এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
১৯৯৭ সালে ধর্মপাশা থানা সংলগ্ন কংস নদের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে সেতুর উত্তর পাশে সংযোগ সড়ক হিসেবে একটি বাইপাস সড়ক উপজেলা সদরের আব্দুল হেকিম চত্বর হয়ে হলিদাকান্দা মোড়ে ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের সাথে যুক্ত হয়।
এই সড়কের নির্মাণ কাজ সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সম্পন্ন করেছিল এবং তা সুনামগঞ্জ সওজের অধীনেই ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ধর্মপাশা উপজেলায় সওজের যাবতীয় কার্যক্রম নেত্রকোনা সওজ বিভাগের কাছে স্থানান্তরিত হয়।
সম্প্রতি নেত্রকোনা সওজের অধীনে কংস সেতুর উত্তর পাশ থেকে ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে ওই এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কের সংস্কার কাজ এখনো শুরু হয়নি। সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগ জানিয়েছে ধর্মপাশা উপজেলায় সওজ বিভাগের কোনো কার্যক্রম নেই, যা ছিল তা নেত্রকোনা সওজ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে নেত্রকোনা সওজ বিভাগের দাবি এই বাইপাস সড়কটির ব্যাপারে তাদের কিছুই জানা নেই। তাই কৌতুহলী এলাকাবাসীর প্রশ্ন তাহলে সড়কটি কার ?
বুধবার দুপুরে ওই বাইপাস সড়কে সরেজমিনে গিয়ে
দেখা যায়, ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের পূর্বপাশে আবদুল হেকিম চৌধুরী চত্বর থেকে একটি সড়ক গিয়ে মিলেছে ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের হলিদাকান্দা মোড়ে। যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় এ সড়কের কার্পেটিং ওঠে গেছে। ফলে এক কিলোমিটর সড়কের পুরোটাতেই অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকে এবং এসব গর্তে যানবাহন উল্টে মাঝে মধ্যে ঘটছে দূর্ঘটনা। ফাতেমানগর গ্রামের সামনে এ সড়কের শয়তানখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশেই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারি লক্ষাধিক জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা সদর ইউনিয়নের নোয়াবন গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘কোনো যানবাহনে করে এ সড়ক দিয়ে সহজে যাতায়াত করা যায় না। সড়কটির বেহাল দশার কারণে এ সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়াই মুশকিল।’
সদর ইউনয়িন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহম্মেদ বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির যথাযথ কর্তৃপক্ষ এখন কে তা আমাদের সকলের জানা দরকার। যদি কর্তৃপক্ষই খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে এই সড়কের সংস্কার কাজ কে করাবে?’
উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, ‘এই সড়কের কর্তৃপক্ষ সুনামগঞ্জ কিংবা নেত্রকোনা সওজ যে-ই হউক তা যথাযথভাবে নির্ণয় করে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ সড়কের ব্যাপারে কথা বলবো।’
উপজেলা এলজিইডির সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই বাইপাস সড়কটি এলজিইডির নয়।’
নেত্রকোনা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, ‘এই সড়কটি নেত্রকোনা সওজের অধীনে নয়।’
সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুনামগঞ্জ সওজের অধীনে ধর্মপাশায় কোনো সড়ক নেই। যা ছিল তা নেত্রকোনা সওজের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।’


