এ আর জুয়েল
দেশের হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলায় ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়েছিল। ঘটা করে কার্যালয়ের উদ্বোধন হলেও এখানো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাই জেলার হাওর ও হাওরপাড়ের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার কারণেই কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ হলেই কাজ শুরু হবে।
জানা গেছে, দেশের হাওর ও জলাভূমির প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭৪ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর পর ১৯৭৭ সালে এ বোর্ড গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৮২ সালে বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে যায়। ১৯৯৮ সালের ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর ২০০০ সালে দেশের সাতটি জেলার হাওরের উন্নয়নে আবার এই বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১২ সালে হাওর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রথমে এই বোর্ডের নাম হাওর উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও ২০১৬ সালে সেটি পরিবর্তন করে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর করা হয়।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন হয় ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে তিনজন লোক দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে এখানে কর্মরত আছেন। তাদের কাজ শুধু ভবন দেখাশোনা করা। এই তিনজনের একজন হলেন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন নৈশপ্রহরী। হাওর ও জলাভুমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক ইয়াসিন মিয়া জানালেন ‘আমরা ৩ জন দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে এখানে ডিউটি করি। মাঝে মধ্যে ঢাকা থেকে স্যাররা আসেন। এ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই।’
প্রসঙ্গে ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, যেহেতু দেশের সবচেয়ে বেশি হাওর সুনামগঞ্জে তাই আমাদের দাবি ছিল এই অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় যেন এখানেই হয়। কিন্তু আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনের পর এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, হাওরে সংকট চলছে। সমস্যার শেষ নেই। এ অবস্থায় দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করা উচিত।’
বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুজিবুর রহমান বলেছেন, পুরো অধিদপ্তরে মাত্র চারজন কর্মকর্তা আছেন। অন্যরা দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে। কেন্দ্রীয়ভাবে লোকবলের কাঠামো অনুমোদন হয়েছে। এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই অধিদপ্তরের লোকবল নিয়োগ হবে। আশা করি ২০১৮ সালে এই অধিদপ্তরের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।


