ডা. সালেহ্ আহ্মদ আলমগীর
সন্ধ্যা হয় হয়। একটা ফিয়াট সিক্স হান্ড্রেড গাড়িতে চড়ে আমরা আজিমপুর থেকে যাচ্ছি তেজগাঁ’র দিকে। সদ্য কেনা ঝকঝকে নতুন গাড়ি। পেছনের সিটে বসে চারপাশটা যত না দেখছি তারচে’ বেশি দেখছি গাড়ির ভেতরটা। গন্ধ নিচ্ছি নতুন গাড়ির, নতুন বই বা নতুন টাকার গন্ধ শোঁকার মত। মাত্র কিছুদিন আগে ঢাকায় আসা মফস্বলের এক বালকের জীবনে প্রথম গাড়ি-চড়া বলে কথা। বিরাট এক থ্রিলিং ব্যাপার। তখনকার দিনের নামকরা স্কুল, ওয়েষ্ট এন্ড হাই স্কুলের ক্লাস সিক্সের ছাত্র আমি। আব্বা এবং আরও দু’তিনজন মুরব্বির সঙ্গে আমিও যাচ্ছি, মানে আমাকেও নেয়া হচ্ছে আঞ্জীর চাচার (সদ্যপ্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক সালেহ্ চৌধুরী সাহেবের ডাকনাম) বিয়ের পানচিনি আনুষ্ঠানে। গাড়িটা তাঁর এক নিকটজনের। ঘটনা ১৯৬৮ সালের। চাচা তখন ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক পদে কাজ করেন।
আঞ্জীর চাচারা আমাদের রক্তের সম্পর্কের কেউ নন। ১৯৬৩ থেকে ৬৭ পর্যন্ত পাঁচ বছর আমরা দিরাই ছিলাম। আব্বা (ডা. মো. হারিছ উদ্দিন) ওখানকার থানা মেডিকেল অফিসার ছিলেন। আমার প্রাথমিক শিক্ষার পাঁচ বছরও তাই ওখানে। গচিয়া গ্রামের প্রতাপশালী দুই চৌধুরীবাড়ির সঙ্গে আব্বার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, বিশেষ করে দুই বাড়ির দুই কর্তা- নজরুল ইসলাম চৌধুরী সাহেব ও আনোয়ার রাজা চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে। শুধু ঘনিষ্ঠ বললে বোধহয় কমই বলা হয়। আনোয়ার চাচারই ছোট ভাই আঞ্জীর চাচা মানে সালেহ্ চৌধুরী (লেখার বাকি অংশে শুধু চাচা-ই লিখব)। দিরাই থাকাকালীন ওঁকে তেমন দেখিনি, কিন্তু কর্তা দু’জনের এবং ওঁদের বাড়ির সঙ্গে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক আত্মীয়ের মতই ছিল। ’৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আমরা ঢাকা চলে গেলে ওঁদের এক আত্মীয়ের বাসাতেই নামমাত্র ভাড়ায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়। আজিমপুর ছাপ্ড়া মসজিদের পাশেই ছিল বাসাটা। পিলখানা, লালবাগ, পলাশী, ভার্সিটিপাড়া, আর উত্তরে নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজÑ এই পর্যন্ত চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল আমার । তেজগাঁয় যাচ্ছি এই প্রথম।
গাড়ি চলছে। যেতে যেতে একসময় একটা পরিবর্তন নাকে লাগল। গাড়ির রাবার প্লাস্টিক আর যান্ত্রিক গন্ধটা ছাপিয়ে মজার একটা গন্ধ ক্রমশ জোড়ালো হতে থাকল। মজাদার বিস্কুটের গন্ধ। ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছিলাম, আমার হবু চাচী নাবিস্কোর এক পদস্থ কর্মকর্তার কন্যা। বুঝে গেলাম পৌঁছে গেছি জায়গামত। গাড়ি ডানদিকে মোড় নিল, গেটের সামনে থামতেই খুলে গেল গেট, আমরাও ভেতরে ঢুকলাম। কনেপক্ষ আমাদেরকে বরণ করে নিলেন। এরপর আনুষ্ঠানিক যা যা হওয়ার হতে থাকল, সে সব বলার জন্যে এ লেখা নয়। ঢাকা যাওয়ার আগে ওরকম গাড়িই দেখিনি, আজ সেই গাড়িতে চড়লাম! এই অভিজ্ঞতার, এই তৃপ্তির প্রকাশ বাক্য দিয়ে সম্ভব নয়। এটা বুঝতে হলে আপনাকে ঐ সময়ের ১১ বছরের এক বালক হতে হবে
(বালিকা নয়Ñ এই বয়সে গাড়ি বা গতি ওদেরকে আকর্ষণ করে না, যতটা করে অন্দরমহল)। গাড়ির গন্ধ এখন রোজই পাই, কিন্তু সেই ’৬৮ সালের গন্ধের স্মৃতি আজও স্পেশাল। আজও ঢাকা গেলে যতবার নাবিস্কোর সামনে দিয়ে যাওয়া হয়, ততবারই চাচার কথা, তাঁদের বিয়ের কথা মনে পড়ে। চাচা, আপনাকে স্যালুট। জীবনে অনেক প্রথমের এক প্রথমÑ গাড়ি চড়ার উপলক্ষ হওয়ার জন্যে।
’৭০-এর জানুয়ারিতে আমরা সুনামগঞ্জে চলে আসি। জুবিলী স্কুলে ক্লাস এইটে ভর্তি হই। আনোয়ার চাচা, মোস্তাফা মামা, এঁরা কোনও কাজে গচিয়া থেকে সুনামগঞ্জে এলে অবশ্যই আমাদের বাসায় একটা চক্কর দিয়ে যান। কাজের চাপে ঢাকা থেকেই আসতে পারেন না, তাই চাচার সঙ্গে আর দেখা হয় না। বছর যেতে না যেতেই ’৭১-এর মার্চ চলে আসে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আব্বা সুনামগঞ্জ টি.বি. ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসারের চাক্রি ফেলে আমাদেরকে নিয়ে টেকেরঘাট চলে যান। মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার হিসেবে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তাঞ্চলের জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা প্রদানের দায়িত্ব নেন।
সে বার বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। এমনি এক আকাশ-ভাঙা বৃষ্টির দিনে চাচারা তাঁদের গ্রামের বাড়ি গচিয়া থেকে সপরিবারে চলে এলেন টেকেরঘাট। বিপতœীক আনোয়ার চাচার একমাত্র মেয়ে রোকসানা আপা আর দুই ছেলে রুমী ও সামী, বয়সে আমার একটু ছোট। চাচা, চাচী ও তাঁদের বছর দেড়েকের ছেলে সুমন। সঙ্গে দুজন ফুপু। বড় দুঃসময়ে আবার দুই পরিবারের পরস্পরের দেখা পাওয়া। কিন্তু বেশিদিন টেকেরঘাটে থাকা সম্ভব হলো না। সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানিরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যূহের সর্বশেষ অবস্থান তাহিরপুরের দখল নিয়ে নেয়। ঐদিনই আমার খালা (ন্যাপ নেতা আলী ইউনুস অ্যাডভোকেট সাহেবের স্ত্রী) তাঁর দুই মেয়েসহ আমাদের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হন। খালু, মানে ইউনুস সাহেব, আগে থেকেই টেকেরঘাটে ছিলেন। সাব-সেক্টরের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তাহিরপুর হাতছাড়া হয়ে গেলে আমাদের পরিবারগুলোর জন্যে টেকেরঘাটে অবস্থান করা স্থানীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে আর নিরাপদ মনে হলো না। তাই আমাদেরকে তাঁরা সরিয়ে নিলেন ভারতের ভেতর বড়ছড়া নামের এক জায়গায়। একটা বাসার ব্যবস্থা করা হলো আমাদের জন্যে। এটি ছিল সম্ভবত বড়ছড়া থানার (পুলিশ স্টেশনের) পুরোনো একটা ঘর। বড়ছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের
ঠিক নিচেই একটা টিলা কেটে মাটি সমান করে ব্রিটিশ আমলের বানানো মোটামুটি বড় একটা ঘর। প্রায় পরিত্যক্তই পড়ে ছিল। কিছু পুরোনো ফার্নিচার-টার্নিচার ছিল। ওগুলো সরিয়ে বাসযোগ্য করে আমাদের হাতে দেয়া হলো। দুই রুমের একটা টিনশেড পাকা ঘর। এক রুমে আমরা আর দুই মেয়েসহ আমার খালা। একই চালের নিচে অন্য রুমে আনোয়ার চাচা ও আঞ্জীর চাচাদের পরিবার। পাশের বারান্দাটুকুতে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে আনোয়ার চাচার জন্যে একটা চৌকি পাতা। বাইরে কমন রান্নাঘর, একটু দূরে কমন শৌচাগার। শুরু হলো একান্নবর্তী পরিবারের মত আমাদের একসঙ্গে থাকা।
চাচা চমৎকার সব কার্টুন আঁকতেন। পত্রিকায় তাঁর আঁকা কার্টুন ছাপা হতো। টেকেরঘাট সাব-সেক্টরে তখনও মেজর দীন (মুসলিম উদ্দিন) যোগ দেননি। সামরিক কর্মকা- পরিচালনা করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর বাথ্ ( ইঅঞঐ )। সঙ্গে ক্যাপ্টেন ভার্মা। ব্যস্ত না থাকলে মাঝে মধ্যে ওঁরা আমাদের বাসায় আসতেন। চা-টা খেতেন, কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করতেন, সঙ্গে হয়তো একটু গল্প-গুজবও হতো। শামিল থাকতেন চাচা, রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ডা. নজরুল হক (আমার মামা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) আর আব্বা। মাঝে মাঝে আব্দুজ জহুর এম.পি সাহেবও (আমার নানা, আম্মার ফুপা) থাকতেন বৈঠকে। চা-বিস্কুট আনা নেয়ার ছলে আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম আর তাঁদের কথাবার্তা শুনতাম। উনাদের মুখের ইংরেজি ভাষা শোনার প্রতিই ছিল আমার আসল আগ্রহ। চাচা কথা কতটুকু কী বলতেন এতসব মনে নেই, তবে বলার ভঙ্গিটা আজও চোখে লেগে আছে। বাক্সময় একজোড়া চোখের দৃষ্টি আর মাথাভর্তি চুলের ফ্রেমে ঘেরা হাসিখুশি একটা চেহারা মিলিয়ে কী অমায়িক এক অভিব্যক্তি! মানুষের জীবনে তো শুধু আনন্দই থাকে না, কষ্টও থাকে। কোনও কষ্ট তাঁকে প্রকাশ করতে দেখিনি, বুঝি হজম করে নিতেন। আমরা দেখতাম কেবল তাঁর আনন্দটাই। বাসার চারপাশে জঙ্গল। বিকেল হলেই শুরু হতো মশার অত্যাচার। সেদিন বিকেলেও এমনি বৈঠক চলছে। এক পর্যায়ে মশার প্রসঙ্গ উঠল। দেখি চাচা কাগজ কলম নিয়ে কী যেন করছেন। আমাকে ইশারায় কাছে ডাকলেন। কাগজটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, ‘তোমার নানাকে দেখাও। এমনভাবে দেখাবে যাতে তিনি হাতে নিতে না পারেন আবার বাকিরা সবাই দেখতেও পান’। কাগজটাতে একটা কার্টুন আঁকা ছিল। বিশাল ভুঁড়িওয়ালা এক লোক মশারির নিচে বিছানায় শুয়ে আছেন। ভুঁড়ি ঠেকে আছে মশারির ছাদের সঙ্গে। আর একদল মশা মশারির বাইরে থেকেই ভুঁড়িতে শুঁড় ঢুকিয়ে দিয়েছে। কারও বুঝতে বাকি রইল না ভুঁড়িওয়ালা হিসাবে কাকে বোঝানো হয়েছে। হাসির ঝড় উঠল। অতুলনীয় সততা আর বিপুল জনপ্রিয়তার মতই এমপি নানার ছিল অদ্বিতীয় এক ভুঁড়ি। প্রচলিত আছে, রাস্তা ঘাটে কারও বাড়িয়ে ধরা কাগজে সই করতে হলে নানার নাকি টেবিলের দরকার হতো না, ভুঁড়িতে রেখেই কাগজে সই করে দিতেন। সবার অতি আপনজন, সদা সহজপ্রাপ্য হাতের কাছের আমার সেই নানা, আজ নাগালের কত বাইরে। কোথায় আজ সে রকম নেতারা ?
আবার গতির প্রসঙ্গ। গাড়ি নয়, এবার সাইকেল। আব্বার একটা হারকিউলিস সাইকেল ছিল। (তখনকার দিনে প্রায় সব ডাক্তারদেরই বোধহয় সাইকেল রাখতে হতো। ‘কলে’ যাওয়ার সুবিধার জন্যে। বিহারি ডাক্তার সাহেব, ধীরেন্দ্র কাকাবাবু, সতীশ কাকাবাবু- তাঁরাও সাইকেল চালাতেন। লেইস চাচাকেই কখনও সাইকেলে দেখিনি। তিনি চলতেন রিক্সায়, প্রায়সময়ই লুঙ্গি পরে। মুখের ভেতরে থাকত পান আর বাইরে মিষ্টি একটা হাসি। সব মিলিয়ে, রাশভারি নয়, কোমল এক ব্যক্তিত্বের প্রভা যেন ঘিরে থাকত ডাক্তার চাচার সমস্ত অবয়ব জুড়ে। সেই সময়ের মানুষজন এত হাসিখুশি থাকতেন কী করে?)। দিরাই থাকাকালীনই ‘হাফ-প্যাডেলে’ বাইসাইকেল চালানো শিখে গেছি। বামহাতে হ্যান্ডেল ধরে ডানবগল দিয়ে সিটের উপর সাপোর্ট রেখে তিনকোণী ফ্রেমের ভেতর দিয়ে ডান পা ঢুকিয়ে আধা চক্কর প্যাডেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাইকেল চালানো। এই ধরনটাকেই হাফ-প্যাডেল বলা হতো। ছোটদের মাপের কোনও সাইকেল তো সে’সময়ে ছিল না, তাই সে বয়সে সাইকেল চালাতে হলে হাফ-প্যাডেলেই চালাতে হতো। সে আরেক প্রথমের আনন্দ। এই প্রথমের সাথে চাচা এখনও যুক্ত হননি। হবেন একটু পরেই।
’৭১-এর শুরুতে আমরা ধোপাখালীর পাশে টিবি ক্লিনিকের কোয়ার্টারে থাকি। বর্তমানে যেটা বিডিআর ক্যাম্প, সেটা ছিল আসলে আব্বার, মানে মেডিকেল অফিসারের কোয়ার্টার। শ্মশানঘাটের পর ইটখলার একটা ছোট অফিসঘর ছিল। প্রায় সারা বছরই বন্ধ থাকত। তার পরেই ক্লিনিক ও আমাদের বাসা, মাঝখানে আর কোনও বসতি নেই। রাস্তা তখনও পাকা হয়নি। রাতের বেলায় তো প্রশ্নই উঠে না, বিকেল-সন্ধ্যায়ও শ্মশানঘাটের সামনে দিয়ে যেতে হলে একটিবারও ওদিকে না তাকিয়ে এক দৌড়ে জায়গাটুকু পার হয়ে যেতাম। শুধু আমি না, ছোটরা সবাই ওরকম করত। ক্লাস নাইনে পড়ি তখন, গায়ে গতরে একটু বড় হয়েছি। চেষ্টা করতে করতে, পড়ে গিয়ে শরীরের ছাল বাকল তুলতে তুলতে, একসময় সিটে বসে সাইকেল চালানো শিখে গেলাম। পুরোপুরি শেখা নয়, সক্ষম হলাম আর কী। সে আর এক অ্যাক্রোব্যাটিং। প্যাডেল নিচে চলে গেলে পা দিয়ে নাগাল পাই না। অন্যপাশের প্যাডেল তখন উপরে উঠে আসে। সেটাতে চাপ দিয়ে শরীর বাঁকিয়ে বেশটুকু নিচে নামালেই কেবল বিপরীত প্যাডেল সেদিকের পায়ের নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই একবার ডানে আর একবার বায়ে কাঁত হয়ে হয়ে চালানো। এক দৃশ্য বটে। স্বাভাবিকভাবে চালানোর মত বড় হয়ে উঠতে না উঠতেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। আমরাও টেকেরঘাট চলে গেলাম। সঙ্গে সাইকেলটাও গেল। কিন্তু ততদিনে চাকায় হাওয়া নেই। আশেপাশে কোথাও পাম্পারও নেই যে হাওয়া দেবো। আমার সাইকেল চালানো শেখা বুঝি আর হলোই না! চোখের সামনে সাইকেলটা, ঝেড়েমুছে রাখি। একদিন দেখি টায়ারদুটো কয়েক জায়গায় ফেটে গেছে। মনে কী যে ব্যথা, যেন নিজের শরীরের চামড়াই ফেটে গেছে!
তাহিরপুর আমাদের হাতছাড়া হওয়ার কিছুদিন আগের কথা। জুলাই-আগস্ট মাস হবে। ওই সময় ঘটে আমাদের সাব-সেক্টরের এক অবিস্মরণীয় ঘটনাÑ মুক্তিযোদ্ধারা জামালগঞ্জ দখল করে নিলেন। তাঁরা সুরমা নদী দিয়ে যাওয়া মালবাহী কার্গো-জাহাজ, বার্জ ইত্যাদি কব্জা করে টেকেরঘাটে পাঠাতে থাকলেন। এসব জলযানে থাকা চাল গম ডাল ইত্যাদি খাদ্যশস্য আবার পাঠানো হলো বালাট শরণার্থী শিবিরে। ওষুধপত্র রেখে দেওয়া হলো স্থানীয় হাসপাতালে ব্যবহারের জন্যেই। দুজন এমবিবিএস ডাক্তার ও সিলেট মেডিকেলের তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র, জালাল আহ্মেদ (আমার আর এক মামা, বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ), তখন টেকেরঘাট সাব-সেক্টর হাসপাতালে। চিকিৎসার এমন আয়োজন পাঁচ নম্বর সেক্টরের আর কোনও সাব-সেক্টরেই ছিল না। দখলকৃত মালামালের মধ্যে নিত্যব্যবহার্য অনেক কিছুই ছিল, যেমন ছিল সাইকেলের টায়ার টিউব ও পাম্পার। আর কি মাথা ঠিক থাকে? আমার নিজের চোখে দেখা হয়ে গেছে- ঢেউটিন দিয়ে বানানো অস্থায়ী গুদামে এসব রাখা হয়েছে। একটা দুটো নয়, শত শত। সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব এমপি নানার হাতে। সাথে নিশ্চয়ই অন্যরাও আছেন। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আর নানার দস্তখত ছাড়া কোনও একটা জিনিসেরও বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। (যক্ষের ধনের মত আগলে রেখেছিলেন বলেই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এসব মালমালের উদ্বৃত্তাংশ বিক্রিকরা অর্থ দিয়ে গঠন করা হয় ‘মুক্তিসংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্ট’। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সারা দেশে এরকম আয়োজন আর দ্বিতীয়টি হয়েছিল বলে আমার জানা নেই। সেই অশান্ত সময়ে বিশ্বস্ততার সঙ্গে এই কঠিন দায়িত্ব পালনে আব্দুজ জহুর এমপি সাহেব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ভূমিকা ক’জন জানেন বা মনে রেখেছেন?) রাতে তো আর ঘুম আসে না। ঘুমালেও স্বপ্নে দেখি, বড়ছড়া থেকে টেকেরঘাট হয়ে ডাম্পের বাজারের দিকে ছুটে চলেছি, দুরন্ত গতিতে ফুল প্যাডেলে সাইকেল চালিয়ে। সকালে জেগে উঠেই চোখ চলে যায় ফাটা টায়ারের দিকে। অথচ একটু দূরেই গুদামের ভেতর থেকে হাতছানি দিচ্ছে টায়ার, টিউব আর পাম্পার। কী করা যায়! আব্বাকে তো বলাই যাবে না। যদি জানতে পারেন নানার কাছে এসব চাইতে গেছি, মারও খেতে পারি অনৈতিক আবদার করার অপরাধে। নানীকে গিয়ে ধরলাম। নানার কাছে পেশ করার জন্যে একটা দরখাস্তও দিলাম নানীর হাতে। কিন্তু যা ভেবেছিলামÑ নানা রাজি হলেন না। স্বজনপ্রীতি হবে। শত শত সেট থেকে একটা সেট দিয়ে দিলে কী এমন অশুদ্ধ হয়ে যায়! নীতি আর দেশপ্রীতিই দেখলেন শুধু, ১৩-১৪ বছরের এক কিশোরের ভেতরের উথাল পাথালটা বুঝতে পারলেন না? কিসের জনগণের বন্ধু আপনি! আপনার নাতি কি জনগণের বাইরের কেউ? অভিমান উথলে উঠে। নিদারুণ এই পরিস্থিতিতে পরিত্রাতা হিসেবে দৃশ্যপটে আবার হাজির হন চাচা। লেখকের দৃষ্টি তো আর সাধারণের দৃষ্টি নয়। অন্তরদৃষ্টি দিয়ে চাচা বুঝতে পেরেছেন আমার মনের ভেতরে ভাংচুর কিছু একটা হচ্ছে। সব খুলে বললাম। তিনি মোক্ষম এক বুদ্ধি বাতলে দিলেন।
এমপি নানার পাশেই সপরিবারে থাকতেন সে সময়ের বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন বখ্ত সাহেব। বখ্ত সাহেবকে নানা শ্বশুর জ্ঞান করতেন। তাঁর কোনও নির্দেশ, কোনও কথা নানা রাখবেন না, এমনটা ভাবাই যেত না। চাচার দেয়া বুদ্ধিমত নানীর মাধ্যমে আমার দরখাস্ত গেল বখ্ত সাহেবের হাতে। তিনি কাগজটা নানার হাতে দিয়ে বললেন, ‘গুদামের ভেতর ঠেসে ঠুসে রাখা এ সব মালামাল এমনিতেই ক’দিন পরে নষ্ট হতে শুরু করবে। গরমে রাবারের টায়ার টিউব মনে হয় এর মাঝেই গলে যেতে শুরু করেছে। তোমার সততা এমন ঠুনকো আর তুলতুলে নয় যে, ছেলেটাকে এক সেট টায়ার টিউব দিয়ে দিলে গলে যাবে’। আর কোনও কথা লাগে? আমার জিনিস আমি পেয়ে গেলাম। ঐ বয়সে, সাইকেল-কাতর মনের ঐ অবস্থায়, এরচে’ বড়ো কিছু পাওয়ার থাকতে পারে, এ কথা কেউ বললে আমি তাকে নির্দি¦ধায় মিথ্যাবাদী বলব। চাচা, আবারও স্যালুট আপনাকে।
আমাদের বাসাটা ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রায় দু’শ গজ ভেতরে, ভারতে। মুক্তাঞ্চলে তখন তো সীমান্ত- টিমান্ত বলে কিছু ছিল না, সব একাকার। বাসার চারপাশেই টিলা, পাহাড়। খেলা-ধুলার জন্যে সমতল জায়গা নেই। তাই সমবয়সী দু’চারজন মিলে দৌড়াদৌড়ি করতে হলেও চলে আসতাম এপাশে, বাংলাদেশে। টেকেরঘাট লাইমস্টোন মাইনিং প্রজেক্টের ম্যানেজার বা ইঞ্জিনিয়ারÑ এ রকম এক বড়কর্তার বাংলো ছিল ওখানে। বাংলোর পাশেই ছিল ছোট খেলার মাঠ। আমরা ওখানেই খেলতাম। ফুটবল, ক্রিকেট-ব্যাট বা খেলার কোনও উপকরণ তো ছিল না, তাই খেলা মানে দৌড়াদৌড়ি, গোল্লাছুট- এসব আর কী। দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন আগের ঘটনা, সম্ভবত নভেম্বর মাস হবে। সেদিনও আমরা খেলছি ঐ মাঠে। খেলার ফাঁকে ফাঁকে এদিক ওদিক দৃষ্টি যাচ্ছে। স্পষ্ট পার্থক্য কিছু না, কিন্তু চারপাশের আবহটা যেন অন্যদিনের মত নয়। যুদ্ধসংশ্লিষ্ট সবার মাঝেই কেমন একটা চাপা উত্তেজনা। মুক্তিযোদ্ধাদের চলাফেরায় একটা অন্যরকম ব্যস্ততা। কী সব জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন নৌকাঘাটের দিকে। ইলেকট্রিক ক্যাবল বা টেলিফোনের তার পেঁচানো কাঠের বড় বড় চাকতিও দেখলাম গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ওদিকে। ১২ দাঁড়, ১৬ দাঁড়ের দ্রুতগতির যে নৌকাগুলো অপারেশনে যাওয়ার সময় তাঁরা ব্যবহার করেন, ঐ ঘাটেই সেগুলো বাঁধা থাকে। সবকিছু মিলিয়ে যেন একটা অন্যরকম প্রস্তুতি। বিশেষ কিছু কি হতে যাচ্ছে? সন্ধ্যায় বাসায় গিয়ে দেখি আব্বা বাসায় নেই। চাচাও নেই। বেশ রাতে ফিরলেন এঁরা। বড়দের কথা বার্তা থেকে আভাসে ইঙ্গিতে যতটুকু বুঝলাম তা হলো, আসছে ভোর রাতে নতুন ধরনের এক অপারেশন হবে। এতদিন শুধু গেরিলা যুদ্ধ হয়েছে। ওত পেতে বসে থাকো, আচমকা আঘাত করো, তারপর ভাগো। কিন্তু এই ভোরে হবে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধ। দখল করার লক্ষ্য ও শক্তি নিয়ে তাহিরপুর আক্রমণ। ভারি অস্ত্র চালনায় পারদর্শী বিএসএফ-এর একটা দল মাইল দুই পেছন থেকে ভারি আর্টিলারি ফায়ার দেবেন। আর সামনে পদাতিক যোদ্ধারা শত্রুদের উৎখাত করে তাহিরপুরের দখল নেবেন।
