শহীদ নূর আহমেদ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। গ্রামীণ পঞ্চায়েতর উদ্যোগে এবতেদিয়া পর্যন্ত চলছিল শিক্ষা কার্যক্রম। ২০০৮ সালে দাখিল পাঠদানের অনুমুতি দেয় মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড। দীর্ঘ ৩৩ বছর পাঠ কার্যক্রম পরিচালনা করার পরও একাডেমিক স্বীকৃতি পায়নি এই প্রতিষ্ঠানটি।
জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় পাশের হার, ভূমির মালিকানা, অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত শিক্ষক- শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৩৩ বছর পরও প্রতিষ্ঠানটি কেন একাডেমিক স্বীকৃতি পাচ্ছে না এমন প্রশ্ন অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম। কর্মরত শিক্ষকরা পাচ্ছেন না প্রাপ্য সম্মানী। দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহযোগিতায় চালাতে হচ্ছে।
নতুন ভবন নির্মাণসহ যাবতীয় সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে একাডেমিক স্বীকৃতির পাওয়ার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন নতুন জেলা শিক্ষা অফিসার।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রথম দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাদ্রাসাটি। গত ৮ বছরের জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল উপজেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে তুলনামূলক ভাল ফলাফল করেছে এই মাদ্রাসাটি। ধারাবাহিক ভাল ফলাফল করলেও একাডেমিক স্বীকৃতি পেতে জটিলতা পোহাতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে। একাডেমিক স্বীকৃতির জন্য লিখিত আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাঙ্খিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের।
গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবির মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেছেন। এমতাবস্থায় একাডেমি স্বীকৃতি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন মাদ্রাসা সুপার। মাদ্রসার সুপার মাও. জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন, একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ার যে শর্ত রয়েছে তার সব কয়টি আমাদের প্রতিষ্ঠানে পূরণ করা হয়েছে। বিগত ৮ বছরের জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় আমরা অনেক ভাল ফলাফল অর্জন করেছি। একাডেমিক স্বীকৃতি আটকে থাকায় প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি করা যাচ্ছে না। তাই একাডেমিক স্বীকৃতি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।
জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘আমি জেলায় নতুন এসেছি। এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কোন তথ্য আমার জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যদি আমার সাথে যোগাযোগ করেন তাহলে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করব।’
- জগন্নাথপুরে অতিরিক্ত ডিআইজি- নির্বিঘ্নে শারদীয় উৎসব পালন করুন
- জগন্নাথপুরে সংঘর্ষের মামলায় জুনেদ রিমান্ডে


