হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের কর্মমৌসুম শুরুর আগেই পানিসম্পদমন্ত্রী সুনামগঞ্জে আসছেন, এটি হাওরবাসীর জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তিকর। গত বছর হাওরের ফসল হানির জন্য দুর্নীতিকে আড়াল করে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলায় (এখনও তাঁর মত পাল্টায়নি বলেই অনুমিত হয়) পানিসম্পদমন্ত্রী কিছুটা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে সামনের মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের কাজ ঠিকঠাক মত শেষ করে তিনি সেই সমালোচনার পথ বন্ধ করবেন বলে আমরা আশা রাখি। জেলার অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ হল বোরো মৌসুমে ধান চাষ। মূলত জেলার কৃষককূল এই ধানের উপরই নির্ভরশীল। কোন কারণে যখন হাওরে বোরো ধানের বিপর্যয় ঘটে তখন মূলত সুনামগঞ্জের মানুষের মেরুদ- ভেঙ্গে যায়। বিধ্বস্থ হয় জেলার অর্থনৈতিক কার্যক্রম। শুধু জেলার নয় বরং সারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের অবদান অপরিসীম। এবার হাওরে ফসল বিপর্যয়ের কারণে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি করতে হয়েছে সরকারকে। সুতরাং বিশাল হাওরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা যাতে কোন মানবসৃষ্ট কারণে ধ্বংস না হয় সেটি দেখা একটি জাতীয় কর্তব্যও বটে। বোরো ধান চাষাবাদের মৌসুমটিতে নানা ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার আশঙ্কা থাকে। পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খড়া এমনসব দুর্যোগকে সামনে নিয়েই সংগ্রামী কৃষকরা বোরো ধান চাষ করেন। সহনীয় মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এই ধান রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। এর মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ অন্যতম উদ্যোগ। কিন্তু গতবছর বা এর আগের বছর বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের একেবারে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতেই ব্যর্থ হয় তথাকথিত ফসলরক্ষা বাঁধগুলো। গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসেই হাওর ডুবেছে পাহাড়ি ঢলের তোড় সামলাতে না পেরে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, বাঁধই হয়নি যেখানে সেখানে পানির তোড় সামলাবে কীভাবে এসব নামসর্বস্ব বাঁধপ্রকল্প। এ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয় যার রেশ এখনও চলমান। এবার অন্তত অতীতের সেই খারাপ অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হব, পানিসম্পদমন্ত্রীর আগমনে আমরা আশ্বস্থ হতে চাই।
কয়েকদিন আগে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাঁধ নির্মাণের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার চাইতে অনেক বেশি টাকার প্রকল্প তৈরি করে পাউবো সদর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় বরাদ্দ বাড়ানো না হলে অনেক জায়গায় বাঁধ নির্মাণ/সংস্কার বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে পাউবোর নবসৃষ্ট পওর-২ উপবিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে চারটি উপজেলার প্রকল্প প্রণয়ন বিলম্বিত হচ্ছে বলে ওই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছিল। বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আর মাত্র ২৩ দিন বাকি রয়েছে। এই ২৩ দিনের মধ্যেই যাতে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং নির্ধারিত ১৫ ডিসেম্বর থেকে যাতে কাজ শুরু করা যেতে পারে সে লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সুনামগঞ্জের কৃষকরা উদাসী ও নরম মনের মানুষ। প্রকৃতির বদান্যতার উপর নির্ভর করে ওরা ফসল ফলায় আর সারা দেশের খাদ্যভা-ারে সরবরাহ দেয় নিজেদের পরিশ্রমে ফলানো শস্যদানা। এদের কষ্ট অনুভব করা রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের পবিত্র কর্তব্য।
- ২ মাসের মধ্যেই উদ্বোধন হবে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাওয়ার গ্রীড স্টেশন
- মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শনে ইকবাল সোবহান চৌধুরী

