতে পারেনি। তবে বাঁধে থাকা নিরুপায় কৃষকদের অভিযোগ, সময়মত সরকারদলীয় লোকজন যদি সঠিকভাবে কাজের তদারকি করতেন তা হলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হত না।
বাঁধের নামে বাঁধ বাণিজ্যের স্থায়ী সমাধান চেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বলেন, চাপতি হাওরে বৈশাখী, বরাম হাওরের তুফানখালী ও কডাইকালী এবং টাংনী হাওরের বাদালিয়া বাঁধ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) লোকজন সামান্য টাকায় সাবলীজ দিয়ে বরাদ্দের সিংহ ভাগ টাকা নিজেরা ভাগ বাটেয়ারা করে নেন। টাংনি হাওর উপ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কোন কাজই করেননি বলে অভিযোগ কৃষকদের।  বরাম হাওর উপ প্রকল্পের তুফানখালী বাঁধের দুটি অংশে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও পিআইসির সভাপতি ইউপি সদস্য লাল মিয়া মাত্র ৩ লাখ টাকায় তারই চাচাতো ভাই ওয়ারিদ মিয়া কে সাবলীজ দিয়ে দেন। চাপতি হাওর উপ প্রকল্পের বৈশাখী বাঁধের বরাদ্দ প্রায় ১৫ লাখ টাকা হলেও  পিআইসি’র সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস সামান্য টাকায় জালালপুর গ্রামের মতশ্বির মিয়াকে সাবলীজ দিয়ে দেন, একইভাবে বরাম হাওর উপ প্রকল্পের কডাইখালী বাঁধের বরাদ্দ প্রায় ১৫ লাখ টাকা থাকলেও পিআইসি ইউপি সদস্য শিমুল মিয়া সাবলীজ দেয় মতশ্বির মিয়াকে। সাব লীজ বাণিজ্যের কারণে এই বাঁধগুলোতে বরাদ্দের দশ ভাগের এক ভাগ টাকার কাজও হয়নি। সাব লীজকৃত বাঁধগুলো ভেঙ্গেই হাওরে পানি ঢুকেছে বলে কৃষকরা জানান। বাঁধ বাণিজ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে  তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধŸতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা।