বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী বোরো মৌসুমের ফসল অকাল বন্যা ও পাহাড়ী ঢল থেকে রক্ষার লক্ষে হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য অনুন্নয়ন খাতে ৭৫ কোটি টাকার চাহিদা থাকলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (২৬ নভেম্বর) অনুন্নয়নে বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ৫২ হাজার টাকা। এছাড়া উন্নয়নখাতে বরাদ্দ হয়েছে ৩১ কোটি ৫২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৬০ কোটি ৪০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বরাদ্দের চিঠি এসেছে। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গুলোকে বিল বাবদ দেবার জন্য দুই কিস্তির ১৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা উপজেলা কমিটির হিসাবে পাঠানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া জানিয়েছেন, রোববার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে পিআইসির তৃতীয় কিস্তির টাকা ছাড় দেবার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তাঁরা। তবে জেলার কোথাও এখনো পিআইসি গঠনই হয়নি বলেও জানিয়েছেন এই পাউবো কর্মকর্তা। হাওরের পানি না নামায় এই বিলম্ব হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাউবো’র তথ্য অনুযায়ী অনুন্নয়ন খাতের বরাদ্দ ব্যয় হবে বাঁধের ভাঙন অংশ মেরামত এবং উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ ব্যয় হবে বাঁধ উঁচু করণের জন্য। পাউবোর তথ্য মতে অনুন্নয়ন খাতে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার আঙ্গুরালী হাওরের বরাদ্দ হয়েছে ৫০ লাখ, ধর্মপাশার চন্দ্র সোনারতাল হাওরে এক কোটি ৬৫ লাখ, ধানকুনিয়া হাওরে ৩৫ লাখ,
গুরমার হাওরে ৭০ লাখ, গুরমার হাওরের বর্ধিতাংশ ৩০ লাখ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার হালির হাওরে এক কোটি ৩৫ লাখ, ধর্মপাশার জয়ধুনা হাওরে ৩০ লাখ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরে ৩০ লাখ, সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার দেকার হাওরে ২৫ লাখ, সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কালনার হাওরে ১৫ লাখ, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওরে ৬০ লাখ, তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে এক কোটি ৩০ লাখ, মাটিয়ান হাওরের বর্ধিতাংশ ৩৫ লাখ, জামালগঞ্জ ও দিরাইয়ের পাগনার হাওরে ৭০ লাখ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের শনির হাওরে এক কোটি আট লাখ, ধর্মপাশার ঘোড়াডুবা হাওরে (পোল্ডার-১ ও ২) ৪৭ লাখ, গুরমার বর্ধিতাংশে (পোল্ডার ১ ও ২) ৩৯ লাখ ৫২ হাজার, কাইলানি হাওরে ৩০ লাখ, জামালগঞ্জের মিনি পাগনার হাওরে সাত লাখ, বিশ্বম্ভরপুরের পুটিয়ার হাওরে পাঁচ লাখ, সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় দেখার হাওরের আরেকাংশে ৬৫ লাখ, সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কালনার হাওরে ৫৫ লাখ, জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার পাগনার হাওরের আরেকাংশে ১০ লাখ, দিরাই উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৯৩ লাখ, টাঙ্গুয়ার হাওরের বর্ধিতাংশে (মৌয়া বিল) ১০ লাখ, দিরাই-শাল্লার বরাম হাওরে এক কোটি ৯০ লাখ, বরাম হাওরের বর্ধিতাংশে (কাইয়া বিল হাওর) ১৫ লাখ, শাল্লার উদঘল হাওরে ১০ লাখ, দিরাই-শাল্লার কালিকোটা হাওরে এক কোটি ১৮ লাখ, দিরাইয়ের চাপতির হাওরে এক কোটি ১০ লাখ, দিরাইয়ের চাপতির হাওরের বর্ধিতাংশে ( কোণারবন হাওর) ৭ লাখ, দিরাইয়ের হুরামন্দরি হাওরে ৫৭ লাখ, ভেড়ারডহর হাওরে ৬০ লাখ, সুনামগঞ্জের শাল্লা, কিশোরগঞ্জের