নৌযান ও অবকাঠামো সংকটে সুনামগঞ্জের চার পুলিশ ফাঁড়ি

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জের হাওর-নদী এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নদী পথে নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন তিনটি নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে নৌকায় চাঁদাবাজী রোধ হলেও নৌযান ও  অবকাঠামো সংকটে ভোগছে এসব পুলিশ ফাঁড়ি। দ্রুত গতির নৌযান না থাকায় এসব পুলিশ ফাঁড়ি ভাড়া নৌকা দিয়েই চলছে। একইভাবে নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় ভাড়া বাড়িতে চলছে ফাঁড়ির দাপ্তরিক কার্যক্রম।
জানা যায়, জেলার তিন থানা ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর থানার মোহনা সানবাড়ি অঞ্চলে নৌ ও হাওর পথে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী চলত। চাহিদামত চাঁদা না দিলে প্রায়ই  নির্যাতনের শিকার হতেন নৌ শ্রমিকরা। এসব ঘটনা নিয়ে আঞ্চলিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে বার বার সংবাদ প্রকাশের পর বর্তমান সরকারের আমলে সানবাড়ি বাজারে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। চলতি বছরের শুরুতে সানবাড়িতে নৌ পুলিশ ফাড়ি স্থাপন করা হয়। এরপর  পর্যায়ক্রমে গত জুলাই মাসে জামালগঞ্জের লালপুরে ও সেপ্টেম্বর মাসে সুনামগঞ্জ শহরতলীর টুকেরবাজারে আরো একটি নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।
একজন এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তার অধীনে এএসআই ও কনস্টেবলসহ ১৫ জনের জনবল দিয়ে চলছে এসব নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। তবে জেলার সবচেয়ে পুরনো নৌ পুলিশ ফাঁড়ি হচ্ছে দিরাইয়ের শ্যামারচর বাজারে। শ্যামারচরে নৌ পুলিশ ফাড়ির নিজস্ব অবকাঠামো রয়েছে।
সর্বশেষ আগামী সপ্তাহে ছাতক পৌরসভা এলাকায় আরো একটি নতুন নৌ পুলিশ ফাড়ি স্থাপনের কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। এছাড়া সানবাড়ি নৌ পুলিশ ফাড়িটি আগামী ১৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সানবাড়ি নৌ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্য এসআই মিজানুর রহমান।
জানা যায়, এসব নৌ পুলিশ ফাড়ি নৌ পুলিশের কিশোরগঞ্জের আশুগঞ্জ আঞ্চলিক অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আশুগঞ্জের নৌ পুলিশ অফিসের অধীনে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও ময়মনসিংহ জেলা তদারিক করা হচ্ছে। নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলায় কোন নৌ পুলিশ ফাঁড়ি নেই। সবচেয়ে বেশী পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে সুনামগঞ্জে।  সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
টুকের বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন,‘নদী পথে বালি-পাথরসহ সবধরনের মালামাল পরিবহনকারী নৌযানকে নিরাপদে চলাচল করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ফতেপুর ও রঙ্গারচর এলাকায় কিছু চাঁদাবাজের উৎপাত ছিল, আমরা কঠোর হস্তে তা দমন করেছি।’
সানবাড়ি নৌ পুলিশ পাঁড়ির ইনচার্য  এসআই মিজানুর রহমান বলেন,‘ গত কয়েক মাস আগে আমরা দুইজনকে আটক করেছি এবং একটি ট্রলার জব্দ করেছি। সানবাড়ি এলাকায় এখন কোন ধরনের চাঁদাবাজী হয় না। পুলিশ ট্রলার নিয়ে নিয়মিত টহল দিচ্ছে।’
সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন,‘দেশের সবচেয়ে বেশী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে সুনামগঞ্জে। এতে করে হাওর এবং নদী এলাকায় আইনশৃংখলা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ির জন্য দ্রুত গতির নৌযান ও অবকাঠামো না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে ভাড়ার মাধ্যমে নৌযান নিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। নৌযান ও অবকাঠামো সরবরাহ করার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার জন্য পৃথক একটি জোন করার পরিকল্পনা নৌ পুলিশের হাতে রয়েছে। ’