শনিবার দেশের নামকরা কয়েকটি পত্রিকা অভূতপূর্ব অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়েছে। পত্রিকার মাস্টহেড ও আঙ্গিক অপরিবর্তিত রেখে মূল ও কয়েকটি সংবাদ পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। মূলত প্রধান বিচারপতির দেশত্যাগ নিয়ে উদ্দেশ প্রণোদিত ও উস্কানিমূলক কল্পিত কাহিনি প্রচার করা হয়েছে এসব নকল শিরোনামযুক্ত পত্রিকায়। প্রতারণার বিষয়টি দ্রুতই গণমাধ্যমগুলোর নজরে আসায় তারা সাথে সাথে অনলাইনে এর সবিস্তৃত ব্যাখ্যা দেওয়ায় পাঠকরা বিভ্রান্তির হাত থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছেন। রবিবারের দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ফেসবুকে প্রতারণা/আসল সমকাল নকল সমকাল’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত একটি ব্যাখ্যামূলক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুক্রবার এমন অনলাইন প্রতারণার শিকার হয় দৈনিক সমকালসহ দৈনিক প্রথম আলো, দি ডেইলি স্টার, ইত্তেফাক, নিউ এজ প্রভৃতি জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক। ‘বেগম খালেদা জিয়া’ ও ‘তারেক রহমান’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে এই সংবাদগুলো প্রচার ও শেয়ার করা হয়েছে বলে সমকালের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অবশ্য এমন নামে কোন ফেসবুক পেজ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করছে। অনলাইন প্রতারণার নানা রকমফের আমরা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু জাতীয় গণমাধ্যমকে এমন করে প্রতারণায় ব্যবহার করার কোন ঘটনা আমাদের জানা নেই। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির এই প্রতারণার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। নতুবা অনলাইনে মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমের যে জনপ্রিয় অবস্থান সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি পাঠকরাও এমন তথ্যসন্ত্রাসের শিকার হয়ে চরমভাবে বিভ্রান্ত হবেন।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায়ের পর প্রধান বিচারপতি হয়ে পড়েন জাতীয় আলোচনার বিষয়বস্তু। তাঁকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দল ভিন্ন ভিন্ন দুই প্রচার-বলয় গড়ে তুলে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলের গত মাসাধিক কালের যাবতীয় তৎপরতা প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কে সকল পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই হয়ত কিছু সারবত্তা বা উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রধান বিচারপতির দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে কিছু মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনারও সুযোগ আছে। কিন্তু এই আলোচনা-সমালোচনাকে শালীনতার সমস্ত সীমারেখা ডিঙিয়ে প্রতারণামূলক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেওলায়িত্বের পরিচয় বহন করে।
এরকম অবস্থায় রাজনীতিকে সঠিক ও গণমুখী অবস্থায় ধরে রাখতে রাজনীতিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নতুবা এই ধরনের অপপ্রয়াস ও চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের বিষবৃত্তে রাজনীতিকে আবদ্ধ করে ফেলার বিষয়টি রোধ করা কঠিন কাজ হবে। রাজনীতির এ ধরনের অধঃপতন শেষ পর্যন্ত জনগণের আশা আকাক্সক্ষার জায়গাটিকে সর্বনাশের জায়গায় ঠেলে দিবে। রাজনীতিকে শুদ্ধিকরণের যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি অনলাইনে এই ধরনের বেআইনি কর্মকা-ের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করাও আবশ্যক। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা অনুমোদনহীন তথাকথিত কিছু অনলাইন গণমাধ্যমের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা প্রয়োজন।

