চাল নিতে আসা মানুষের হাহাকার শুনলেন অতিরিক্ত সচিব

জগন্নাথপুর অফিস
চাল নিতে আসা অভাবি মানুষের হাহাকারের কথা শুনলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান। বুধবার তিনি জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই এলাকায় একটি ওএমএস’র চাল কেন্দ্র পরির্দশনে গেলে লাইনে দাঁড়ানো শত শত নারী পুরুষ তাদের দুঃখ দুর্দশা ও চাল না পাওয়ার কথা জানান।
ওই সময় লাইনে দাঁড়ানো অপেক্ষামাণ নারী পুরুষরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ওএমএসএস কেন্দ্র চালুর দাবি জানালে অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান    বলেন, সরকার আপনাদের পাশে আছে। অকাল বন্যায় ফসলহানির ঘটনায় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে কাজ করছে। আপনারা যাতে আরো সহজে চাল পেতে পারেন সে জন্য চাল কেন্দ্র আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের আপনাদেরকে সব রকম সহায়তা করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা বেগম, থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর অর রশিদ চৌধুরী প্রমুখ।  
ওএমএস এর চালের জন্য লাইনে দাঁড়ানো পৌর এলাকার ইকড়ছই গ্রামের জবর আলী এ প্রতিবেদককে জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিনি লাইনে আছেন কিন্তুু চাল পাচ্ছেন না। লাইনে অতিরিক্ত লোকজন থাকায় চাল না পেয়েই তাকে আটা নিয়ে ফিরতে হয়েছে।  
ছমিরুন নেচ্ছা জানান, রাত ১২টা থেকে তারা কয়েকজন লাইনে দাঁড়িয়ে সকাল ১০টায় চাল পেয়েছেন। এত কষ্ট করে চাল নেয়া দুস্কর হয়ে উঠেছে বলে জানান সত্তরোর্ধ্ব এ নারী।
জানা যায়, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় বর্তমানে ওএমএসএর ডিলার রয়েছে মাত্র তিন জন। ডিলাররা প্রতিদিন ২০০ জন মানুষকে ৫ কেজি করে চাল ও ২০০ জনকে ৫ কেজি করে আটা দিচ্ছেন।   
ওএমএসএর ডিলার আবুল হাসান জানান, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মানুষ থাকায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। নির্ধারিত লোকজনের মধ্যে চাল ও আটা ক্রয়ের পর বাড়তি লোকজনের মধ্যে চাল দিতে না পাড়ায় গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে।   
এদিকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে হতদরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করেন।
তিনি ৫০ জনের হাতে নগদ তিনশত টাকা ও ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
পরে তিনি নলুয়ার হাওরে পানি পরীক্ষা করে পানি দূষণমুক্ত করার ঔষধ দেন। তিনি চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়িত বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নতুন ভবনের কাজ পরির্দশন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।