সুনামগঞ্জের সমৃদ্ধ ক্রীড়াঙ্গন

রবিউল লেইস রোকেস ও খলিল রহমান
সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জ। ঐতিহ্য লালন করে সুনাম এর যথার্থতা প্রমাণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে আসছে, সুদূর অতীত থেকেই। জীবনের সর্বক্ষেত্রে।
সুনামগঞ্জের খেলাধুলার ইতিহাস ঐতিহ্য অভূতপূর্ব, এর অনেকটাই যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে হারাতে বসেছে, ছড়িয়ে থাকা ইতিহাসের স্বর্ণালী স্বাক্ষর এখনো খোঁজে নেওয়া সম্ভব।
দেশের অফুরন্ত সম্ভাবনার জেলা সুনামগঞ্জ। বলা হয় হাওর-বাওরের জেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পাহাড়-নদী-হাওর মিলেমিশে একাকার এখানে। নানা ক্ষেত্রে এই জেলার সুনাম-সম্মান দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে আছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রেও রয়েছে সুনামগঞ্জের সমৃদ্ধ ইতিহাস। সেই ধারাবাহিকতা আজও বহমান। তবে, সুনামগঞ্জ ক্রীড়াঙ্গনের সেই সোনালী অতীত বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অজানা। এই অজানাকে জানার আলোয় নিয়ে আসতে পারলে আগামীর পথচলা হবে আরো প্রত্যয়ী, প্রেরণার জায়গা আরও দৃঢ় হবে বর্তমান প্রজন্মের। নতুন প্রজন্ম খোঁজে পাবে তার অতীত গৌরবের ঝলক, শেকড়ের সন্ধান। সেই চেষ্টা আছে।
সুনামগঞ্জের নয়নাভিরাম হাওর-প্রকৃতি এ জনপদের মানুষের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। কেবল বেঁচে থাকা নয়, জীবনকে উপভোগ করা, সপে দেওয়ার সহজিয়া নিয়মের তালে ভাসতে শেখায় মানুষকে। তাই উৎসব-আনন্দে রাত-দিন একাকার করে মানুষ। মাঠে-ময়দানেও সরব পদচারণা।
সুনামগঞ্জের মানুষ মূলত ফুটবল প্রিয়। তাই বলে, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাতেও কখনো পিছিয়ে ছিল না। সুনামগঞ্জের মাঠে এক সময় কলকাতার বিখ্যাত ‘মোহনবাগান’ এসে ফুটবল খেলে গেছে। এখানে কদিন আতিথেয়তা গ্রহণ করে, সুনামগঞ্জ একাদশের সঙ্গে ক’টি ম্যাচ খেলে, সেটা ১৯৪৬ সালের কথা। সেই সব দিনে মাঠে মানুষের ঢল নামতো। মানুষের মুখে মুখে জপ হতো খেলোয়াড়দের নাম, প্রস্তুতি চলত আয়োজকদের যেমনি, তেমনি দর্শকদেরও। তখনকার কুশলী খেলোয়াড়দের দাপটে মোহনবাগান কোনঠাসা হয়ে পড়ে, কথিত আছে এক গোলে পিছিয়ে থাকা মোহনবাগান অতিরিক্ত সময়ের গোলে সমতা পায়। এটাই সুনামগঞ্জের সোনালি অতীত। আবু আলী সাজ্জাদ হোসাইন তাঁর ‘সুনামগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ গ্রন্থে লিখেছেন, সুনামগঞ্জ একাদশে সে সময় যাঁরা ছিলেন তাঁরা হলেন: শিরিশ পুরকায়স্থ, আবদুল বারী, উমেশ দত্ত, কমরুজ্জামান, আজমান গাজী, অনিল বসু, হরি বাহাদুর, হাসিনুর রশিদ চৌধুরী, হারুনুর রশিদ চৌধুরী, বি. রায় চৌধুরী, দেবু ভট্টাচার্য ও পটু সোম। পরের দিনের খেলায় জিতে মোহনবাগান।
