স্টাফ রিপোর্টার
‘অত টেকা ভাড়া কেনে বা। ইলা ভাড়া ত বাংলাদেশের কোন এলাকাতউ নাই। তোমরার দেশও মেমানদার হইয়া আইরাম রে বা। তোমরা অলা ভাড়ার কথা কইলে তো অইত নায়। হক্কল টেকা তোমরারেই দিলাইমু নি। আমরা বাড়িত যাইমু কিলা। অতা কোন দেশও আইলাম রে বা।’
পণাতীর্থে যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে আব্দুজ জহুর সেতুর পূর্ব পাশে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে সিএনজি চালকের সাথে এভাবেই কথা বলছিলেন সিলেটের বাগবাড়ি এলাকার সুবল দাস (৪৫)।
শুধু সুবল দাসই নয়, এভাবে হাজার হাজার তীর্থ যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই সোমবার দিনভর তাহিরপুরের পণাতীর্থ ও শাহ আরেপিন মোকামে গিয়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ এসব রোধে প্রশাসনের কাউকে পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জ শহরের হাছন নগরের বাসিন্দা অঞ্জন চৌধুরীর আত্মীয় সিলেটের বিয়ানী বাজারের রামদা গ্রামের বাসিন্দা হারান কান্তি শ্যাম সোমবার বিকালে পণার্তীতে গিয়েছেন। আব্দুজ জহুর সেতুতে যাওয়ার পর সিএনজি চালক তার কাছে রিজার্ভের ভাড়া ২ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে শহরের আত্মীয়-স্বজনরা দরদাম করে ১৬০০ টাকায় রিজার্র্ভ করে দেন।
জানা যায়, যাদুকাটার তীরে পণাতীর্থ ও একই এলাকায় শাহ্ আরপিনের ওরশ মোবারক উপলক্ষে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের আইন শৃংখলা কমিটির বিশেষ সভায় যাত্রী পরিবহনকারী যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। সভায় আব্দুজ জহুর সেতু থেকে পণাতীর্থ বারুনি মেলা ও শাহ আরেপিন মোকাম পর্যন্ত লেগুনার ভাড়া জন প্রতি ৮০ টাকা, সিএনজি জন প্রতি ১২০ টাকা (সিএনজি রিজার্ভ ৬০০ টাকা), মোটরসাইকেল জনপ্রতি ১৫০ টাকা (দুই জন যাত্রী এক সাথে ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আনন্দ বাজার থেকে বারুনী মেলা পর্যন্ত ৪০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে বা তীর্থ যাত্রীদেরকে হয়রানী করা হলে কঠোর শাস্তির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সোমবার দিনভর তীর্থ যাত্রী ও শাহ আরেপিন ওরস গামী যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছাখুশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার আব্দুজ জহুর সেতু থেকে লেগুনা ভাড়া ৮০ টাকার স্থলে জনপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সিএনজি ভাড়া ১২০ টাকার পরিবর্তে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪০০ টাকা, মোটরসাইকেল ভাড়া ১৫০ টাকার স্থলে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আদায় করছে চালকরা। ভাড়া আদায়কালে আইন শৃংখলা বাহিনী বা প্রশাসনের কাউকে সেতু এলাকায় দেখা যায়নি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন,‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন,‘এত বেশী করে ভাড়া আদায় করার সুযোগ নেই। আমাদের মোবাইল টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। কারো কাছ থেকে এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তাহিরপুর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন,‘ আবহাওয়া খারাপ থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে হয়ত দু’একজন চালক বেশী ভাড়া আদায় করছে। অধিকাংশ ঘটনাস্থল সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর থানা এলাকায়। আমাদের এলাকায় খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। কোন চালকের বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠিন ব্যবস্থা নেব আমরা।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন,‘রাস্তায় যাত্রী পরিবহন ও ভাড়ার বিষয়টি বিশ্বম্ভরপুরে নির্ধারণ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এখনই পুলিশকে বলে দেয়া হচ্ছে।’


