হাওররক্ষাবাঁধনির্মাণ ও দুর্নীতি

ইকবাল কাগজী
সুনামগঞ্জ জেলায় গত বোরো ফসলডুবির বিষয়টি (কেউ কেউ এটিকে এমনকি জাতীয় বিপর্যয় বলে আখ্যাত করেছেন) সর্বজনবিদিত। ডুবেছিল বন্যার জলে। তবে এমনিতেই নয়, বাঁধ ভেঙে বা জল উপচে। বাঁধ মানে ফসলরক্ষাবাঁধ। বর্ষায় এই বাঁধগুলো, যে-গুলোর পাউবো-প্রশাসনিক নাম ‘ডুবন্ত বাঁধ’, জলের তলে তলিয়ে যায়। ‘বন্যার জলে’ এবং ‘বাঁধ ভেঙে বা উপচে’ ফসল তলিয়ে যাওয়ার  মধ্যে একটু কিন্তু আছে অর্থাৎ আলগা কহতব্য আছে। এই ‘কিন্তুগত কহতব্য’টুকু কয়ে নেওয়ার আগে কয়ে নিতে চাই, গত মৌসুমে সুনামগঞ্জের বোরো ধানই একা তলিয়ে যায়নি, তৎসঙ্গে তলিয়ে গিয়েছিল সমগ্র ভাটি অঞ্চলের বোরো ধানও। সুনামগঞ্জ বলতে গেলে শতভাগ ফসলহানির শিকার হয়েছিল। ক্ষতির পরিমাপটা এতোটাই বিশাল যে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত ভাটি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সে-ফসলহানি বিচলিত করে তোলে। তাঁরা দু’জনই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুর্গত এলাকা সফর করেন এবং জনদাবি উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জকে ‘দুর্গত এলাকা ঘোষণা’ না করলেও বিপন্ন মানুষের বিপদভঞ্জনে যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হন।
‘কিন্তুগত কহতব্য’টুকু সত্যিকার অর্থেই বহরে কীছুটা বিস্তৃত বিষয়াশয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে সুনামগঞ্জে প্রায় প্রতিবছরই কমবেশি ফসলহানি ঘটে, বলা যায়, অনাদিকাল থেকে, এখানকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই এমন। কৃষকরা এখানে প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রতিকূলতার সঙ্গে, ঠিক করে বলতে গেলে, হাওরের সঙ্গে  যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। হাওরে ফলন্ত ফসল শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও পাহাড়ি ঢলে-সৃষ্ট-বন্যায় তলিয়ে যায় কিংবা আফালে ভেঙে নিয়ে যায় বসত ভিটা। এই সব প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে যারা বেঁচেবর্তে থাকে তাঁরাই আজন্ম সংগ্রামী ভাটির কৃষক। এখানকার হাওরের ফসলহানির দুঃখ মোচনের সরকারি প্রচেষ্টার নাম হাওররক্ষাবাঁধনির্মাণ। ভাটি অঞ্চলের ফসল বাঁচলে কেবল হাওর বাঁচে না দেশও বাঁচে, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা মজবুত হয়। গত মৌসুমের বোরো ফসলহানি দেশে যে খাদ্যঘাটতি তৈরি করেছে বর্তমানে, অবশ্যই দৃশ্যমান,  তার ধকল সইতে হচ্ছে সরকারকে, সংকটমোচনে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে । খাদ্যনিরাপত্তা তৈরির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষার্থে সরকার হাওরক্ষাবাঁধনির্মাণের ব্যবস্থা গড়ে তোলেছেন। কিন্তু এই বাঁধনির্মাণ কার্যক্রমের আপদমস্তক জুড়ে দুর্নীতির প্রাদুর্ভাব এতোটাই প্রকট যে, সেটা ফসলহানিকে একরকম অনিবার্য করে তোলে এবং দিনে দিনে নিঃস্ব হওয়ার দিকে ভাটি অঞ্চলের কৃষকশ্রেণিকে ঠেলে দেওয়ার একটি অনিবার্য আর্থনীতিক প্রক্রিয়া বজায় রাখে।
