নির্বাচন নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা কল্যাণ সমিতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা শহরস্থ দোয়ারাবাজার উপজেলা কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। গঠনতন্ত্র ও নীতিমালা বর্হিভূতভাবে সমিতির নির্বাচন করা হয়েছে বলে একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ এনেছেন। সোমবার দুপুরে শহরের জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে  
 লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সহ-সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৭ নভেম্বর সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন উপলক্ষে নির্বাচন বোর্ড গঠন করা হয়। ঐ বোর্ড থেকে ত্রুটিপূর্ণ ও অস্পষ্ট একটি তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিলে মনোনয়নপত্র বাছাই ৩ ডিসেম্বর ছিল। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই ৫ ডিসেম্বর তা করা হয়। প্রত্যাহারের সময় ছিল ৪ ডিসেম্বর। তাও পরিবর্তন করে ৬ ডিসেম্বরে পিছিয়ে নেয়া হয়। নির্বাচনে অস্বচ্ছ ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়। নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার পর পর সমিতির ৪৮ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। এমনকি একজন আজীবন সদস্যকেও বাতিল করা হয়েছে।
গত ৪ ডিসেম্বর সমিতির সদস্যরা নির্বাচন কমিশনার বরাবরে নিয়ম বর্হিভূত ভোটার বাতিলের আবেদন করলেও কমিশন আমলে নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গঠনতন্ত্র অনুসারে দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ শহরে বসবাসরত ব্যক্তিগণ এই সমিতির সদস্য হতে পারবেন। নির্বাচন ঘোষণা করার পর সমিতির নিয়ম ভঙ্গ করে শুধু দোয়ারাবাজারে বসবাস করেন এমন নতুন সদস্যও নেয়া হয়েছে। কিন্তু সমিতির নিয়ম অনুসারে ১০ নভেম্বরের পর কোনো সদস্য নেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু নতুন সভাপতির আত্মীয়-স্বজনকে সদস্য করা হয়েছে। এরপর সমিতির ১৩২ জন স্বচ্ছ ভোটার থাকার পরও আরও ১৯ জন অস্বচ্ছ ভোটার সংযুক্ত করে ১৫১ জন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. চাঁন মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এমন অসচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পর ২২ টি মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন তাঁরা (অভিযোগকারীরা)। এরপর ২০ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। পরে সভাপতি পদে আব্দুল কুদ্দুছ ২টি মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। এ সময় ডা. আব্দুল হাকিমও মনোনয়ন দাখিল করেন।
এরপর ৮ ডিসেম্বর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডা. মো. আব্দুল হাকিম সভাপতি ও মো. ফয়েজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নতুন অনির্বাচিত ও অবৈধ কমিটি বাতিল করে নতুনভাবে ১৩২ জন স্বচ্ছ ভোটারের মাধ্যমে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়। একই সাথে আব্দুল কুদ্দুছের মনোনয়নপত্র কেন বাতিল করা হলো তাও প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত সমিতির একাংশের নেতৃবৃন্দ বলেন- সুনামগঞ্জ শহরে দোয়ারাবাজার উপজেলার অনেক সম্মানিত বাসিন্দা রয়েছেন, সামাজিকভাবে এই বিষয়টির মিমাংসা না হলে আমরা আদালতের আশ্রয় নেব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক, আজীবন সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মানিক, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আজাদ রুমান, সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ, আফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ, সদস্য অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট শাহজাহান, মো. জাহান আলী, মো. ফজলুল রহমান প্রমুখ।
অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া বলেন, নির্বাচনী বিষয় নিয়ে যে আপত্তি উঠেছে সেসব আপত্তি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আজীবন সদস্য যিনি তিনি কোনো টাকাই জমা দেননি । আলী আহমদ নামের এক লোকের ভোটার হওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল। তাঁর শহরে দুইটি বাড়ি আছে। যারা অভিযোগ করেছে, তাঁরাও নির্বাচনে অংশ নেয় নি। তাঁরা মনোনয়নপত্র কিনলেও জমা দেন নি। আব্দুল কুদ্দুছ দুইটি মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। একটি নিজের নামে অপরটি অন্যজনের নামে। তাই বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আব্দুল কুদ্দুছ কোনো অভিযোগ করেন নি, করেছেন অন্যরা। আজীবন সদস্য হয়ে ভোটার হতে নির্দিষ্ট সময় চাঁদা দিতে হয়, কিন্তু  যার বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি সঠিক সময়ে চাঁদা দেন নাই।’