প্রায় মাঝরাত। উত্তেজনায় ঘুম আসছে না। কখন ফজরের আযান হবে, ঐসময় আর্টিলারি শেলিং শুরু হওয়ার কথা। এতদূর থেকে কেমন শোনা যাবে শেলিং-এর আওয়াজ? পাশের ঘরে চাচী কি কাঁদছেন? একটু আগে চাচা বড়দের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেছেন। ছোটরা সবাই ঘুমে। আমিও বিছানায়, তবে সজাগ। টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয় উদ্যোগে নিজের নেতৃত্বে চাচা দিরাই অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ করেছেন। তারপর টেকেরঘাটে এসেও তো অনেক অপারেশনে গেছেন। সেগুলো ছিল গেরিলা যুদ্ধ, নিজেরা ঘেরাও না হলে হতাহত হওয়ার আশংকা কম থাকে। কিন্তু আজকের অপারেশন তো ‘হিট এন্ড রান’ নয়, একেবারে সামনাসামনি যুদ্ধ। যে কোনও অঘটনই ঘটতে পারে। আল্লাহ্ না করুন, আজকের এই বিদায় নেয়াটাই হয় তো চাচার শেষ বিদায় হয়ে যেতে পারে। চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়ে আল্লাহ্র কাছে একটা দুয়া-ই করতে থাকলামÑ তাহিরপুরের দখল নিতে পারলে তো ভালই, না পারলে না পারলাম, আমাদের কেউ যেন প্রাণ না হারান। চাচা যেন সুস্থ শরীরে ফিরে আসেন। অনেকটা সে রকমই হলো। ঐ যুদ্ধে আমরা জিততে পারলাম না। গোলন্দাজদের পক্ষে দূর থেকে লক্ষ্যবস্তু কিংবা নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাতের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখতে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই অগ্রবর্তী পদাতিক যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে অথবা মধ্যবর্তী কোনও নিরাপদ উঁচু অবস্থান থেকে গোলা বর্ষণের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এদিক-ওদিক হলে সঠিক নিশানা সম্পর্কে গোলন্দাজদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্যনির্দেশনা দিতে হয়। সেই লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে সারাক্ষণ যোগাযোগ বজায় থাকাটা খুবই জরুরি। এই যোগাযোগরক্ষায় ওয়ারলেস সেট ছিল কি না জানি না, তবে হাওরের পানি এবং স্থলভূমিতে গাছ গাছালির উপর দিয়ে তার টেনে নিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে শুনেছি। কিন্তু তার ছিঁড়ে যাওয়া বা কারিগরি কোনও ত্রুটিতে সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায়, কিংবা অন্য কোনও কারণে, কয়েকটা গোলা নিক্ষেপের পরই আর্টিলারি ফায়ার বন্ধ করে দিতে হয়। শেষমেশ তাহিরপুর শত্রুমুক্ত না করেই আমাদের যোদ্ধাদের ফিরে আসতে হয়। কেউ নিহত না হলেও বেশ ক’জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। চাচা অক্ষত শরীরেই ফিরে আসেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে কত অপারেশনেই তো গেছেন মুক্তিযোদ্ধা সালেহ্ চৌধুরী। সৃষ্টিকর্তা আবার তাঁকে ফিরিয়েও দিয়েছেন আত্মীয় পরিজনের কাছে। ৮২ বছর যে তাঁর জন্যে বরাদ্দ।
