সু.খবর ডেস্ক
আগের দিনই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না গেলে বাংলাদেশ সফরে আসবে না অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের চলমান আলোচনায় এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। তাই, শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে পারবে কি-না, সেটা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দল অবশ্য অসিদের বিপক্ষে নিজেদের লক্ষ্যের ব্যাপারে একেবারেই নিঃসংশয়। দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্টেই তার চাওয়া জয়। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশ কোচ তার এই চাওয়ার পেছনের যুক্তিটাও তুলে ধরলেন, ‘টেস্টে আমরা কিছুটা উন্নতি করেছি। উপমহাদেশের মাটিতে জেতার মতো পরিকল্পনা এখন আমাদের আছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টে আমরা জিততে চাই। নিজেদের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আছে আমাদের।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আশাবাদের বড় কারণ, খেলাটা হবে নিজেদের কন্ডিশনে। টাইগারদের আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে হাথুরুসিংহের চিন্তার জায়গাটাও সেই কন্ডিশন নিয়েই। সেটা যে হবে ভিন্ন কন্ডিশন! বললেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে খাপ খাইয়ে নেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং হবে। সেখানে নিজেদের পরিকল্পনাটাও নতুনভাবে সাজাতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগের দুই সপ্তাহ সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য সেটা প্রায় অচেনা একটা কন্ডিশন, সেখানে আমরা কতটা ভালো করতে পারি তা দেখার বিষয়। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ ভালো দল, যোগ্যতা দিয়েই তারা টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এদিন হাথুরুসিংহের দেখা পাওয়া গেছে অনেক অপেক্ষার পর। তুমুল বৃষ্টির কারণে বিসিবি কার্যালয়ের মূল ভবন থেকে মিডিয়া সেন্টারে আসাটাও বেশ দুরূহ হয়ে পড়েছিল তার জন্য। বৃষ্টি বাধা দিচ্ছে খেলোয়াড়দের স্কিল ট্রেনিংয়েও। ইনডোর স্টেডিয়ামই তাই এ রকম বাদলা দিনে একমাত্র ভরসা। হাথুরুসিংহে জানালেন, খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ানোতেই এখন সব মনোযোগ তার। স্কিল ট্রেনিংয়ের আগে হওয়া ফিটনেস ক্যাম্পের প্রয়োজনীয়তাও ব্যাখ্যা করলেন তিনি, ‘গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের পর থেকে আমরা টানা খেলার মধ্যে ছিলাম। নিজেদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সময় ছিল না খেলোয়াড়দের কাছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আমরা বেশ অনেকটা ফাঁকা সময় পেয়েছি। আর এ কারণেই আমরা শুরু করেছিলাম ফিটনেস ক্যাম্প দিয়ে। এখন অবশ্য সব মনোযোগ স্কিল ট্রেনিংয়ে।’
আজ বাদে কাল চট্টগ্রামে ট্রেনিং ক্যাম্প করতে যাচ্ছে দল। শুক্রবার চট্টগ্রাম পেঁৗছে শনিবার থেকে অনুশীলন শুরু করবে টাইগাররা। সেখানকার ট্রেনিং ক্যাম্প কী রকম হবে, সেটা নিয়েও একটা ধারণা দিলেন তিনি, ‘প্রথম দিন আমরা অনুশীলন করব সর্বোচ্চ তীব্রতার। দ্বিতীয় দিনের অনুশীলন হবে একেবারেই হালকা। আর সোমবার হবে মাঝারি অনুশীলন। মঙ্গলবারটা বিশ্রাম করে বুধবার থেকে তিন দিনের অনুশীলন ম্যাচ শুরু হবে।’
নিজেদের মধ্যে খেলা অনুশীলন ম্যাচগুলোতে নিয়মিতই নজর কাড়েন তরুণ ক্রিকেটাররা। কোচ জানালেন, একটা সমৃদ্ধ পাইপলাইন তৈরি করার জন্যই বেশ কিছু তরুণ ক্রিকেটারকে প্রাথমিক দলে সুযোগ দেওয়ার কথা ভেবেছেন তারা, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ, অন্তত আমার জন্য তো অবশ্যই। আমরা প্রাথমিক দলে ২০ জনেরও বেশি ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করেছি, যাতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুশীলন করে তরুণরা নিজেদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে। এর ফলে আমাদের দলের শক্তিও আরও বাড়বে। দলের বাইরে যদি বেশ কয়েকজন ভালো ক্রিকেটার থাকে, তবে মূল একাদশের কেউই দলে নিজের জায়গাটা পাকাপাকি মনে করতে পারবে না। এতে করে ভালো একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে।’
সামনে ব্যস্ত ক্রিকেট সূচি। এই সূচি শেষে দলের মধ্যে কোন পরিবর্তনটা দেখতে চান কোচ? উত্তরে জানালেন, দলের ফলাফলে আরও ধারাবাহিকতা দেখতে চান তিনি, ‘দেশের বাইরে জয় পাওয়া আর নিজেদের চেয়ে ওপরের সারির দলগুলোকে হারানো, এটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আমাদের। আমরা উপমহাদেশে জয় পাওয়ার মাধ্যমে শুরু করেছিলাম। এরপর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছি। এই সাফল্যকে ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জিং। আরও বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে আমাদের।’
- সুনামগঞ্জে ১৫ দিনের জন্য ওএমএস চালুর নির্দেশ
- ধর্মপাশায় ৬০ কোটি টাকায় কংস নদ খনন- অপরিকল্পিতভাবে মাটি ফেলে বিপর্যয় তৈরি করা হচ্ছে


