বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরাঞ্চলের ১৫ টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারে (নদী বা খালে) রাবার ড্যাম নির্মাণ করতে চায় এলজিইডি। এলজিইডি’র দাবি জেলার ৪ টি এলাকায় পাহাড়ী ঢল এবং হাওরের ফসল রক্ষায় নদীর পানি ঠেকাতে এবং ফসল উৎপাদনের জন্য পানি আটকাতে ৭ বছর আগে দুটি এবং দুই বছর আগে করা দুটি রাবারড্যাম এবারের হাওর বিপর্যয়ে কাজে লেগেছে। ঐ রাবারড্যামগুলো দিয়ে পানি ঢুকেনি। এলজিইডি’র দাবি প্রস্তাবিত রাবারড্যামগুলো বাস্তবায়ন হলে সুনামগঞ্জের হাওরবাসী উপকৃত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনো কোন আশ্বাস দেননি। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এই বছরের ১৩ ফেব্রুযারি এই প্রকল্প প্রস্তাবনা এলজিইডি’র সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ের রাবারড্যাম বিশেষজ্ঞ এবং সুনামগঞ্জের কর্মকর্তারা জেলার হাওরাঞ্চল ঘুরে পাহাড়ী নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৫ টি ক্লোজারে রাবারড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
প্রস্তাবিত রাবারড্যামগুলো হচ্ছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মহাসিং নদীর উপর আস্তমা-আসামপুর রাবারড্যাম। এই রাবারড্যাম নির্মিত হলে ১০০০ হেক্টর জমি অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। ১১৫ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যামে ব্যয় হবে ১৯ কোটি টাকা। ছাতকের হালদা নদীর উপর ট্যাঙ্গার খাল চাউলি হাওর রাবার ড্যাম। এই রাবারড্যাম নির্মিত হলে ৭৮০ হেক্টর জমির আবাদ এবং ফসলডুবি থেকে রক্ষা পাবে। ১০০ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যাম নিমাণে ব্যয় হবে ১৭ কোটি টাকা। ধর্মপাশার মহেশ খোলা নদীর উপর রাবার ড্যাম। এটি নির্মিত হলে ১০০০ হেক্টর জমির আবাদ ও ফলন নিশ্চিত হবে। ১০০ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যাম নির্মাণে ব্যয় হবে ১৭ কোটি টাকা। বাদশাগঞ্জ খরমা নদীর উপর রাবারড্যাম। এই রাবারড্যামও ১০০০ হেক্টর জমির ফলন নিশ্চিত করবে। ধর্মপাশার রূপের ছড়া নদীর উপর রূপনগর রাবারড্যাম। এটি ৮০০ হেক্টর জমির ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করবে। ৬০ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যামটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ কোটি টাকা। একই উপজেলার টঙ্গীখাড়া নদীর উপর রাবারড্যাম নির্মাণ হলে ৭৫০ হেক্টর জমির ফলন ওঠার নিশ্চয়তা হবে। ৬০ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যাম নির্মাণে ব্যয় হবে ১১ কোটি টাকা। হালদা নদীর উপর রাবারড্যাম হলে ৫৫০ হেক্টর জমির ফসলের নিরাপত্তা দেবে। ৮০ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যামে ব্যয় হবে ১৪ কোটি টাকা। উপদাখালী রাবারড্যাম নির্মিত হলে ৬৫০ হেক্টর জমির ফসল উৎপাদনের নিশ্চয়তা হবে। ৯০ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যামে ব্যয় হবে ১৬ কোটি টাকা। তাহিরপুরের লাখমা ছড়া রাবারড্যাম হলে ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল উৎপাদন নিশ্চিত হবে। ৫০ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যামে ব্যয় হবে সাড়ে ৮ কোটি টাকা। বাগলীছড়া রাবারড্যাম নির্মাণ হলে ৫০০ হেক্টর জমির ফলন নিশ্চিত হবে। ৫০ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যাম নির্মাণে ব্যয় হবে সাড়ে ৮ কোটি টাকা। রঞ্জু ছড়া রাবারড্যাম নির্মাণ হলে ৪০০ হেক্টর জমির ফসল বিপদমুক্ত হবে। ৩০ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যাম নির্মাণ করতে ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। জগন্নাথপুরের কাটাগাং নদীর উপর বড়ডহর রাবার ড্যাম নির্মাণ হলে ৮০০ হেক্টর জমির ফসল নিরাপদ হবে। দিরাই উপজেলার কালনী নদীর উপর বৈশাখী রাবারড্যাম নির্মাণ হলে ৭০০ হেক্টর ফসল রক্ষা হবে। ১৩০ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যাম নির্মাণে ব্যয় হবে ২২ কোটি টাকা। বোয়ালিয়া রাবারড্যাম নির্মাণ হলে ১০০০ হেক্টর জমির ফসল উৎপাদনের নিশ্চয়তা হবে। ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যাম নির্মাণে ব্যয় হবে ৫০ কোটি টাকা। দোয়ারাবাজারের সোনালী চালা রাবার ড্যাম নির্মাণ হলে ৬৫০ হেক্টর জমির ফসল উৎপাদন নিশ্চিত হবে। ৮০ মিটার দীর্ঘ এই রাবারড্যাম নির্মাণে ব্যয় হবে ১৪ কোটি টাকা।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘২০১০ ইংরেজিতে দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামারা রাবারড্যাম এবং ধলাই রিভার রাবারড্যাম হয়েছে। গত বছরে বিশ্বম্ভরপুরের গজারিয়া খালে ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ঘাঘটিয়া খালে এলজিইডি ৩০ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম করেছে। পুরো জেলায় এবার ফসলডুবি হলেও আমাদের কোন রাবারড্যামের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করেনি। আমাদের চারটি রাবারড্যামের পাশেই কৃষকদের সমিতি আছে। এই সমিতিতে তারা টাকা সঞ্চয় করেন। এই টাকা আমরা নেই না। তারাই তাদের নিজেদের বিপদে-আপদে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে লাগান। সমিতির নির্বাচন হয় ৩ বছর পর পর। রাবারড্যাম গুলোর টুকটাক সংস্কার কাজ এলজিইডি টাকা দিলেও সমিতির লোকজনই করান। সমিতির লোকজন রাবারড্যামটিকে তাদের নিজেদের সম্পদ মনে করেন। রাবারড্যামের পাশে সমিতির অফিস ঘর আছে। আশপাশের সমিতির সদস্যরা প্রতিদিনই এখানে এসে বসেন। আমরা মনে করছি, হাওর এলাকায় এই প্রকল্পগুলো সফলতার উদাহরণ। আমরা প্রকল্পগুলোর প্রস্তাবনা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। প্রকল্পের অনুমোদন হলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ের রাবারড্যাম প্রকল্পের পিডি রেজাউল বারী শাহীন বলেন,‘আমরা সুনামগঞ্জের রাবারড্যামের প্রকল্পগুলো’র নানা তথ্য সংগ্রহ করেছি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পাওয়া যায়নি।’


