শাল্লা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার- গণ-শৌচাগারের অভাব ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
শাল্লা উপজেলা সদরে অবস্থিত ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার। আয়তন প্রায় ৫ একরের মত। দোকান সংখ্যা প্রায় ৪০০। দোকান মালিক, কর্মচারী সহ বসবাস করছে প্রায় ১২০০ জনের মত। শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় উপজেলা সদরে হওয়ায় এবং সরকারি বিভিন্ন অফিসের কাজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে। অথচ বাজারে আছে ০১টি গণ-শৌচাগার ও মাত্র ০১টি টিউবওয়েল। নারীদের জন্য আলাদা কোন শৌচাগার নেই। এ অবস্থায় বাজারে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ও বাজারে আসা লোকজনের হঠাৎ শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে গণ-শৌচাগার ০১টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য ও টয়লেটে জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা না পাওয়ার কারণে শৌচাগার তৈরী করতে পারছেন না বলে স্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সরকার পান্না ও অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতাদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০/১২ বছর পূর্বে বাজারের দক্ষিণ দিকে পংকজ সরকারের পরিত্যক্ত জায়গার উপর একটি প্রস্রাবখানা ছিল। ওই জায়গাটিতে মালিক ঘর তুললে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এরপর প্রায় ০৫ বছর পর উত্তর দিকের ইছাক মিয়ার ভিটের পিছনে সার্বজনিন ০১টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বছর খানেক চালু থাকার পর রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। বিগত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বাজারের অদূরে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে টিউবওয়েল বিহীন ০১টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করে দেয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায় বাজারের ৪০০ ঘরের মধ্যে ৪/৫টি ঘর ব্যতীত অন্য ঘরগুলোতে নিজস্ব কোন ল্যাট্রিন নেই। দোকান কর্মচারীদের অন্তত ৪০/৫০ জনের মত কর্মচারীর সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন আমাদের মালিকেরাতো তাদের বাসা থেকে শৌচকর্ম সেরে দোকানে আসেন। সমস্যা হচ্ছে আমাদের। আমরা আমাদের শৌচকর্ম সারতে ঘুম থেকে উঠে নিজস্ব বদনা নিয়ে ল্যাট্রিনের সামনে টিউবওয়েল না থাকায় অদূরের পুকুর থেকে পানি এনে লাইনে দাঁড়াতে হয়। আর ল্যাট্রিনে গিয়ে দুর্গন্ধে টেকা দায়। তাই বাধ্য হয়ে অধিকাংশ সময় খুব সকালে নদীর পাড়ে খোলা জায়গায় পায়খানা করতে হয়। আর সারাদিন প্র¯্রাব তো রাস্তার আশে পাশেই সারতে হয়।
বাজারে আসা পুরুষদের চেয়ে নারীদের বিড়ম্বনা বেশি। পুরুষেরা যেখানে-সেখানে শৌচাগারের প্রয়োজন মেটাতে পারলেও নারীদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। বাজারে আসা কয়েকজন মহিলাকে শৌচাগারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে উনারা লজ্জায় মুখ টিপে বলেন সদরের বাজার অথচ গণ-শৌচাগার নেই। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের জন্যও পৃথক শৌচাগারের একান্ত আবশ্যক। উনারা লজ্জিত মুখে বলেন শৌচাগারের প্রয়োজন হলে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে যেয়ে শৌচাগারের প্রয়োজন মেটাতে হয় ।
বাংলাদেশ উদিচী শিল্পী গোষ্ঠী শাল্লা উপজেলা শাখার সভাপতি ও হাওড় বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও কমিটির শাল্লা শাখার আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন- বাজারের শৌচাগারের এই দুরাবস্থার কথা আমি বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। যখন রাস্তার পাশে কেউ দাঁড়িয়ে বা কেউ বসে প্র¯্রাব করে তা দেখে আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। আর মহিলাদের তো এ অবস্থা দেখে ছাতা দিয়ে মুখ ঢেকে যেতে দেখেছি। এ অবস্থার দ্রুত উত্তরণ না ঘটলে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের ফলে শাল্লা উপজেলা সদরে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে বলে আমি মনে করি।
উপজেলা প্রকৌশলী এস.এম তানভীর বলেন- আমি উপজেলাতে নতুন এসেছি। আপাতত টয়লেটের ব্যাপারে কোন বরাদ্দ নাই। যদি পাবলিক ডিমান্ড থাকে তাহালে পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।