বয়স্কদের মুখে মুখে কলকাতার মোহনবাগান আর সুনামগঞ্জ একাদশের খেলার সেই গৌরবগাঁথা এখনো শোনা যায়। বয়সের ভারে অনেকের মনে সেই সুখস্মৃতি আজ ধূসর।  
সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের ফুটবলকে আলোকিত করেছেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে মোহনবাগানের বিপক্ষে খেলায় সুনামগঞ্জ একাদশে খেলেছেন এমন আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন: তসকির মিয়া (গোলকিপার, আরপিননগর), ব্যাক নুরুজ আলী বাবন (আরপিননগর), ব্যাক মাহতাব আলী (আরপিন নগর), রাইটআউট লেচুয়া বাল্মিকী (সুইপার কলোনী), লেফটআাউট মুন্সি (ভাটিপাড়া), আলীনুর মিয়া  (তেঘরিয়া), আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী ও দবিরুল ইসলাম (রাড়ইল, দিরাই)। এঁদের অনেকেই ৬০’দশক পর্যন্ত সুনামের সাথে ফুটবল খেলেন। ওই সময়ের কুশলী খেলোয়াড় ছিলেন দেওয়ান আনোয়ার রাজা চৌধুরী, আছদ্দর আলী মোক্তার, ফজলুল হক (তেঘরিয়া)।
৫০’এর শেষ এবং ৬০’এর শুরুতে সুনামগঞ্জের মাঠে আরেক ক্যারিসম্যাটিক খেলোয়াড় আভির্ভূত হন। তিনি হলেন আরপিননগরের সাইফুল ইসলাম। যিনি তৎকালীন পাকিস্তানে  সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ছয়ফুল নামে। তিনিই সুনামগঞ্জের প্রথম খেলোয়াড়, তৎকালীন ঢাকা লীগে খেলতে যান সেন্ট্রাল প্রিন্টিং এন্ড স্টেশনারী দলে। পরে পি.ডব্লিউ.ডি, ওয়ারী ক্লাব এবং বি. জি. প্রেস দলে সুনামের সাথে খেলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অনেক জেলায় এবং পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতেও খেলতে যান। তাঁর অত্যন্ত কাছের বন্ধু ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় দলের কৃতী খেলোয়াড় গফুর বেলুচ।
সাইফুল ইসলাম অসাধারণ মনজুড়ানো কুশলী খেলা দিয়ে যেখানেই খেলতে গেছেন, সেখানেই দর্শক মন জয় করেছেন। শুধু তাই নয়, ১৯৬৪’সনে পাকিস্তান জাতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে দলভূক্ত হন, যা ছিল অত্যন্ত বিরল অর্জন, সুনামগঞ্জের জন্য। সাইফুল ইসলাম ব্যাডমিন্টনে মহকুমা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং ইষ্ট পাকিস্তান রানার আপ ছিলেন। ভলিবলেও তাঁর নৈপুণ্য ছিল চোখ ধাঁধানো। সাইফুল ইসলামের পরপরই ঢাকায় খেলতে যান নুরুল হক আম্বিয়া ও আছদ্দর আলী ভূঁইয়া। নুরুল হক আম্বিয়া দীর্ঘদিন সুনামের সাথে মহকুমা দলের গোলপোস্ট আগলে রাখার দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ক্রিকেটেও দক্ষতার পরিচয় রাখেন। তখনকার সময়ে উইকেট কিপার হিসাবে তিনি ছিলেন অপরিহার্য। ভলিবলেও ছিলেন কুশলী ও দক্ষ খেলোয়াড়।
আছদ্দর আলী ভূঁইয়া মধ্যমাঠের একজন কুশলী খেলোয়াড়, দীর্ঘদিন দাপটের সাথে খেলেন। ক্রিকেট এবং ভলিবলেও রাখেন দক্ষতার পরিচয়। আছদ্দর আলী ভূঁইয়া নিজ খেলার চেয়েও খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। পেশায় শিক্ষক এই ব্যক্তিত্ব ছিলেন খেলোয়াড় সৃষ্টির কারিগর।
৫০ এবং ৬০দশকের যাঁরা,  লোকমুখে এখনও জীবন্ত, তাঁরা হলেন-  গোলকিপার লালসাদ মিয়া (আরপিন নগর), ইর্শাদ মিয়া (আরপিন নগর), তসকির মিয়া (আরপিন নগর), আছদ্দর আলী লাল মিয়া (আরপিন নগর)।
মধ্যমাঠ: আবুল কালাম (আরপিননগর), শমসের মিয়া, শমসের মিয়ার with ball  এবং  without ball খেলা যারা দেখেছেন, তাঁদের কাছে সে খেলার মাধুর্য্য অপরিসীম, অনন্য। অত্যন্ত হালকা পাতলা গড়নের মানুষটি যতদিন খেলেছেন মাঠ মাতিয়েছেন দর্শক মন কেড়েছেন। সহিবুর রহমান (আরপিননগর) যার নান্দনিক খেলা দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। হিরণ মিয়া (তেঘরিয়া) ছিলেন মধ্যমাঠের আরেক কুশলী পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন খেলোয়াড়। ওই সময়েই গোলাম জিলানি কন্টর (লক্ষণশ্রী), আশরাফ আলী (মাইজবাড়ী) ছিলেন প্রাচীরসম ডিফেন্ডার। আব্দুল মতিন মতি (তেঘরিয়া) ছিলেন আরেক কুশলী খেলোয়াড়, যাঁর দৃষ্টিনন্দন খেলা দর্শকদের আনন্দ জুগিয়েছে, রাইটআউটে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। লাল মিয়া গতি আর জোড়ালো শটের একজন ফরওয়ার্ড, তাঁরই ছোট ভাই নিল মিয়া লেফট আউটে চাতুর্য্য ও নৈপুণ্যে ছিলেন অদ্বিতীয়।
৬০ দশকের সুনামগঞ্জ টিম, এতদঞ্চলে দাপটের সাথে সুনামের সাথে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে ছিল ত্রাস, মধ্য ষাটে ঢাকার সেরা একাদশও সুনামগঞ্জ এসে জিততে পারেনি।
আরেক কিংবদন্তি নজির আহমদ চৌধুরী, যিনি ছোট নাজির হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি পান। তিনি জুবিলী স্কুলের পক্ষে ১৯৬৩ সনে খেলা শুরু করে ১৯৬৫ সনে সিলেট জেলা একাদশে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসাবে স্থান করে নেন। তিনি ১৯৭০ সনে ইষ্ট পাকিস্তান দলে  যোগ্যতা দিয়েই দলভূক্ত হন। ঐ দল নেপালে খেলতে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় (পাকিস্তান দলের বিদেশে প্রথম চ্যাম্পিয়নশীপ)। যিনি একাধারে ঢাকার ঐ সময়ের বেশ ক’টি দলে খেলেন এবং ১৯৭৫ সনে বাংলাদেশ দলের ভাইস কেপ্টেন এর দায়িত্ব পালন করেন। নজির আহমদ চৌধুরী একাধারে ভাল এ্যাথলেট এবং ক্রিকেটারও ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বে আছেন। তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে শিক্ষক হিসাবে আছদ্দর আলী ভূঁইয়ার নাম স্মরণ করেন।
ফজলুল হক ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটে অপরিহার্য বোলার, টেবিল টেনিস ও ক্যারামেও চ্যাম্পিয়ন ছিলেন, বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন সিংগেলস এবং ডাবলসে ৩০ বারের চেয়েও অধিক মহকুমা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্বের অধিকারী একজন সফল খেলোয়াড়।  
