স্টাফ রিপোর্টার
বাউলস¤্রাট শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টিকে ধরে রাখা এবং তাঁর জীবন-দর্শনের চর্চার জন্য উজানধল গ্রামে তাঁর জন্মভিটায় শাহ আবদুল করিমের নামে একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠেছে। শাহ আবদুল করিমের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের লোক উৎসবের
সমাপনী আলোচনায় বক্তারা এই দাবি জানান।
আলোচনা এবং গানের মধ্যদিয়ে গতকাল শনিবার এই উৎসব শেষ হয়। শাহ আবদুল করিম পরিষদের উদ্যোগে গত শুক্রবার থেকে দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে এই উৎসব শুরু হয়।
শনিবার বিকালে পরিষদের সভাপতি শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূর জালালের সভাপতিত্বে সমাপনী আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন করিমের বাল্যবন্ধু লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ আবদুর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন সুনামগঞ্জ হাসন রাজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সামারীন দেওয়ান। আলোচনায় অংশ নেন শাহ আবদুল করিম ফাউন্ডেশন লন্ডন শাখা কমিটির সভাপতি শেখ আবদুল গফুর, সাংস্কৃতিককর্মী আবুল আজাদ, শাহ আবদুল করিম ফাউন্ডেশন দিরাই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, পরিষদের অন্যতম সদস্য এ কে কুদরত পাশা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শাহ আবদুল করিম এখন শুধু দিরাই, সুনামগঞ্জ কিংবা সিলেটের নয়, তিনি তাঁর সৃষ্টি ও কর্মগুণে বিশ্ববাসীর একজন হয়ে ওঠেছেন। তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য গান গেয়েছেন। চিন্তাভাবনায় তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক। তাঁর গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর সৃষ্টিকে ধরে রাখতে এবং এর চর্চার জন্য উজানধল গ্রামে তাঁর নামে একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শাহ নূর জালাল বলেন, এবার দেশের বিভিন্নস্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাউল করিমের জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। বিদেশেও অনুষ্ঠান হচ্ছে। উজানধল গ্রামে আমরা ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর এই উৎসব করে আসছি। মাঝখানে সাত বছর বিভিন্ন বেসরকারি মুঠোফোন কোম্পানি উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। এবার সরকার কিংবা অন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।
আলোচনার পর বাউল করিমের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে শাহ আবদুল করিমের গান।
- হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ মাজার জিয়ারত করলেন ব্যারিস্টার ইমন
- ধোপাজানে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন


