সদর হাসপাতাল গেটে এ্যাম্বুলেন্স চালকদের সিন্ডিকেট

শহীদনূর আহমদ
জেলার একমাত্র ২৫০ শয্যার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। ডাক্তার সংকটসহ সমস্যার অন্ত নেই। মুমূর্ষু বা জটিল আঘাত জনিত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্যে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বিভাগীয় শহরের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করেন। মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তর করতে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হয় রোগী ও রোগীর আত্মীয় স্বজনদের।
সরকারি হাসপাতালে এ্যা¤ু^লেন্স সংকট, ভাড়াটিয়া এ্যাম্বুলেন্স চালকদের সিন্ডিকেট ও বেপরোয়া ভাড়া আদায়ের কারণে জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে বাধ্য হয়েই উচ্চ ভাড়ার বলির পাঠা হন রোগির স্বজনরা। অপেক্ষাকৃত গরিব রোগিরা পড়েন মহা বিপাকে। যেখানে চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয় রোগীদের সেই সাথে যোগ হয় এ্যাম্বুলেন্সের উচ্চ ভাড়া। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। তাই সিএনজি ও মাইক্রোবাসই তাদের শেষ সম্বল হয়।
এদিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুইটি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও রোগীর চাহিদায় এটি পর্যাপ্ত নয়। প্রায় সময়ই নষ্ট থাকে কোন না কোনটি। তাই সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাওয়াটা আকাশ কুসুম স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয় সাধারণ রোগিদের জন্য। তবে এ্যাম্বুলেন্স এর             
সংখ্যা বাড়ানোর জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জল ডা. আশুতোষ দাশ।
বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় সরেজমিনে সদর হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, হাত ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সদর হাসপাতালে আসেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দোলেন আহমদ নামের এক যুবক। দোলেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিসার জন্যে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দোলেনের স্বজনরা সিলেট নিয়ে যাওয়ার জন্যে সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালকদের মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
হাসপাতালের বাহিরের একাধিক বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকদের উচ্চ ভাড়া দাবির সিন্ডিকেটে পড়তে হয় আহত দোলেনের স্বজনদের। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যেতে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন একাধিক এ্যাম্বুলেন্স চালক। ভাড়া নির্ধারণে দরকষাকষির এক পর্যায়ে ২ হাজার ৫’শত টাকায় সিলেট যেতে বাধ্য হন তারা।
জানা যায়, এভাবেই এ্যাম্বুলেন্সের জন্যে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রোগীর স্বজনদের। সিলেট যেতে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা গুণতে হয় রোগীর স্বজনদের। থাকছে অক্সিজেনের বাড়তি ভাড়া।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে আসা সিরজিল নামে এক রোগীর স্বজন বলেন,‘সরকারি এ্যাম্বুলেন্স সাধারণ রোগীদের ভাগ্যে জুটে না। জুটলে নানা তদবির করতে হয়। আর প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স এর কথা কি বলব। ভাই অনেক দর কষাকষি করে ২৫০০ টাকায় একটা ভাড়া করলাম। আমাদের অবস্থা না হয় একটু ভাল, কিন্তু গরিব রোগীদের অবস্থা কেমন হয় ভাবেন তো ? সুর্নিদিষ্ট ও সুলভ ভাড়া নির্ধারণ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি।
সুমন আহমদ নামে আরেক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স আরো বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিদিন এ্যাম্বুলেন্স এর জন্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগী ও স্বজনদের। প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্সগুলো বেপরোয়া ভাড়া আদায় করে। তাই এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সজাগ হতে হবে।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন,‘ সরকারি হাসপাতালে ২টি এ্যাম্বুলেন্স আছে। যা রোগির চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ্যাম্বুলেন্স বাড়ানোর জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা দেয়া আছে। আর প্রাইভেট এ্যা¤ু^লেন্সের চালক যদি ভাড়া বেশি দাবি করেন, রোগীর স্বজনরা আমাদের জানালে সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করে ভাড়া কমানোর চেষ্টা করব।