ষাটের শেষ ভাগে লাল মিয়া, নিল মিয়া, সবুজ মিয়া, ফজলুল হক, আকামত আলী, আলাউদ্দিন তালুকদার, আব্দুর রউফ ঝনর, জমিরুল ইসলাম, আকবর আলী, এরই ধারাবাহিকতায় দিলীপ রায় (জাতীয়), জমিরুল হক তালুকদার, আজমান আলী, আরশাদ আলী, সৌমিত্র রায় তাপস, এম এ এইচ হুমায়ুন কবীর শাহীন, মঙ্গল বাল্মিকী, মো. আরিফুল বারী আয়হান, জুনেদ আহমদ, মো. সেজুল আহমদ, কল্লোল তালুকদার, মহারাজ, ফারুক আহমদ, লাল মিয়া, ইকবাল বখত সুমন, জুনেল আহমেদ রাজরান, নূর মিয়া, হোসেন আহমদ রাসেল, সুমিত এষ, কফিউল আহমেদ, সামিউন আহমেদ, মোশাহিদুর রহমান কুটি প্রমুখ।
ফুটবলে এই সময়ে নতুন করে সুনামগঞ্জের নাম জাতীয়ভাবে তুলে ধরেছেন ফয়সল আহমদ। অতি সম্প্রতি ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড এর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ইংল্যান্ডে। উত্তর আরপিননগর এলাকার ফয়সল আহমদ এখন অনুর্দ্ধ ১৬ জাতীয় দলের গোলরক্ষক, অত্যন্ত নির্ভরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ফয়সলের দাদা ইর্শাদ মিয়া (গোলকিপার) সুনামগঞ্জের এক সময়ের কৃতী ফুটবলার। ফয়সল আহমদ পারিবারিক ঐতিহ্যের উত্তরসুরী, উত্তরসুরী সুনামগঞ্জ ফুটবলের।
সুনামগঞ্জের ফুটবল মাঠে রেফারি হিসাবে বিভিন্ন সময় সুনামের সাথে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আলিনূর মিয়া, হারুনুর রশীদ চৌধুরী, অমিয়েশ চক্রবর্তী, নুরুল হক আম্বিয়া, আছদ্দর আলী ভুইয়া, আব্দুর রউফ ঝনর, সজল তালুকদার, মহিনুর, আব্দুল আলী, শাহ আবু জাকের প্রমুখ।  
সুনামগঞ্জের ফুটবলে ঐহিত্যবাহী যে সকল ক্লাবগুলোর নাম পাওয়া যায় সেগুলো হলো: পি. দে. স্পোর্টিং ক্লাব, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব,  হোয়াইট ক্লাব, টাউন ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব, জঙ্গী আজাদী, হোয়াইট মোহামেডান, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, শাহবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের নাম উল্লেখযোগ্য।
সুনামগঞ্জে পঞ্চাশের দশকে ক্রিকেট হলেও, ষাট দশকের শেষ দিকে ক্লাব সমূহের নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় নিয়মিত লীগ আকারে খেলা শুরু হয় ১৯৬৯-১৯৭০’সনে। বেশ কয়েকটি দল অংশ নেয়, এদের মধ্যে অন্যতম রেস্ট ইলিভেন, ওয়াই সি সি, স্পার্ক ইলেভেন, জুবিলী হাইস্কুল টিম। তৎপরবর্তী ১৯৭২-১৯৭৩’সন থেকে ক্রিকেট-অন্তপ্রাণ মানুষের ঐকান্তিকতায় ক্রিকেট নিয়মিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। যাঁদের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয় শ্রদ্ধেয় তারা