দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে পোশাক খাতে নিয়মিত বিরতিতে দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকা- ও ২০১৩তে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা আলোচ্য খাতে ভয়াবহ দুই বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা। এ দুই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সহ¯্রাধিক শ্রমিক। আহত হন আরো প্রায় দুই হাজারজন। আহত এসব শ্রমিকের অনেকেই বরণ করেছেন পঙ্গুত্ব; হারিয়ে ফেলেছেন কর্মক্ষমতা। স্বাভাবিকভাবেই দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারানো এসব শ্রমিককে সরকারি বা বেসরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থসহায়তা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই শ্রমিক প্রতি ১ লাখ টাকা করে দেয়া হয়, যা ছিল অনেকটা থোক বরাদ্দের মতোই। কিন্তু কর্মক্ষমতা হারানোর ফলে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, অর্থাৎ দুর্ঘটনার পর যে পরিমাণ আয় থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, সেটি বিবেচনায় নেয়া হয়নি ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে। আইনেও এ নিয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে কর্মক্ষমতা বা ভবিষ্যৎ আয় হারানো বাবদ কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না আহত শ্রমিকরা। আমরা চাইব, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার উদ্যোগ নেবে।
লক্ষণীয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১২১-এ ক্ষতিপূরণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শ্রমিকের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এছাড়া আহতদের ক্ষতিপূরণ আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশ সরকারেরও। অথচ এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে আইএলও কনভেনশনের সংশ্লিষ্ট বিধানের নিরিখে আহতদের একটি ক্ষতিপূরণ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ক্ষতিপূরণ স্কিমে একটি কেন্দ্রিয় তহবিল গঠনের জন্য বোর্ড গঠনের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। তহবিলটি হবে দেশের পোশাক শিল্পের জন্য বিদ্যমান কল্যাণ তহবিলের আদলে। তহবিলের অধীনে স্কিম ফ্রেমওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হবে। যে ফ্রেমওয়ার্কটি হবে, তার বাস্তবায়ন প্রাথমিকভাবে পোশাক খাত থেকেই শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সব খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হবে। কিন্তু শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচ্য ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলছেন। তাদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে শিল্প খাতকে ক্ষতিপূরণ আইনের বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফ্রেমওয়ার্কের বিষয়ে তাদের মতামত নেয়া হচ্ছে বটে, কিন্তু খসড়ায় ওই মতামতের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এটি দুঃখজনক। এক্ষেত্রে তাদের স্পষ্ট দাবি হলো, ফ্রেমওয়ার্কটি করতে হবে অবশ্যই আইনের সঙ্গে সমন্বয় করে। বিদ্যমান শ্রম আইনের অধীনে একটি ন্যায্য ক্ষতিপূরণ কাঠামো তৈরিতে সরকার বিষয়টি আমলে নিক এটিই প্রত্যাশা।