এমনিতে জনস্ফীতির চাপে পড়ে বছরের পর বছর ভাটি অঞ্চলের কৃষকদের সচ্ছলতার মুখ দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য শিকেয় উঠেছে। আর্থনীতিক উৎপাদনের চেয়ে জৈবিক উৎপাদন উত্তরোত্তর বেড়েছে ও ক্রমাগত বাড়ছে এবং অন্যদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও এখানে  অনেকটাই অকেজু। বর্তমানে কৃষক কেবল সাংবাৎসরিক খোরাকি সংগ্রহের আশায় ধান উৎপাদনে শ্রম নিয়োগ করে, হাটের চাল আর ঘাটের পানিতে সংসার চালানোর স্বপ্নের অধিক কোনও স্বপ্ন আজকাল কৃষকের চোখে আর ঝিলিক মারে না। ঘরের চালে জীবন চলা, খেয়ে পরে কোনওমতে বেঁচে থাকাই একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে উত্তীর্ণ হয়ে হাওরের কৃষকের জীবনব্যাপী বড়ো স্বপ্ন। হাওরের কৃষক প্রতিমৌসুমে যে ধান উৎপাদন করে তাতে তার উৎপাদন খরচও উঠে আসে না । বোরো ফসলের উৎপাদনে  ফি বছর বর্ধিত হারে লোকসান গোণে তারা ইতোমধ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ উৎপাদন খরচের নীচে উৎপাদন, এমন এক উৎপাদন ব্যবস্থার অধীনে জীবননির্বাহে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে হাওরের কৃষক। তারপরও ফসলহানির পর তাকে সইতে হয় হাওররক্ষাবাঁধ নিয়ে প্রতিকারহীন ব্যাপক দুর্নীতির মরার উপর খাড়ার ঘা। যাকে বলে হাওররক্ষাবাঁধে দুর্নীতির ধকল। ইতোমধ্যে শহুরে হয়ে উঠেছেন ভাটি অঞ্চলের এক সম্পন্ন শিক্ষিত কৃষক তো কথা প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ‘এবারের ফসলহানির ধাক্কায় হাওর কৃষকশূন্য হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।’ কথাটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়, বরং ভাবনার বটে।
ভাটি অঞ্চলের কৃষকদের জীবনে গত ‘মৌসুমী বছরটি’ (১৪২৩ বঙ্গাব্দ) অতিবৃষ্টি, দুর্বার পাহাড়ি-ঢলে-সৃষ্ট-বন্যার হামলা, একে একে হাওররক্ষাবাঁধগুলো (পাউবোর প্রশাসনিক নামকরণে ‘ডুবন্ত বাঁধ’) তলিয়ে যাওয়া, আকস্মিক খাদ্যসংকট ঘরে ঘরে হামলে পড়ার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। কোটি মানুষের সকল স্বপ্নসাধের সলিল সমাধি ঘটিয়েছে, সে অপ্রতিরোধ্য দুর্যোগ। যদিও ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলতে মন ও বাস্তবসম্মত যৌক্তিক বুদ্ধি সায় দেয় না, কিন্তু  বাস্তবে তো ঠিকই প্রতিরোধ করা যায়নি। কোনও রকমের বিতর্কের ধারেকাছে না গিয়ে সোজা কথায় বলা যায়, দুর্যোগটি আবির্ভূত হয়েছিল প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবণতা, এখানে অতিবৃষ্টি-সৃষ্ট-পাহাড়ি-ঢল  ও একশ্রেণির ব্যবসায়ী মানুষের অনর্জিত আয় উপার্জনের অবিমৃষ্যকর লোভ তথা হাওররক্ষাবাঁধনির্মাণে কৃত দুর্নীতির কারণে। দুর্যোগ অবতীর্ণ হওয়ার পর দুর্যোগের কারণ নিয়ে হাওরবাসী, সরকার-প্রশাসন, পাউবো কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজের একাংশ (হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন) ও সাংবাদিক সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সোজা কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, হাওররক্ষাবাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম অতীতের তুলনায় এবারের মৌসুমে বেশি তৎপর হয়ে পড়ায় হাওররক্ষাবাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির প্রসঙ্গটি সাধারণ মানুষের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে, এই স্পষ্টতা এতটাই প্রকট ছিল যে, সরকারি কর্তৃপক্ষর পক্ষেও সেটাকে উপেক্ষা করার কোনও উপায় ছিল না। তা ছাড়া ‘হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে জেলার সর্বত্র, আন্দোলন গড়ে উঠে, দাবি উঠে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার। এর বিপরীতে এক মতবিনিময় সভায় একজন সচিব বলেছিলেন যে, জেলার অর্ধেক মানুষ মরে ভূত না হলে তিনি জেলাকে দুর্গত ঘোষণা করার পক্ষে নন এবং জেলার দু’একজন জনপ্রতিনিধি রাজনীতির মাঠে ক্যারিশমা দেখানোর তাগিদে এই  সচিব মহোদয়ের তালে মজে সহমর্মিতার বগল বাজিয়েছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘাড়ে ফসলহানির দায় বর্তানো গেলে দুর্নীতির প্রসঙ্গটিকে আড়াল করা সম্ভব হয় সহজেই এবং তাহলে পাউবো, পিআইসি, ঠিকাদাররা রক্ষা পান দুর্নীতির দায় থেকে।