হলেন, মোহাম্মদ আলী স্যার, প্রিন্সিপাল আব্দুল মন্নান চৌধুরী, কাজী বশির উদ্দিন নানু মিয়া  মোক্তার, প্রফেসর করুনা সিন্ধু দে। তৎপরবর্তী অজয় চৌধুরী বেনু, উসমান গণী চৌধুরী রানা, দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, প্রফেসর মুকুল কান্তি দে, প্রফেসর আব্দু মিয়া, স্বাধীন বক্স, হুমায়ুন কবীর জাহানুর, ইশতিয়াক আহমদ রুপু, আমিনুল ইসলাম টিপু  প্রমুখ।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ সাবডিভিশনাল স্পোর্টস এসোসিয়েশন (এস.এস.এস.এ) ক্রিকেট আয়োজনে উদ্যোগী হয়। অমিয়েশ চক্রবর্ত্তী, প্রফেসর মুকুল কান্তি দে, নুরুল হক আম্বিয়া, হুমায়ূন মঞ্জুর চৌধুরী এডভোকেট, হুমায়ুন কবীর জাহানুর এডভোকেট। এঁরা এসএসএ ও ডিএসএ এর ক্রিকেট শাখায় দায়িত্ব পালন করেন।
ক্রিকেট অঙ্গনে যাঁরা নিজেদের নৈপুণ্য ও ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে স্ব-স্ব দলে অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসাবে দৃষ্টিনন্দন খেলার দ্বারা নিজেদের স্মরণীয় করে রেখেছেন এবং দর্শক মনে ভাস্মর হয়ে আছেন, এদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী স্যার, প্রিন্সিপাল আব্দুল মন্নান চৌধুরী, কাজী বশির উদ্দিন নানু মিয়া, প্রফেসর আতিক বক্স। প্রফেসর আতিক বক্স ছিলেন একজন ক্ষুরধার বোলার। হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী অ্যাডভোকেট নিখুঁত নিশানায় ধারাবাহিক বোল ছুঁড়ায়  যেমন ছিলেন পারদর্শী তেমনি অত্যন্ত স্টাইলিস্ট বোলার। উসমান গনী চৌধুরী রানা ছিলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে নির্ভরতার প্রতীক, মাটি কামড়ে পিচ আঁকড়ে থাকতেন তিনি। ফজলুল হক, যিনি সর্বদাই ছিলেন ব্যাটসম্যানের ত্রাস, নিখুঁত নিশানায় একাধারে বল করতে পারা এক অসাধারণ বোলার। রোপেশ রঞ্জন তালুকদার নারায়ন ধারাবাহিক গুড ল্যাংন্থ বোল ছুঁড়ায় ছিলেন পারদর্শী। মমিনুল মউজদীন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান, দলের প্রয়োজনে তিনি পিচ আঁকড়ে থাকতে পারতেন আবার সংহারমূর্তিও ধারণ করতে পারতেন। রফিকুল আলম ছিলেন অত্যন্ত উঁচুমানের ম্যাচ উইনিং বোলার ও মারকুটে ব্যাটসম্যান। রবিউল লেইস রোকেস দীর্ঘদিন দক্ষতা ও নির্ভরতায় ওপেনারের দায়িত্ব পালন করেন, সিদ্ধরীতির একজন ব্যাটসম্যান। কফিল আহমদ পিঞ্চ হিটার হিসাবে নির্ভরতার সাথে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।
