আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ জলমহালে পাওয়ার পাম্প বসিয়ে তলা শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে অসাধু ইজারাদার ও সাব ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। ইজারাদাররা এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর দেখেও না দেখার ভান করছেন।
ইজারাদারদের দাবি পানি কমিয়ে মাছ ধরার জন্য বিল সেচা হচ্ছে। আর কৃষকরা অভিযোগ করছেন পানি না থাকায় ফসলি জমিতে সেচের পানি দেওয়া বন্ধ রয়েছে। অবশ্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, এই ধরনের কাজ হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রায়োজনে ইজারা বন্দোবস্ত বাতিলের ব্যবস্থা করব।
সোমবার বোরো জমিতে সেচের পানি না থাকায় ফেনারবাঁক ইউনিয়নের উজান দৌলতুপর ও ভাটী দৌলতপুরের ৫০ জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামের কাছের লম্বাবিলে পাওয়ার পাম্প বসিয়ে সেচা হচ্ছে অভিযোগ করেছেন। গ্রামবাসী বাধা নিষেধ করলেও ইজারাদার তা শুনছেন না। এতে বোরো জমি হুমকির মাঝে রয়েছে।
উজান দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু সরকার, সঞ্জয় সরকার, প্রনয় পুরকায়স্থ, অনুকুল সরকার, সুমন পুরকায়স্থ, রাজীব পুরকায়স্থ, কপিল চন্দ্র রায়, প্রবীর রায়সহ অন্যান্য কৃষকদের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উজান দৌলতপুর ও ভাটি দৌলতপুর গ্রামের পূর্ব পাশে বালুচড়া ও গুল বিলের পানিই তাদের জমিতে সেচের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই বিলের ইজারাদার ও সাব ইজারাদার নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিলের পানি মেশিন দিয়ে শুকিয়ে ফেলছে। কিন্তু বিলে পানি না থাকলে তাদের জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ২ বছর যাবত খড়া, শিলা বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে গেছে তাদের। বিল সেচা দ্রুত বন্ধ না করলে কয়েক গ্রামের মানুষের ফসলের ক্ষতি সাধন হবে।
বালুচড়া ও গুল বিলের সাব ইজারাদার আরাফাত উল্লাহ ও ধনা মিয়া একাধিক বার তাদের মোবাইল ফোন রিসিভ করেন কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই সংযোগ কেটে দেন। পরে আর কথা তাদের বলা সম্ভব হয়নি।
রাজাবাজ বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সভাপতি কালা পুরকায়স্থ বলেন,‘আমরা হিলিপ থেকে ১০ বছরের জন্য জলমহাল বন্দোবস্ত নিয়েছি। আমাদের সাথে ধনা মিয়া ও আরাফাত উল্লাহও অংশীদার। বিলের মাছ ধরার জন্য একটি মেশিন লাগিয়েছি আমরা।’
হিলিপের এসও ফিস মিজানুর রহমান বলেন,‘আমরা প্রথম থেকেই জলমহালের দায়িত্বরতদেরকে জানিয়ে দিয়েছি পানি শুকানো যাবে না। পানি শুকালো সংশ্লিস্ট জলমহালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, জলমহাল শুকানোর কোন নিয়ম নেই, এরকম হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা জানান, কৃষকরা জমিতে পানি না পেলে ফসলের ক্ষতি হবে,আমি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠিয়ে এই বিষয়টির সমাধানের ব্যবস্থা নিব।