ইটনা, কালিয়াজুরি এবং হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের ছায়ার হাওরে ৮৫ লাখ, দিরাই-শাল্লার ভান্ডা বিলে ৭৫ লাখ, শাল্লা উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ডান তীরে ৬২ লাখ, শাল্লা উপজেলার ভান্ডা বিল হাওরের বর্ধিতাংশে (পোল্ডার-২’এ) ১০ লাখ টাকা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাংহাই হাওরে ২৮ লাখ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কাচিভাঙা হাওরে ৩৫ লাখ, খাই হাওরে ৪০ লাখ এবং জামখোলা হাওরে ৪৫ লাখ, জগন্নাথপুর-দিরাইয়ের সুরিয়া বিবিয়ানায় ৩৫ লাখ, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরের পোল্ডর-১’এ এক কোটি ৪০ লাখ, পোল্ডার-২’এ ৮০ লাখ, জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর ডানতীর ১৫ লাখ, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীর ডানতীর ২০ লাখ, ছাতক- দোয়ারাবাজারের নাইন্দার হাওর ৪০ লাখ, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীর বামতীর ১৫ লাখ, ছাতকের বাউশির হাওরে আট লাখ, জগন্নাথপুরের কেশবপুর উত্তরপাড়া খাল এলাকায় ১০০ মিটার ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ কাজ চার লাখ, হবিবপুরে ৩০০০ ফুট বেরী বাঁধ নির্মাণ ১৫ লাখ, রানীগঞ্জের গোসাইখালি বেরী বাঁধের কাজ ১৫ লাখ, টিয়ারগাঁও-চাতলপাড় বেরী বাঁধ নির্মাণে সাত লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
এছাড়া ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ সালে ঠিকাদার কর্তৃক অসমাপ্ত বাঁধের কাজও (আফর বাঁধ নির্মাণ) এবার কাবিটা নীতিমালা ২০১৭’এর আওতায় করানো হবে। এই খাতে বরাদ্দ ৩১ কোটি ৫২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর বিভাগ-১’এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘উপজেলা কমিটির পাঠানো প্রকল্প অনুযায়ী দুই বিভাগে অর্থের চাহিদা ছিল প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুন্নয়ন খাতে দুই বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩১ কোটি ৫২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অনুন্নয়ন খাতের বরাদ্দ চার কিস্তিতে আসবে, এর মধ্যে দুই কিস্তির ১৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা জেলার ১১ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন শাখা কর্মকর্তার যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। আজ রোববার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক আব্দুস সালাম মুঠোফোনে কাজ শুরু করার তাগাদা দিয়ে বলেছেন-তৃতীয় কিস্তির বিল প্রস্তুত করা রয়েছে, যখনই চাওয়া হবে, তখনই ঐ টাকা উপজেলা কমিটির হিসাবে পাঠানো হবে। উন্নয়ন খাতের টাকার জন্য উপজেলা কমিটিকে পৃথক হিসাব খোলতে হবে। পৃথক হিসাব খোলে জানানোর পর ঐ টাকাও ছাড় দিয়ে উপজেলা কমিটির হিসাবে পাঠানো হবে।’
এখনো কাজ শুরু করা যাচ্ছে না কেন বা পিআইসি গঠন হলো না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- পিআইসি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে হয়ে যাবে। হাওরের পানি না নামায় বাঁধের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।’ একই কথা জানালেন- পওর বিভাগ-২’এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীনুজ্জামান।
প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া জানান, দুটি করে সার্ভে টিম প্রতি উপজেলায় সপ্তাহ খানেকের মধ্যে কাজ শুরু করবে। তাঁরা বিগত বছরের কাজের পরিমাপ এবং এই মৌসুমে কোথায় কী-করতে হবে এই প্রাক্কলন তৈরি করবেন। এর পরই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টির যথার্থতা নির্ধারিত হবে।


