পাগলাবাজার প্রতিনিধি
রাস্তা ভেঙ্গে গর্ত হয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার বেহাল দশা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় উন্নতমানের কোনো সংস্কার বা নির্মাণ কাজ না হওয়ায় রাস্তার এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ পাগলা বাজার এলাকায় রাস্তার উন্নতমানের দর্শনীয় কোনো কাজ হচ্ছে না। যদিও দুএক জায়গায় হচ্ছে সেখানেও আছে কাজের অনিয়ম। পর্যাপ্ত পরিমাণ বালি, পাথর ও বিটুমিনসহ প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে না এসব জায়গায়। তাছাড়া বর্ষাকালে রাস্তার কাজ ধরিয়ে কাজ সমাপ্ত না করেই কিংবা বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে দুর্বল কাজ করে দায়সারাভাব দেখায় সড়ক ও জনপথ (সওজ)’র লোকেরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাগলা বাজার এলাকায় পুরোটা রাস্তা ভেঙ্গে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে কাদাযুক্ত হয়ে থাকে বাসস্ট্যান্ডের সমস্ত এলাকা। এসময় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থী, সাধারণ ব্যবসায়ী, যানবাহন চালক ও যাত্রীসহ এলাকার সাধারণ মানুষের। রাস্তার এমন অবস্থায় পাগলা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, পাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাইজিং সান কিন্ডার গার্টেন ও জামিয়া ইসলামিয়া পাগলা মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরাও বাসস্ট্যান্ডের এ কাদাজল মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। বাসস্ট্যান্ডের মাঝখানে ডাক বাংলোর বিপরীতে সৃষ্ট ৩/৪টি বড় বড় গর্তের মাঝে বাস, ট্রাক পড়ে আটকে থাকে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়, ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ছোটখাটো দুর্ঘটনাও। বর্ষাকালীন সময়ে এমন দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান এলাকার মানুষ।
এ ব্যাপরে স্থানীয় বাসিন্দা ফজর আলী বলেন, রাস্তায় তো কাজ হয় না। যদিও হয় তাহলে তো অনিয়মের শেষ নেই। কতক্ষণে কাজ শেষ করবে তারই তাড়াহুড়া বেশি থাকে তাদের। মেটেরিয়ালস্ কম ব্যবহার করা হয়। আর বৃষ্টির দিনে কাজ করালে তো এমনিতেই কাজ টিকবে না।
আলী আকবর ও ইউসূফ আলী নামের আরো দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কাদার কারণে বাসস্ট্যান্ডে হাঁটাই যায় না। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে খুবই অসুবিধা হয়। একজন যাত্রী গাড়িতে উঠতে গেলেও খুব অসুবিধা হয়। আর ব্যবসায়ীরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেই।
সুনামগঞ্জ জেলার সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় কাজ হচ্ছে না স্বীকার করে বলেন, টানা বর্ষণ ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় রাস্তার এমন অবস্থা হচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকায় আমরা কাজ ধরছি না। কিছুটা ভাল হলেই কাজ করবো। তাছাড়া সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অংশের কাজের টেন্ডার হয়েছে। সার্বিক প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই কার্যাদেশ পেয়ে যাবো বলে আশা করছি। সুনামগঞ্জ অংশ অর্থাৎ সুনামগঞ্জ সওজ অফিস থেকে গোবিন্দগঞ্জ বাজার পর্যন্ত মোট ৪৬ কিলোমিটার কাজ হবে। রাস্তা প্রশস্তও হবে। সব মিলিয়ে কাজ শুরু হতে আরো ২ মাস সময় লাগতে পারে।
- জামালগঞ্জে কর্মসৃজন ও টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
- রাধারমণ ও করিম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু


