কামরান আহমেদ
যেন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। কে আগে জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গে সেলফি ওঠবে। কে স্যারের সঙ্গে আগে কথা বলবে। কার নোটবুকে স্যার অটোগ্রাফ দেবেন এমন প্রতিযোগিতা হাজারো
শিক্ষার্থী’র। ড. জাফর ইকবাল কয়েক ঘণ্টা অবধি ছিলেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। যারাই সেলফি বা ছবি ওঠতে চেয়েছে সুযোগ দিয়েছেন তিনি। নোট বাড়িয়ে দিলে অটোগ্রাফ কিংবা শুভেচ্ছা বা দোয়া রইলো লিখেছেন। একে একে সবগুলো স্টল ঘুরে দেখেছেন। স্টলগুলোতে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রজেক্ট দেখে মনে হয়েছিল যেন ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মিলন মেলা। শহরের সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত এমন দৃশ্যই ছিল।
বিদ্যালয় চত্বর ছিল শিক্ষার্থীদের ভিড়ে ঠাসা। প্রত্যেকটি কক্ষে ছিল বিজ্ঞান বিষয়ক নানা প্রযুক্তির স্টল। মোট স্টল ছিল ৩১ টি।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শির্ক্ষাথী ফারিহা আক্তার নুসরাত বললো,‘আমরা স্যারকে পেয়ে আবেগাপ্লুত, কেউ ব্যক্তিগত কেউ বা গ্রুপ করে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রজেক্ট তৈরি করে স্যারকে দেখিয়েছি। আমরা আনন্দে কাটিয়েছি দিনটি।’
নবম শ্রেণীর শির্ক্ষাথী শাকিরা জান্নাত ইমা বললো,‘ আমি ও আমার বান্ধবীরা মিলেমিশে পরিবেশ ও আবহাওয়ার উপর একটা স্টল তৈরি করে সকাল থেকে স্যারের অপেক্ষায় ছিলাম। স্যার এসে যখন আমাদের স্টল পরিদর্শন করেন, তখন মনে হয়েছিল পুরো স্টল যেন আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠেছে। আমাদের মনে হয়েছিল আমাদের শিক্ষা জীবনে নতুন কোন শিক্ষা আমরা গ্রহণ করছি।’
স্টলগুলোর মধ্যে থাকা প্রজেক্টের মধ্যে ছিল- কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডিএনএ পৃথকীকরণ, রাস্তা সমস্যা, মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, পৃথিবীর আবহাওয়ার বিরূপ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া বিষয়ক উপস্থাপনা ।
পরে এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডিএনএ পৃথকীকরণ স্টলটি প্রথম স্থান, বন্যা প্রতিরোধ স্টলটি দ্বিতীয় স্থান, পরিবেশ থেকে প্লাষ্টিক ও পলিথিন নিঃসরণ এবং কার্বনডাই অক্সাইড উৎপাদন প্রজেক্ট তৃতীয় স্থান লাভ করে। এছাড়াও অন্যান্য স্টলগুলোকে সান্ত¦না পুরষ্কার দেওয়া হয়।


