আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে নামমাত্র মেরামত কাজ করেই শেষ করতে চাচ্ছেন ঠিকাদার। স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত বছরে বর্ষার ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটুকু মেরামত না করেই ওই রাস্তার উপরে সামান্য বিটুমিন ও বালি দিয়ে আস্তরণ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার গর্তে শুধুমাত্র বালি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে।
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ রাস্তার চিকসা এলাকায় নামমাত্র কাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া।
তিনি বলেন, ‘তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ রাস্তাটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করায়। কিন্তু কাজের তদারকিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন প্রকৌশলী উপস্থিত থাকেন না।’
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের দূরত্ব মাত্র ৩৬ কিলোমিটার। ২০১১ সালের জুন মাসের পূর্বে পায়ে হেঁটে সুনামগঞ্জ পেঁৗঁছতে সময় লাগত ৬ থেকে ৭ ঘন্টা। বর্ষা মৌসুমে নৌ-পথে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। এ দুর্বিষহ যোগাযোগ ব্যবস্থা দূর হয়েছে ২০১১ সালের জুন মাসে। এখন সময় লাগে মাত্র ১ ঘন্টা। এখন তাহিরপুরবাসীর কাছে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ অনেক সুখকর । শুধু জেলা শহরই নয় সিলেট ও ভৈরব থেকে এলাকার ব্যবসায়ী সহ অনেকেই প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রোজই তাহিরপুর ফিরতে পারেন। বিশেষ করে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কটি নির্মিত হওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের আনাগুনা বিগত দিনগুলোর চাইতে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক সৌরভ মিয়া, আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র দে বলেন, ‘সড়কের স্থানে-স্থানে ব্লক খসে ভাঙনের মুখে পড়েছে। মেরামতকারী ঠিকাদার ব্লকগুলো পুন:স্থাপন করেননি, গর্তগুলো শুধুমাত্র বালি দিয়ে ভরাট করে রাখা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি বলেন, ‘তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের মেরামতের কাজটি দায়সারাভাবে চলছে। যেভাবে কাজ চলছে মনে হচ্ছে রাস্তাটি দেখভাল করার কেউ নেই, ঠিকাদার স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।’
তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কটি মেরামতের কাজ খুবই খারাপ হয়েছে। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’


