ধর্মপাশায় দুই শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় আসামিরা এখনো অধরা

ধর্মপাশা  প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় দুই শিক্ষককে লাঞ্ছনা করার ঘটনায় সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিন সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে নিজ এলাকা, ধর্মপাশা থানার সামনে ও সদর বাজারে ঘুরাফেরা করছে। তবে পুলিশের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র থানায় না পৌঁছায় আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়, গত ৩ মার্চ নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ তালুকদার তাঁর লোকজনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী রাণী দাস ও সহকারি
শিক্ষক মনি রাণী তালুকদারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নির্যাতন করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৮ মার্চ উপজেলা শিক্ষা কমিটি জরুরি সভা ডেকে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করা হয়।
গত ৯ মার্চ ওই বিদ্যালয়ের বাতিল হওয়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ তালুকারসহ পাঁচ জনকে আসামি করে প্রধান শিক্ষক দিপালী রাণী দাস বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। গত ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওইদিনই মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি সর্বানন্দ তালুকদারসহ চারজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী দিপালী রানী দাসের স্বামী দুলাল তালুকদার অভিযোগ জানান, সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গত ৭ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিরা নিজ এলাকা ও ধর্মপাশা সদর বাজারসহ থানার সামনে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র থানায় না পৌঁছায় আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।