দেশ স্বাধীন হলে তিনি সপরিবারে চলে গেলেন ঢাকা আর আমরা ফিরে এলাম সুনামগঞ্জে। পরবর্তীতে খুব একটা দেখাসাক্ষাৎ হয়নি। আমার সুনামগঞ্জ-সিলেট কেন্দ্রিক জীবন আর তাঁর ঢাকা কেন্দ্রিক। শেষ দেখা হয়েছিল ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে। ৫ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলনী অনুষ্ঠানে সেদিন আব্বাকে বিশেষ সম্মাননা-স্মারক প্রদান করা হয়। চাচাও ছিলেন মঞ্চে। আব্বা তখন বেশ দুর্বল হয়ে গেছেন। ২০১২ সালের ১০ জুন ৮৭ বছর বয়সে তো চলেই গেলেন। একটা পরিকল্পনা হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র, সুনামগঞ্জ-এর উদ্যোগে আব্বাকে নিয়ে একটা বই বের করা হবে। লেখা চেয়ে আব্বার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। চমৎকার একটা লেখা দিয়েছিলেন আঞ্জীর চাচা। এখনও বের না হওয়ায় বইটা আর তাঁর হাতে তুলে দেয়া হলো না।
লেখক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, আঁকিয়ে সালেহ চৌধুরীকে নিয়ে লিখবেন, বলবেন তাঁরাÑ যাঁরা তাঁর কাছের মানুষ ছিলেন, সহযোদ্ধা ছিলেন। যাঁরা তাঁর সাদর আলিঙ্গনের নৈকট্য পেয়েছেন, তাঁর সান্নিধ্যযাদুতে বিমোহিত হয়েছেন। যাঁরা তাঁর নেতৃত্বে বা সঙ্গে থেকে মরণপণ যুদ্ধ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় জুড়ে। তাঁকে নিয়ে লেখার আমি কে? তাঁকে উপস্থাপন করার মত জানাশোনা তো আমার নেই। বয়সের ব্যবধান আর অন্যত্র অবস্থানের কারণে আমার পক্ষে সরাসরি তাঁর কাছে ভেড়ারও তেমন অবকাশ ছিল না। অল্প যা কিছু জানা সবই পরোক্ষভাবে, যতটুকু দেখা তাও দূর থেকে। মুক্তিযুদ্ধের সময়টুকুতেই যা কিছুটা কাছে থেকে দেখেছি, সেই কিশোরবেলায়। একজন কিশোরের চোখে তাঁকে বা সেই সময়টাকে দেখা তো আর বড়দের দেখার মত হবে না। বাস্তবের মতই তার চিন্তার জগৎটাও তো ছোট। সেই জগতেরও প্রায় পুরোটাই তার একান্ত নিজের। আর বাকি যেটুকু থাকে সেখানেও পরিবারের দখল। ফলে তার বর্ণনায় বারবার বাবা, চাচা, নানা, মামা, খালারা এসেছেন। এটাকে আত্মচর্চা হিসেবে দেখলে ১২-১৪ বছরের এক ছেলেমানুষের প্রতি বোধ করি সুবিচার করা হয় না।
প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে এক কিশোরের জীবনের নিতান্তই ব্যক্তিগত কিছু ঘটনা আর পাশাপাশি কিছু সাধারণ (?) মানুষের অসাধারণ কীর্তির বর্ণনার ভেতর দিয়ে এগিয়েছে লেখাটা। যে প্রয়াসের উপলক্ষ সালেহ্ চৌধুরী নামের মানুষটি, যিনি আমার আঞ্জীর চাচা। কখনও গল্পের কেন্দ্রে তিনি, কখনও প্রান্তে। কখনও দৃশ্যমান, কখনও দেখা দেন না। তবু আমি তো জানি, সেই সময়ে আমার চাওয়া-পাওয়ার, হাসি-কান্নার জগতের কতটা জায়গা জুড়ে ছিলেন তিনি, স্মৃতিতে যেমন আজও আছেন তেমনি। কিন্তু জনৈক এক কিশোরের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার গল্পে বর্তমান সময়ের একজন পাঠকের কিছু এসে যায় কি? আমি জানি না। তাহলে কেন এই অর্থহীন লেখা? লেখার উদ্দেশ্য একটাই, চাচাকে নিয়ে আমার ছেলেবেলার অমূল্য যত স্মৃতি আজও সযতেœ লালন করে রেখেছি, সেই স্মৃতির অর্ঘ্য তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা। আমার বিশ্বাস, তিনি যদি লেখাটুকু পড়তেন তাহলে ভাল লাগতো তাঁর। এই ভাললাগা লেখার মান বিচারে নয়, সন্তানবাৎসল্যের কারণে। যা আমি মিস করব আমার বাকিটা জীবন জুড়ে।


