বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে দল গুছানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে সমাবেশ করে সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেছেন দলের দায়িত্বশীলরা। আজ শনিবার বিশ্বম্ভরপুরে বড় আয়োজনে সমাবেশ করে দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করার কথা থাকলেও পুলিশ তাতে বাধা দিয়েছে। পুলিশ বলেছে,‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে, ঘরোয়া আয়োজন করতে হবে।’ এদিকে, জেলা বিএনপি’র এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লা আল নোমান। আব্দুল্লা আল নোমান বলেছেন,‘বিএনপি’র অনুমোদিত কমিটিকে বাদ দিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে।’
দেশব্যাপি বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অংশ হিসাবে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। গত দুই মাসে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে কর্মী জমায়েতের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।
অবশ্য ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে সদস্য সংগ্রহ উদ্বোধনকালে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-মধ্যনগর) আসনে সম্প্রতি দলে ফেরা সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন এবং ২০০৮’এর নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডা. রফিক চৌধুরীও ছিলেন না। তবে জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম
নুরুল, সহসভাপতি রেজাউল হক, সহসভাপতি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসব কর্মসূচী নিয়ে অবশ্য. দলের কোন কোন ইউনিটে ক্ষোভ রয়েছে। জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লা আল নোমান বললেন,‘নতুন কমিটির কাছে বিশেষ করে সভাপতি জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক, তাঁর কাছে আমরা আরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করেছিলাম। তারা এখনও জেলা কমিটির কোন সভা ডাকেননি। বিভিন্ন উপজেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করতে গিয়ে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন যে কমিটি করে দিয়েছিলেন, তাঁদেরকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তাহিরপুরে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্য সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যে ব্যানার তৈরি করেছিলেন, সেটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। সভাপতিত্ব করতে দেওয়া হয়নি প্রবীণ নেতা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নুরুল ইসলামকে। পরে নুরুল ইসলাম ও রুহুল আমিন ঐ সভায় থাকেননি।’
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন,‘গত ২৯ জুলাই তাহিরপুর উপজেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। আমরা বৈধ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ওখানে অস্বীকার করা হয়। পরে আমরা কর্মসূচিতে কোন বাধা না দিয়ে নিজেরা সরে এসেছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকেও আমরা জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, এটি ঠিক হয়নি। আপনারা আপনাদের নিজেদের অবস্থানে থেকে কাজ চালিয়ে যান।’
এদিকে, বিশ্বম্ভরপুরে সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন উপলক্ষে শনিবার দলীয় কর্মীদের জমায়েতের আয়োজন করা হয়েছিল। পলাশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের এই জমায়েতে প্রধান অতিথি হিসাবে দলীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াৎ হাসান জীবন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন বলেন,‘আমরা সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোতে সদস্য সংগ্রহ অভিযান সফলের জন্য সভা করেছি। দলের কর্মীদের দাওয়াত করেছি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসবেন, এখন (শুক্রবার বিকালে) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে প্যান্ডেল করা যাবে না, ঘরোয়া কর্মসূচী করতে হবে।’
জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘দলকে ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে সদস্য সংগ্রহ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরে আমারা পুলিশি বাধার সম্মুখিন হচ্ছি। বিশ্বম্ভরপুরের কর্মসূচি করার আগে আমরা ৪৫ টি কর্মী বৈঠক করেছি। এখন বলা হচ্ছে কর্মসূচি ঘরোয়াভাবে করতে। এরপরও আমরা যাব। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ আব্দুল্লা আল নোমান এবং রুহুল আমিনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘কমিটি নিয়ে অনেক স্থানেই মতানৈক্য রয়েছে। এজন্য সকল উপজেলা ইউনিটেই আনুষ্ঠানিক সদস্য সংগ্রহ অভিযানে আমি সভাপতিত্ব করেছি। এটি করা হয়েছে কেবল সদস্য সংগ্রহ অভিযানে সকলকে একমঞ্চে আনার জন্য।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল শুক্রবার রাত ৯টায় জানিয়েছেন, পুলিশের বাধার কারণে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জনসভা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোল্লা মনির হোসেন বলেছেন, বিএনপি আগে থেকে সমাবেশের অনুমতি নেয় নি। আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশংকায় তাদেরকে ঘরোয়া আয়োজনে সভা করতে বলা হয়েছে।
- তাহিরপুর সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে আসছে কয়লা ও চুনাপাথর
- ডা. কমলা কান্ত দাসের ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী পালন


