এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
মধ্যনগর বাজার ও পিপড়াকান্দার দূরত্ব কয়েক শ’ গজ। মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে উবদাখালি নদী। এপাড় ওপাড় যাতায়াতের মাধ্যম একমাত্র ফেরী। ফেরী ঘাটে পৌঁছেই যদি ফেরী পাওয়া যায় তাহলে এপাড় থেকে ওপাড় যাওয়ার বিষয়টি তিন থেকে চার মিনিটের ব্যাপার। কিন্তু একবার ফেরী না পেলে কয়েশ গজ দূরত্ব পাড়ি দিতে কখনও কখনও সময় লাগে আধা ঘন্টার ওপরে। ফেরী ওপাড়ে যাবে। নতুন করে যাত্রী নিবে। তারপর আবার আসবে। জরুরি মুহূর্তে এমন বিষয় কতটা বিরক্তিকর আর অসুবিধার তা একমাত্র ভূক্তভোগীরাই জানেন।
উপজেলা সদর থেকে মহেষখলার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। মহেষখলাসহ আশপাশের মানুষজন জরুরি কাজে প্রতিদিন উপজেলা সদরে আসেন। উপজেলা সদরে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে অনেক সময় রাত হয়ে যায়। রাতে নির্ধারিত সময়ে ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিচিত লোকজন মোবাইল ফোনে কল করে ফেরীর ব্যবস্থা করতে পারলেও অপরিচিতরা পড়েন বিপাকে। তখন বাধ্য হয়ে তাঁকে কারও বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় নয়তো আবার উল্টো ফিরতে হয় ধর্মপাশায়। ধর্মপাশায় ফিরেও খোঁজা হয় কোনো আত্মীয়র বাড়ি। আত্মীয় পাওয়া না গেলে আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে হয়। এতে করে ওই সকল মানুষদের সময় অর্থ দুটোরই ক্ষতি সাধিত হয়।
মধ্যনগর-মহেষখালা সড়কের সুমেশ্বরী (কায়েতকান্দার পিছগাঙ্গা) নদীতে বর্ষায় ফেরী আর হেমন্তে বাঁশের চাটাই দ্বারা নির্মিত কয়েকশ গজের একটি সাঁকোই যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। মধ্যনগর-মহেষখলা সড়কের সুমেশ্বরী নদীতে ও মধ্যনগর বাজার সংলগ্ন উবদাখালি নদীতে দুটি সেতুর উপযোগিতা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এ রুটে দুটি সেতু নির্মিত হলে ধর্মপাশা থেকে মহেষখলা পর্যন্ত একজন যাত্রীর ঘন্টাখানেক সময় সাশ্রয় হবে। অপরদিকে উপজেলার জয়শ্রী-গোলকপুর সড়কে জয়শ্রী বাজার সংলগ্ন বরাইয়া নদী ও গোলকপুর-সাচনাবাজার সড়কের বৌলাই নদীর উপর সেতু নির্মাণ হলে জেলা শহর সুনামগঞ্জের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকাংশে সহজতর হওয়ার পাশাপাশি উপজেলার সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থার চিত্র বদলে যাবে। তাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চারটি সেতু দ্রুত নির্মাণ করা এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি।
জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর-মহেষখলা সড়কের সুমেশ্বরী (কায়েতকান্দার পিছগাঙ্গা) নদী ওপর ২০০ মিটার সেতু, মধ্যনগর বাজার সংলগ্ন উবদাখালি নদীর ওপর ৩০০ মিটার সেতু, জয়শ্রী-গোলকপুর সড়কে জয়শ্রী বাজার সংলগ্ন বরাইয়া নদীর ওপর ৩০০ মিটার সেতু ও গোলকপুর-সাচনাবাজার সড়কের বৌলাই নদীর উপর ৩০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ হাওরবাসী।
মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, ‘উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমাদের মধ্যনগর অঞ্চল বিভিন্নভাবে পিছিয়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিরা আমাদের আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু মধ্যনগরে এখন পর্যন্ত সেতু নির্মাণের ব্যাপারে কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ দেখলাম না।’
জয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী বলেন, ‘জয়শ্রী বাজারে পার্শ্ববর্তী নদীতে সেতু নির্মাণের বিষয়টি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। এ সেতু নির্মিত হলে জেলা শহরের সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হবে।’
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, ‘মধ্যনগরে দুইটি সেতু নির্মিত হলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটার পাশাপাশি উপজেলা সদরের সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মহেষখলা, বংশীকুন্ডাসহ আশপাশের মানুষজন উপজেলা সদরে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারবে। সর্বোপরি মধ্যনগরের চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক জনগণের জীবন চিত্র বদলে যাবে।’
এলজিইডির ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘চারটি স্থানে চারটি সেতুরই অনুমোদন হয়েছে। তবে কখন কাজ শুরু হবে তা বলা যাচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় আছি। কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘চলতি বছরে জেলার ৮টি সেতুর নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলাতেই নির্মাণ হবে চারটি সেতু। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই এ সেতুগুলোর কাজ শুরু হবে।’


