সুনামগঞ্জ টিএ-টি’র মামলা- মূল নথি আদালতে পাওয়া যাচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ টেলিফোন বিভাগের বকেয়া টেলিফোন বিল আদায় নিয়ে দায়ের করা মামলার (মোকদ্দমা নং-বিবিধ-৬১/৯৮ (সদর)) নথি আদালতে পাওয়া যাচ্ছে না। আদালতের এক আদেশে ওই মামলার মূল নথি অনেক খোঁজাখুঁিজ করেও পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বিবাদী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্য সচিব মালেক হুসেন পীর ও তাঁর আইনজীবী অ্যাড. প্রদীপ কুমার নাগ এই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টেলিফোন বিভাগের ওই মামলায় মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৪ টাকার বকেয়া টেলিফোন বিল না দেবার অভিযোগ আনা হয়েছিল।  
ভৌতিক টেলিফোন বিল প্রদান করার কারণে হয়রানীমূলক এই মামলাটি হয়েছিল দাবি করে মামলার বিবাদী মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর      
(তাঁর টেলিফোন নম্বর ছিল ০৮৭১-৩৮৮) বলেন, ‘টেলিফোন বিভাগ ভৌতিক বিলের এই মামলা দিয়ে চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, মুক্তিযোদ্ধাসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ গ্রাহককে হয়রানীতে ফেলা হয়েছিল। একেকজনের নামে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার উপরে বিল প্রদান করা হয়েছিল। এখন আদালতে এই মামলার মূল নথিই পাওয়া যাচ্ছে না। ’
সুনামগঞ্জ সদর জোনের আমলগ্রহণকারী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ২০১৬ ইংরেজি ১৪ মার্চ দেওয়া আদেশের একাংশে বলেছেন,‘ অত্র মামলার মূল নথি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় অনেক খোঁজাখুঁিজ করেও না পাওয়ায় অত্র উপনথি সৃজন করা হইল। নথি আদেশের জন্য উপস্থাপন করা হইল।’
জানা যায়, সুনামগঞ্জ টেলিফোন বিভাগের ভৌতিক বিলকে কেন্দ্র করে ১৯৮৮ সালে ‘সুনামগঞ্জ টেলিফোন গ্রাহক সমিতি’ সৃষ্টি হয়। সমিতির সভাপতি ছিলেন তজম্মুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। ঐ সমিতি ১৯৮৯ ইংরেজি সনের ১৫ এপ্রিল ভৌতিক বিলের প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন। অনেকের টেলিফোন লাইন কেটে ফেলার পরও বিল প্রদান করা হয়।
পরে ১৯৯০ সালে সুনামগঞ্জ টেলিফোন গ্রাহক সমিতি আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৮/১৯৯০ ও স্বত্ত্ব আপিল মামলা নং-৬৫/১৯৯৬ ইং)।
গ্রাহক সমিতি ওই মামলায় হেরে যাওয়ার পর টেলিফোন বিভাগ আমলগ্রহণকারী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সুনামগঞ্জ আদালতে বিবিধ ৬১/৯৮ ও বিবিধ ৬২/৯৮ (সুনামগঞ্জ সদর) পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। ৬১/৯৮ মামলায় মালেক হুসেন পীরসহ ৯ জন ও ৬২/৯৮ মামলায় মনোহর মিয়াসহ আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে বকেয়া বিল না দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। পরে মালেক হুসেন পীরসহ অনেক বিবাদী উচ্চ আদালতে রিট করেন। কিন্তু সবার রিট খারিজ হয়ে যায়। অনেক বিবাদী বকেয়া বিল প্রদান করে ঝামেলা থেকে মুক্ত হন।
বিবাদী মালেক হুসেন পীর ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই মামলার জাবেদা নকল চেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুমে আবেদন করে তথ্য পান নি। এরপর ২০/০৪/২০১৬ ইং তারিখে তথ্য অধিকার আইনে বিটিসিএল-এর সুনামগঞ্জ ও ৩১/১০/২০১৬ ইং তারিখে সিলেট অফিসে আবেদন করেন। বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচার কার্য ব্যাহত হতে পারে উল্লেখ করে বিটিসিএল’এর সিলেট অফিস থেকে মালেক হুসেন পীরকে তথ্য সরবরাহ করা হয় নি।
পরে তিনি আদালতের আদেশের জাবেদা নকল সংগ্রহ করেন।
বিবাদী মালেক হুসেন পীরের আইনজীবী প্রদীপ কুমার নাগ বলেন,‘আদালতের আদেশে বলা হয়েছে অত্র মামলার মূল নথি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় অনেক খোঁজাখুঁিজ করে পাওয়া যায় নি। ’