জানা কথা, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে প্রতিহত করার একমাত্র পথ হাওররক্ষাবাঁধকে পাহাড়ি-ঢল-সৃষ্ট-বন্যা প্রতিরোধী করে তোলা। সেটা করতে হবে প্রাযুক্তিক জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার করে। এর কোনও বিকল্প নেই। বলা বাহুল্য, একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসে হাওরে পাহাড়ি-ঢলে-সৃষ্ট-বন্যার মতো একটি প্রাকৃতিক ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানুষের নেই, ভাবতেই পারা যায় না। এই ব্যর্থতা বাংলাদেশের মানুষের। চীনারা তো সর্বনাশী হুয়াংহু নদীকে নিয়ন্ত্রণ করেছে । বাংলাদেশে পাহাড়ি ঢলে সংঘটিত বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এটা হতে পার না। পাহাড়ি ঢলের কাছে এই পরাজয়ে বরং প্রমাণিত হয় যে, কোনও না কোনও কারণে বিজ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার করা হয়নি বা বিজ্ঞানের ব্যবহার কোনও না কোনও শ্রেণিস্বার্থে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বা এর অপব্যবহার হচ্ছে। আমরা জানি, উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার দূরে থাক, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বৃটিশ আমলের পর থেকে নদীখনন ও নদীশাসনের কোনও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।
দ্বিতীয় কারণ দুর্নীতিনির্মূলের আলোচনার শুরুতেই বলে নিতে চাই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার দুর্নীতির সূচকে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা ছিনিয়ে নেওয়া একটি দেশ। এখানে বরং কোনও কাজে দুর্নীতি না হওয়াটা অস্বাভাবিক। এমন ব্যাপকমাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে দুর্নীতি হওয়ার নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি সম্পর্কে একজন লেখক লিখেছেন, “আমরা এখানে ‘দুর্নীতি’ নাম দিয়ে যার আলোচনা করছি তা আসেলে ‘চুরি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। শিক্ষিত বা কলমধারী না-হয়ে এরকম চুরি বা দুর্নীতি করার ক্ষমতা কেউই অর্জন করতে পারে না। সংখ্যালঘু শিক্ষিত লোকেরাই সংখ্যাঘরিষ্ট গণমানুষকে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রবঞ্চিত করে, নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সমগ্র জাতির অগ্রগতি ব্যাহত করে।” (যতীন সরকার, বিনষ্ট রাজনীতি ও সংস্কৃতি, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি ২০১১, পৃষ্ঠা : ২০৯।)এখানে লেখক তাঁর মন্তব্যে যে-‘শিক্ষিত বা কলমধারী’দের প্রসঙ্গ প্রতিস্থাপন করেছেন প্রকৃতপ্রস্তাবে হাওরাঞ্চলে হাওররক্ষাবাঁধনির্মাণে দুর্নীতি করছে তারাই, যারা পাউবোর কর্মকর্তা, পিআইসি কিংবা ঠিকাদার হতে পেরেছে, নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে, এরা কেউ কৃষক নয়। হাওরবিপর্যয় নিয়ে তদন্ত করতে আসা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সম্মুখে এই সব ‘শিক্ষিত বা কলমধারী’দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, কমিটি তাঁদেরকে না ডাকলেও ‘ঠাকুর ঘরে কে রে?’ প্রশ্নের পর  ‘আমি কলা খাই না’ জবাবটা দিতে তাঁরা ঠিকই এসছিলেন।
্এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, হাওরপাড়ের প্রকৃত কৃষকদেরকে সম্পৃক্ত করে হাওররক্ষাবাঁধনির্মাণের পিআইসি গঠন করবেন। খুবই সাধু সিদ্ধান্ত, প্রসংসনীয় তো বটেই। এই উদ্যোগের একটি ইতিবাচক দিক আছে, যা  তিমিরাচ্ছন্ন সমাজে আশার আলো বিকিরণ  করে। যাৎপরনাস্তি আশাবাদী যতীন সরকার যেমন বলেন, ‘শিক্ষিত লোকদের একাংশের প্রতি যতই ক্ষোভ থাক আমাদের, আমরা কিন্তু জানি : জাতীয় তথা মানবিক প্রগতির জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, প্রকৃত শিক্ষাই আমাদের নীতি-সচেতন করে তুলতে পারে। দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধও যে গড়ে উঠছে  তা-ও তো আমরা দেখতে পারছি। এ-রকম প্রতিরোধ গড়ে ওঠার কারণও সচেতন শিক্ষিত ব্যক্তিদেরই সক্রিয় প্রয়াস। সে-রকম প্রয়াস আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।’ (পূর্বোদ্ধৃত, পৃষ্ঠা : ২০৯)। আমরাও আশাবাদী হতে চাই সজ্জন যতীন সরকারের মতো। কিন্তু তারপরও কেন জানি না মন মানতে চায় না। সেই পুরনো প্রবাদ, ‘চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী’ মনে বার বার জেগে উঠে ।  আগের বারের ফসলরক্ষাবাঁধনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন যে-সব পাউবো, পিআইসি কিংবা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁরাও ছিলেন কমবেশি শিক্ষিত কেউই মূর্খ ছিলেন না। এবারে হাওররক্ষাবাঁধের নির্মাণ কাজের সঙ্গে যাঁরা সংশ্লিষ্ট থাকবেন তাঁরা হলেন : জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাগণ আর সেই সঙ্গে কৃষকরাও আছেন। অর্থাৎ এবার যাঁরা      হাওররক্ষাবাঁধনির্মাণ কাজের বাস্তবায়নে থাকবেন তাঁরা আগের বারের শিক্ষিতজনদের মতোই শিক্ষিত। বিখ্যাত উর্দু কবি  মীর তকি মীর বলেছেন, ‘সব কাজেরই একটা শোভন রীতি আছে, অপরাধ করবার জন্যও কুশলী হতে হয়।’ আমরা আশা করবো এই আশঙ্কা যেনো বাস্তব হয়ে না পড়ে। এমন আশঙ্কার একটা কারণ আছে, যাকে বলে, দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ার আশঙ্কা। আর এর অবশ্য একটা সঙ্গত কারণও আছে। কারণটা স্পষ্ট করতে একটি উদ্ধৃতি তোলে দিতে হচ্ছে, ‘দুর্নীতি আপনা থেকে হয় না। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা, ক্ষমতার বিন্যাস এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোর  ভেতরেই এরকম প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। কাজেই যে ধরণের রাজনীতির আনুকূল্যে এমন আচরণ ঘটে, সেটারও বিশ্লেষণ দরকার। সমকালীন বাংলাদেশে যে বিশেষ ধরণের ক্ষমতার সম্পর্ক ও লেনদেনের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি ঘটে থাকে তাকে ‘পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি (পলিটিক্স অব প্যাট্রোনাইজ) বলে আখ্য দেওয়া যায়।’ (স্বপন আদনান, দুর্নীতির সংস্কৃতি এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি, নতুন দিগন্ত,একাদশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা জানুয়ারি-মার্চ ২০১৩, পৃষ্ঠা : ১০।) পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির বিশ্লেষণ এখানে আপাতত জরুরি নয়। বড় কথা হলো, এই কামনা যে, হাওররক্ষাবাঁধ নির্মাণের কাজে দুর্নীতির আশঙ্কা দূর হোক। এই আশাবাদ ব্যক্ত করা।