বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও দুই দফায় দরপত্র বাতিল এবং সর্বশেষ দরপত্র নিয়ে আদালতে রীট হওয়ায় এই সড়কের কাজ বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে হবে কী-না, এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অথচ সড়কটির ১০ টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনেক স্থানেই খানা-খন্দকে ভরপুর।
সড়কের পাকা অংশের পরে মাটি না থাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের হালুয়ারগাঁও, বাহাদুরপুর, জানিগাঁও, নীলপুর, গোবিন্দপুর, আহসানমারা, জয়কলস, শান্তিগঞ্জ, পাগলবাজার (বাজার পাড় হয়ে), জান্দেরটুপি, বাউরকাপন, কারাই থেকে জাতুয়া, ভোকারভাঙা ও বদিরগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার সড়কের পাশে মাটি নেই। এসব এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৮ ফুট পাকা অংশের পরে একেবারেই মাটি নেই। সড়ক থেকে ১ থেকে ২ ফুট নিচু স্থানেও রয়েছে মাটি। অর্থাৎ এসব এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় সামান্য অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। এছাড়া সড়কের পাগলাবাজার, জাউয়াবাজারসহ কয়েকটি স্থানে খানা- খন্দকে ভরপুর।’
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ অংশের জন্য বরাদ্দ হয় ৭৮ কোটি টাকা। এক বছর আগে এই সড়কের সুনামগঞ্জ অংশ ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ ও মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশল অফিস সিলেট থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র গ্রহণ করে দুই দফায় দরপত্র বাতিল করা হয়। তৃতীয় দফায়ও একই অবস্থা হয়। চতুর্থ দফায় দরপত্র গ্রহণ করার কথা ছিল গত ৭ নভেম্বর। কিন্তু ৫ নভেম্বরেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশন ও সজিব রঞ্জন দাস’এর (জয়েন্ট ভেঞ্চার) পক্ষে হাইকোর্টে এই দরপত্র নিয়ে রীট দায়ের করলে আদালত স্থগিতাদেশ দেয়।
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার সজিব রঞ্জন দাস মুঠোফোনে বলেন,‘প্রথম দফায় দুইবার দরপত্র কেন বাতিল হলো আমি জানি না। তৃতীয় দফায় দরপত্র গ্রহণের পর সর্বনি¤œ দরদাতা হিসাবে আমাদেরকে বাছাই করে মূল্যায়ন কমিটি। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এটিও বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেওয়ায় এবং সংশ্লিষ্টরা দরপত্র আহ্বান করায় আমরা আদালতে রীট করেছি।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন,‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বার বার দরপত্র বাতিল হয়েছে। গত ৭ নভেম্বর আবার দরপত্র গ্রহণের কথা ছিল। ৩ দিন আগে হাইকোর্টে রীট হয়। এর আগের বারের দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার তমা কন্সট্রাকশন ও সজিব রঞ্জন দাস’এর পক্ষে এই রীট দায়ের হলে আদালত স্থগিতাদেশ দেন। আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ আনার চেষ্টা হচ্ছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেটের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চন্দন কুমার বসাক বলেন,‘আমাদের পক্ষ থেকে আইনী মোকাবেলার চেষ্টা হচ্ছে।’ এই কাজটি নিয়ে যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়কালে কাজ না হবারই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই বিষয়ে আপনি কী মনে করেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।’


