বিফল আশায় প্রহর গুণছেন জগন্নাথপুরের মমতা বেগম

জগন্নাথপুর অফিস
ছেলে মারা গেছে তারপরও ছেলে ফিরার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন ৭০ বছর বয়সী মমতা বেগম। তিনি  জগন্নাথপুর উপজেলার কলকিলয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত  নুর আলীর মা।
একমাত্র সন্তান হারিয়ে প্রায় পাগল হয়ে গেছেন তিনি। ছেলের এই মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না। তিনি প্রতিদিন ঘরে দুয়ারে বসে থাকেন আদরের নুর ফিরে আসার জন্য।
গতকাল সোমবার সরজমিনে নিহত নুরের বাড়িতে গেলে বিফল অপেক্ষায় প্রহর গুনা মমতাকে দুয়ারে বসে থাকতে দেখে তার সাথে কথা বলতে চাইলে পরিবারের অন্যান্যরা জানান, সে শারীরিক প্রতিবন্ধী (শ্রবণশক্তিহীন)। এমন সময় তাকে আকার ইঙ্গিতে নিহত নুরের কথা বলতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার চোখ থেকে পড়তে শুরু করে অশ্রু।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নুর মারা যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন দুয়ারে বসে থাকেন মমতা। তিনি মনে করেন তার ছেলে নুর মরে নাই। নুর আসবে। তাই ছেলের অপেক্ষায় আজো দিন গুণছেন।  
নিহত নুরের   
স্ত্রী হাবিবা বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতৃহারা শিশু সন্তান ফাইজা বেগম (৬) জানায়, আমার আব্বারে তারা মারিলিছে। আমরা এখন বাবা ডাকতাম কারে। যারা আমার আব্বারে মারছে তারার বিচার চাই।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রীধরপাশা গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মালিক ও ফয়সল আহমদ এবং একই গ্রামের বিএনপি নেতা জাবেদ কুরেশী পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষের ছুড়া গুলি তার শরীরে লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে অবস্থা খারাপ হলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ দিন পর মারা যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত তছকিন আলীর ছেলের নুর।