স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগে ১১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককেকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত সবাই একই পরিবারের সদস্য।
পালিয়ে আসা ৬ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছেন উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন। এর মধ্যে ৫টি নাগরিকত্ব¡ সনদ জব্দ করেছেন বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই তপন কুমার দাস। এ ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আটককৃত রোহিঙ্গারা হলো, মিয়ানমারের আকিদাবাদ জেলার মংদু থানার কুয়ান শিবং গ্রামের সাকির আহমদের ছেলে আব্দুছ ছবুর (৫১), স্ত্রী আমিনা বেগম (৪২), ছেলে আব্দুল হালিম (২৩), মেয়ে হালিমাতুস সাহিয়া (১২), মেয়ে তালিহা আক্তার (১৫),মেয়ে উম্মা বেগম (২),আব্দুল হাসিমের স্ত্রী উম্মূল খাইরিন (২২) ও মেয়ে মোশারফা (১)।
আটককৃত ১১ জনের মধ্যে আব্দুছ ছবুর, আমিনা বেগম, আব্দুল হালিম, হালিমাতুস সাহিরা, তালিহা আক্তার ও উম্মূল খাইরিনসহ মোট ৬ জন অবৈধভাবে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকত্ব সনদ পেয়েছে। গত ১৭ জুলাই ওই ৬ জনকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করেন বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান।
বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই তপন কুমার দাস বলেন, ‘গত ৩ মাস পূর্বে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের গুটিলা গ্রামের তুতা মিয়ার পুত্র আল আমিনের বসত বাড়িতে তারা
আশ্রয় নিয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের খবর দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব সনদসহ পুলিশ ক্যাম্পে হাজির হয়।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদপত্র প্রদানের বিষয়ে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সমস্যাটি আন্তর্জাতিক। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সঠিক করেন নি। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠুু বিচার হওয়া উচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, গুটিলা গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আল আমিন চট্টগ্রামের হাটহাজারিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। তার সাথে ওই রোহিঙ্গা পরিবারের মোহাম্মদ ও আহম্মদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে রোহিঙ্গা পরিবারকে তিনি নিজ গ্রামে আনেন এবং নাগরিকত্ব ও জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে দেন তিনি । এরপর আল আমিন ওই রোহিঙ্গা পরিবারের দুই সদস্যকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যায়। গত তিন মাস ধরে ওই রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরা তাহিরপুরের বিভিন্ন গ্রামে আত্মগোপন করে ছিলেন। সম্প্রতি তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা এবং গুটিলা গ্রামে বসত-বাড়ি নির্মাণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গুটিলা গ্রাম থেকে পুরো পরিবারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ গোপন সূত্রের খবর পেয়ে ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হবে। ওই পরিবারের সদস্যদের বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান নাগরিকত্ব ও জন্ম সনদ প্রদান করেছেন। ৫টি নাগরিকত্ব ও জন্ম সনদ আটককৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে। গুটিলা গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র তাদেরকে এই এলাকায় নিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদেশী লোকদের অবৈধভাবে নাগরিকত্ব ও জন্ম সনদ প্রদানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি লেখা হবে।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, ‘আটককৃত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে ফেরত পাঠানো হবে। নাগরিকত্ব ও জন্ম সনদ প্রদানের বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


