ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত পবিত্র ঈদুল আজহা সারা দেশে উদযাপিত হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর। পুরো মুসলিম জাহানের সাথে বাংলাদেশের মুসলমান সম্প্রদায় এদিনটি উদযাপন করবেন মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা লাভের প্রার্থনা করে। এদিন সামর্থ্যবানরা পশু কুরবানি দিয়ে প্রতিবেশি, মিশকিন ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে এর অংশবিশেষ বিলিয়ে দিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচয় রাখবেন। পশু কুরবানির নিমিত্তে মূলত ব্যক্তি মানুষ নিজের ভিতরকার যাবতীয় কুপ্রবৃত্তির কুরবানি দিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার শপথ গ্রহণ করে থাকেন। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের এই মহান উৎসবের প্রাক্কালে আমরা সকলকে জানাই ঈদ মুবারক। কামনা করি এই দিনটি যথাযথ ধর্মীয় আদর্শ ও মূল্যবোধের আলোয় দীপ্যমান হয়ে উঠুক। আমাদের মনের ভিতর যত কুপ্রবৃত্তি রয়েছে সেগুলোর অবসান ঘটুক।
বলাবাহুল্য অন্য বছরের চাইতে এবারের ঈদ এসেছে কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। সারা দেশে বড় আকারের একটি বন্যার আঘাত ঘটে গেছে কিছু দিন আগে। বহু এলাকায় এখনও এর প্রভাব রয়ে গেছে। তবে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের অবস্থা আরও খারাপ। এ বছর হাওরের শত ভাগ বোরো ফসল কাঁচা অবস্থাতেই পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের সর্বশ্বান্ত করেছে। এক মুঠো ধান কাটতে পারেন নি কেউ। ফলত সুনামগঞ্জের গ্রামে গ্রামে চলছে নিরব অভাব। সম্পন্ন কৃষকরাও এবার খাদ্যাভাবে ভোগছেন। প্রান্তিক কৃষকদের কথা তো বলে বুঝানোর অবকাশ নেই। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় অন্যান্য বছর যারা কুরবানি দিতেন, তাদের অনেকেই এবার কুরবানি দিতে পারবেন না। কুরবানি দিতে না পারা এই ধরনের লোকের সংখ্যা অনেক। এতে করে গ্রামের গরীব মানুষরা যারা দান-খয়রাতের মাংস হলেও কিছুটা পেতেন তারাও বঞ্চিত হবেন এবার কুরবানির মাংস পাওয়ার সুযোগ থেকে। শহরে বাস করে অবশ্য গ্রামের এই অবস্থা বুঝাটা কিছুটা কষ্টের হবে। শহরে অনেকেই হয়তো প্রতি বছরের মতোই কুরবানি দেয়ার নিয়ত করেছেন। তাঁদের প্রতি আমাদের অনুরোধ গ্রামের অসহায় মানুষের দিকেও আপনার সামর্থের হাতটি বাড়িয়ে দিন। ফসলবঞ্চিত এইসব ভাগ্যহীন মানুষগুলোর মুখে যদি আপনার সহায়তায় হাসি ফুটে উঠে তাহলে মহান সৃষ্টিকর্তাও নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট হবেন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমন বলেছেন, ‘ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই/সুখ-দুখ সম-ভাগ করে নিব সকলে ভাই/নাই অধিকার সঞ্চয়ের/কারো আঁখি-জলে কারো ঝাড়ে কি রে জ্বলিবে দীপ?/ দু’জনার হবে বুলন্দ-নসীব, লাখে লাখে হবে বদ-নসিব?/ এ নহে বিধান ইসলামের।’ এই যে সকলের তরে ভাগ করার মহানন্দ, আসুন সেই মহান প্রচেষ্টায় আমরা ঈদের দিনটিকে সকলের জন্য খুশিময় করে তুলি। আবারও সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা।

