বীজ আছে টাকা নেই

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে এবার বোরো বীজের সংকট নেই। কিন্তু বড় ও মধ্যবিত্ত কৃষকরা বীজের টাকা যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন। বিএডিসির বোরো বীজ ডিলাররা বলছেন,‘যাদের বেশি বীজ প্রয়োজন, তারা কম কম করে বীজ নেওয়ায় তাঁদের গোদামেই পড়ে রয়েছে শত শত ব্যাগ বীজ।’
বিএডিসির সুনামগঞ্জ বীজ বিপণন কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আওলাদ হাসান জানান, সুনামগঞ্জে এবার বীজের চাহিদা রয়েছে ছয় হাজার দুই’শ মেট্রিক টন। কৃষকদের মধ্যে ৫ কেজি করে প্রদান করা সরকারি সহায়তার ১৫শ’ মেট্রিকটনসহ এই পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে পাঁচ হাজার ছয়’শ মেট্রিকটন। বেসরকারি কোম্পানী এসিআই, সুপ্রিম সিড, স্কয়ার, পাওয়ারটেক, এনার্জীসহ বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানী প্রতিবছরই কমপক্ষে পাঁচশ মেট্রিকটন বীজ সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বাজারজাত করে। এই অবস্থায় জেলায় বীজের কোন সংকট নেই, হবেও না।’
জেলাব্যাপি বীজের এমন পর্যাপ্ততা থাকলেও হাওরাঞ্চলের একাধিক গ্রামে কথা বলে জানা গেছে বড় কৃষকরা এবার বীজ কিনতে বিপাকে পড়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওর পাড়ের পদ্মনগর গ্রামের বড় কৃষক সুলেমান মিয়া বলেন,‘১৫ হাল (৬০ একর) জমির মালিক আমি, গত বছর হাওর ডুবায় একদিনের খাবারও ঘরে তুলতে পারিনি। বছর অনেক কষ্টে যাচ্ছে। আমার জমি চাষাবাদ করতে হলে কমপক্ষে ৩০ বস্তা বীজের প্রয়োজন। এরপর লাগবে সার। বীজতলা ভেসে ওঠেছে, আগের ব্যাংক ঋণ অনেক টাকা পাওনা, নতুন ঋণও নিতে পারছি না। জমি বন্ধক দিতে চেয়েছিলাম। উঁচু এলাকার অনেকের কাছে গিয়েছি, তারা বলে তোমাদের জমি রেখে লাভ নেই, পানিতে ডুবতে পারে। এক সঙ্গে ৩০ বস্তা বীজ কিনতে হলে ১৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। এই টাকা কোথা থেকে পাব চিন্তা করছি।’     
একই ধরনের মন্তব্য করলেন- বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাসিম।
বিশ্বম্ভরপুরের বীজ ডিলার জুবায়ের আহমদ বলেন,‘আমাদের কাছে বীজ পর্যাপ্ত আছে। কেউ এসে ফিরে যাবে না। কিন্তু মানুষ বীজ কিনতে আসছে না। বীজ কেনার টাকাই অনেকের কাছে নেই।’
জামালগঞ্জের সাচনা বাজারের বীজ ডিলার আলাল মিয়া বললেন,‘বড় কৃষকরা টাকার জন্য বীজ কিনতে পারছে না। যাদের ৫০ ব্যাগ প্রয়োজন, নিচ্ছে ১০ ব্যাগ। আমাদের কাছে বীজের কোন সংকট নেই।’ একই ধরনের মন্তব্য করলেন ফেনারবাঁকের বীজ ডিলার সানোয়ার হোসেন।