এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
‘গোলা ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু’ প্রবাদটি আবহমানকাল ধরে বাংলার কৃষকের সুখ সমৃদ্ধ জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু এবার হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে কৃষকের যে দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে তাতে সেই প্রবাদ ম্লান হয়ে গেছে। এবার কৃষক একদিকে যেমন গোলায় এক ছটাক ধান তুলতে পারেনি অন্যদিকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ও ঋণ শোধ করতে গোয়াল খালি করে গরুগুলো পানির দামে বিক্রি করছেন। ফলে এবার হাওরাঞ্চলের কোথাও ‘গোলা ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু’ দেখা যাবে না।
বৃহত্তর সিলেটে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা গরুর হাট অন্যতম। এখানে প্রতি
বৃহস্পতিবার গরুর হাট বসে। গত দুই হাটে ধর্মপাশা উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার হাজার হাজার কৃষক তাদের গরুগুলো বিক্রি করেছেন। প্রয়োজনের তাগিদে কেউ কেউ বুধবার দুপুরেই এ হাটে গরু তুলেছিলেন। সাধারণত ধর্মপাশা মধ্যবাজারে গরু হাট বসলেও গত দুই হাটে এতো বেশি গরু উঠেছিল যে শুধু মধ্যবাজারে জায়গা হচ্ছিল না। ফলে কৃষকেরা তাদের গরু নিয়ে থানার সামনে থেকে শুরু করে শয়তানখালী ব্রীজের পূর্বপাড় পর্যন্ত অবস্থান করছিল। এছাড়াও হাসপাতাল সড়কের আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা সড়ক পর্যন্ত কৃষককে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার হাটে এসেছিলেন কয়েক হাজার কৃষক। এদের মধ্যে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক আলী নূর বলেন, ‘গেছে বিসুধবারে (বৃহস্পতিবার) আমার তিনডা গরু বেইচ্চা (বিক্রি) ঋণ শোধ করছি। আইজ আরো দুইডা বেচতাছি। আমরাইতো খাইতে হাইতামনা, গরুরে কেমনে খাওন দিয়াম? বেচা ছাড়া আর কোনো গতি নাই।’
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ফসল তুলতে না পেরে কৃষক তার গরুগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে। এবার কৃষকের গোলা-গোয়াল দুটোই খালি। এ হাটে এর আগে কখনো এতো গরু নিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এতে বুঝাই যাচ্ছে যে এবার কৃষক কতটা অসহায়।’
- তারা কয় ইস ইস, কৃষক পায় দিস্
- ফসলহানির ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মনিটরিং কমিটি গঠন


