প্রতারণা বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে

নেয়া হয়েছে সমবায় সমিতির লাইসেন্স, অথচ চালানো হয় ব্যাংকিং কার্যক্রম। সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর এ অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সমিতির আড়ালে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে সমবায় অধিদপ্তরও। কিন্তু থামানো যায়নি সমবায় লাইসেন্সে ব্যাংকিং কার্যক্রম। এতে বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সমবায় অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার সমবায় সমিতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়ে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই সারা দেশে অফিস খুলে সদস্য সংগ্রহের নামে অবৈধ ব্যাংকিং ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ার নেই। সমিতিগুলোর অবৈধ ব্যাংকিং ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকায় প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিয়ে ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা অনিয়ম, প্রতারণা ও দুর্নীতির এক ধরনের অভিনব উপায়। এর মাধ্যমে সহজেই সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা যায়। এরই মধ্যে এ ধরনের ব্যবসার ঝুঁকিগুলো পরিষ্কারভাবে সামনে এসেছে। এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে প্রায় প্রতিনিয়ত বড় অংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটছে। সুতরাং এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ প্রয়োজন। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সময়। সমবায় অধিদপ্তরও এ কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এর পরও এটি বন্ধ না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার অনুপস্থিতি। প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বিধান ভেঙে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করায় বিভিন্ন সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে একাধিকবার ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয় সমবায় অধিদপ্তর। তবে সমবায় অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়। মামলা বিচারাধীন থাকার সুযোগে সোসাইটির অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে এসব সমবায় সমিতি। মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত যেন সমবায় সমিতিগুলো অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সেজন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে আইন সংস্কারের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। এছাড়া শুধু কেন্দ্র্রীয় ব্যাংক বা সমবায় অধিদপ্তর নয়, বরং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টির ওপর জোর দিতে হবে। মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারলে প্রতারণার হাত থেকে বহুলাংশে রক্ষা করা সম্ভব।
আইন অনুযায়ী যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই, সেখানে সমিতিগুলোর এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এটি সরাসরি প্রতারণা। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ প্রতারণা বন্ধে জোর দেয়া উচিত সরকারের।