আদিবাসী নারীকে হুমকি দিলেন ইউএনও

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক আদিবাসী নারীকে মুঠোফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে ওই আদিবাসী নারী গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। হুমকির শিকার ওই নারী  উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক নারী ইউপি সদস্য ও ট্রাইবেল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সদস্য অনুরাধা দেবী হাজং।
অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন,‘ আমি ওই আদিবাসী মহিলাকে খারাপ কোন কথা বলিনি। ভয়েস রেকর্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি
বলেন, আমার কথোপকথন বিকৃত করে থাকতে পারেন তিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
তবে অনুরাধা দেবী হাজং অভিযোগ করে জানান, কল লিস্ট চেক করলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে তিনি কি বলেছেন। আমি ভয়েজ রেকর্ড সংরক্ষণ করেছি। অভিযোগের সাথে জেলা প্রশাসক মহদোয়কে সেই অশ্লীল গালি গালাজ- হুমকি দেয়ার কথোপকথনের প্রমাণও দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ইউএনও এখন মিথ্যাচার করছেন।
শ্রী অনুরাধা দেবী হাজং জানান, সম্প্রতি উপজেলার নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য ইউএনওর দপ্তরে সরকারী অনুদানের ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কয়েকজন আদিবাসীকে নিয়ে কয়েকদিন ইউএনওর কার্যালয়ে যান তিনি। কিন্তু ইউএনও’র সাক্ষাত বা কথা বলার সুযোগ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। পরে বাড়িতে গিয়ে মুঠোফোনে ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। গত ২৫ জুন রোববার এ বিষয়ে কথা বলা এবং সাক্ষাত না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ইউএনওকে মুঠোফোনে এসএমএস পাঠান তিনি। এসএমএস পাঠানোর কিছ্ক্ষুণ পর ইউএনও নিজেই তার মুঠোফোন থেকে অনুরাধা দেবীকে কল করে মানহানিকর কথাবার্তা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম জানান, তাহিরপুরের ওই আদিবাসী নারী বিষয়টি আমাকে ইতিপূর্বে মুঠোফোনে অবহিত করেছেন। ওই নারীর সাথে ইউএনও’র এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি। এঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ওই আদীবাসীদের সংগঠন নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তীরণ দ্বন্দ্ব ও মামলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।