এ ছাড়াও অংশুমান দাস অংশু (বোলার), আজিজুল হক (ব্যাস্টম্যান ও উইকেটকিপার), মুশফিকুর রহমান সাজু (অলরাউন্ডার), সত্যজিৎ দাশ বাবলু (বোলার), মো. রেজওয়ানুল হক রাজা (উইকেটকিপার ও ব্যাটসম্যান, তিনি কাউন্সিলর, বিসিবি), চিরঞ্জীব দাশ সঞ্জয় (অলরাউন্ডার), নাদির আহমদ (অলরাউন্ডার), মো. মোজাম্মেল হক মুনিম (অলরাউন্ডার), গণিউল সালাদীন (অলরাউন্ডার), চৌধুরী আবু জাবেদ নীপু (অলরাউন্ডার), শাহরিয়ার আলমগীর রাসেল (অলরাউন্ডার), শামসুল আলম জুয়েল (অলরাউন্ডার), আজিজুল হক কামাল ( বোলার), নিয়ন চৌধুরী কল্লোল (অলরাউন্ডার),  চৌধুরী আহমদ মুজতবা রাজী (ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার),  চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ সানি (অলরাউন্ডার),  চৌধুরী আহমদ মোহায়মেন অনি (অলরাউন্ডার), মো. ফখরুল ইসলাম নীপু (অলরাউন্ডার), কাওসার আহমদ (ব্যাটসম্যান), মাসুদ আহমদ দীপু (অলরাউন্ডার), সোহানুর রহমান (বোলার), সাকির আহমদ (বোলার), অপু আহমেদ (ব্যাটসম্যান ও উইকেটকিপার) প্রমুখ।
শুরুতে ক্রিকেট খেলা পরিচালনা অর্থাৎ আম্পায়ারিং করতেন ব্যাটিং দলের দু’জন, স্কোরিংও তাই। এর মধ্যেই খেলোয়াড় না হয়েও কেউ কেউ খেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে শুরু করেন। এভাবেই সুনামগঞ্জে ক্রিকেট আম্পায়ারিং এর সূচনা।
ক্রিকেট আম্পায়ার হিসাবে যাদের অবদান রয়েছে তারা হলেন মোহাম্মদ আলী স্যার, আছদ্দর আলী ভুইয়া, অমিয়েশ চক্রবর্তী অমি, উসমান গণি চৌধুরী রানা, চৌধুরী মনসুর আহমেদ, অজয় চৌধুরী বেনু, রবিউল লেইস রোকেস, হুমায়ুন কবির জাহানুর, শেরওয়ানুল হক চৌধুরী, নানু মিয়া, মো. আমিনুল ইসলাম টিপু, জহর লাল দাস, আব্দুস সামাদ নানু, রেজওয়ানুল হক রাজা উল্লেখযোগ্য।
সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথমবারের মতো ১৯৮৫ সনে হুমায়ূন কবির জাহানুরের নেতৃত্বে ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। উক্ত কমিটিতে সভাপতি ছিলেন হুমায়ুন কবির জাহানুর অ্যাডভোকেট, সাধারণ সম্পাদক চিরঞ্জীব দাশ সঞ্জয়। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সনে রেজওয়ানুল হক রাজা সভাপতি ও শাহ আবু জাকের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমান ২০১৫ সনে মো. দবির উদ্দিন সভাপতি এবং চৌধুরী আহমদ মুজতবা রাজী সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।
২০১৪ সনে ইংল্যান্ডের দু’জন কোচ সুনামগঞ্জ ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কোচিং প্রদান করেন সুনামগঞ্জের জেলা পরিষদ প্রশাসক এনামুল কবির ইমন ও লন্ডনস্থ মেম সাহেব রেস্টেুরেন্টের মালিক মৃদুল কান্তি দাসের উদ্যোগে।
সুনামগঞ্জ ক্রিকেট লীগে জেলার বাহিরের ও বিদেশী খেলোয়াড়: প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মেহরাব হোসেন অপি, হাবিবুল বাশার শান্ত, খালেদ মাসুদ সুজন, মাহবুবুর রহমান সেলিম, তাপস বৈশ্য, রাজিন সালেহ। তা ছাড়া শ্রীলঙ্কার রডরিগো, ডুমিন্ডা, ফার্নান্দেজ এবং পাকিস্তানের ওয়াসিম নাঈম, গওহর জামিল অংশগ্রহণ করেন।
লেখক : রবিউল লেইস রোকেস, আইনজীবী ও কবি
খলিল রহমান, সাংবাদিক ও আইনজীবী