নগর সুনামগঞ্জ ও বিকল্প সড়ক দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি

সুনামগঞ্জ জেলা শহরটি ক্রমশ শহরের ক্ষুদ্র গন্ডি ছাড়িয়ে নগরী হয়ে উঠছে। মূলত মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হওয়ার পর থেকেই শহর সুনামগঞ্জের এই নগরী হয়ে উঠার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। জেলা সদরের অপরিহার্য প্রশাসনিক ভবন ও এর সাথে জড়িত বহু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জায়গা দিতে হয় এই শহরকে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটায় প্রতিনিয়ত এই শহরের নাগরিক চাহিদা বাড়ছে। বয়স্কদের বলতে শুনেছি, তাদের ছোট বেলায় এই শহরের কোন সড়কে একটি গাড়ির দেখা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো তাদের। অভ্যন্তরীণ পরিবহনের জন্য গুটি কয়েক রিকশাই ছিল তখন ভরসা। আর এখন কত যে যানবাহন রয়েছে, ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক, তার হিসাব মিলানো সত্যিকার অর্থেই কষ্টকর। সুতরাং সত্তর কিংবা আশির দশকের শহরায়ণ দিয়ে এখনকার চাহিদা মিটানো যে সম্ভব হবে না তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না বটে। এ কথা ঠিক শহরের রাস্তাঘাট ও আবাসিক সুবিধাদিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা গত দুই দশকে অনেকটাই বেড়েছে তবে সেটি যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নয় তা শহরের বর্তমান অবস্থা দেখে যে কেউ বলবেন। মূলত নগর পরিকল্পনার বিষয়টি আমাদের দেশে কোথাও বৈজ্ঞানিক পন্থায় অনুসৃত হতে পারে নি। না রাজধানীতে না বন্দর নগরী কিংবা অন্য কোন বড় নগর ও শহরে। এই শহরের বাণিজ্যিক এলাকা এবং কিছু আবাসিক এলাকায় সবসময় যানজট লেগে থাকে। পৌর এলাকার বহু জায়গা একটু বৃষ্টি হলেও পানিমগ্ন হয়ে যায়। অনেক সড়কই সংস্কারহীন এবং অপ্রশস্ত। আবাসিক সুবিধাদি যথেষ্ট পরিমাণের নয়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলো অপরিকল্পিত। এতসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে এই শহরটি সামনের দিন বিশেষ করে আরও দশ কিংবা বিশ বছর পর কীভাবে সচল থাকবে তা নিয়ে নাগরিক সমাজের চিন্তার অন্ত নেই। এই চিন্তার দেখা মিলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে পরিবেশিত একটি খবরে। সেখানে বলা হয়েছে, শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট মোকাবিলা ও শহরে প্রবেশ ও নিষ্ক্রমণ নির্বিঘœ করতে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করতে হবে। বিকল্প সড়ক হিসেবে চেকনিকাড়া ব্রিজ থেকে জাওয়ার হাওরের মাঝ দিয়ে হাছননগর হয়ে সুনামগঞ্জ-আমবাড়ি রোডে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এখন শহরে প্রবেশ বা বহির্গমনের জন্য একটিমাত্র সড়কই রয়েছে (সিলেট-সুনামগঞ্জ রোড)। এটি দিয়ে বর্তমান প্রয়োজনীয়তাই মিটানো যাচ্ছে না। উপরন্তু যখন ডলুরায় শুল্কবন্দর চালু হবে তখন যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই স্থলবন্দর চালু হওয়ার আগেই বিকল্প সড়কটি নির্মাণ করা জরুরি।
এমন একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করার উদ্যোগ আরও আগে থেকেই গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। তবে দেরিতে হলেও এখনই যদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তাহলেও সেটি হবে মঙ্গলজনক। এটি নির্মাণ করতে বহু টাকা ব্যয় করতে হবে। এজন্য সরকারের সদিচ্ছা এবং সহায়তা দরকার পড়বে বেশি। এই সহায়তা তরান্বিত করতে হলে একটি সুসমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা মনে করি এই উদ্যোগটি সুনামগঞ্জ পৌরসভার অচিরেই গ্রহণ করা উচিৎ। সরকারকে প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে হবে। সুনামগঞ্জের যারা প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে রয়েছেন তাদেরকে এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বিকল্প সড়কটি চালু করা সম্ভব। আমরা এই লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকলাম।